হাইমচরে বেড়ে চলেছে পান চাষ নেই প্রশিক্ষণ

পান একটি অর্থকারী ফসল হওয়ায় চাঁদপুরের হাইমচরে পান চাষীর সংখ্যা বেড়ে চলছে।নদীঘেষা হাইমচরে স্থানীয় সাংসদ ডা. দীপু মনির নদী তীর রক্ষা বাঁধের পরই কৃষকরা এ ফসল উৎপাদন বাঁড়াতে বেশ আগ্রহী হয়ে উঠছেন।তাই হাইমচরে এই পান চাষকে ঘিরে অপার সম্ভাবণাময় চিন্তা সচেতনদের।অবশ্য স্থানীয় পর্যায়ে হাইমচরের পানের বরজের অর্থনৈতিক গুরুত্ব কোনো অংশে কম নয়।প্রায় ৭০ বছর আগে থেকেই সময়ের সাথে সাথে হাইমচরের পান দেশে বিদেশে রয়েছে ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি করেছে।
১৩ই মে বুধবার সরজমিনে পানচাষীদের সাথে কথা হলে তারা জানান, এখানকার পানে ঔষধি গুণ বিদ্যমান এবং অনেক সুমিষ্ট। কিন্তু রোগবালাই পান উৎপাদনের একটি প্রধান অন্তরায়। পানে গোড়া পচা, ঢলে পড়া, পাতা পচা, অ্যানথ্রাকনোজ, সাদা গুঁড়া ইত্যাদি রোগ দেখা যায়। এ রোগগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে পানের ফলন অনেকাংশে বৃদ্ধি পেতো।
পান চাষীরা আরো জানান,পান একপ্রকার লতাজাতীয় গাছের পাতা। আর্য এবং আরবগণ পানকে তাম্বুল নামে অভিহিত করত।মূলত নিশ্বাসকে সুরভিত করা এবং ঠোঁট ও জিহ্বাকে লাল করার জন্যেই মানুষ পান খায়।তাই পান চাষ কে এগিয়ে নিতে পানের কাটিং,পরিষ্কার-পরিছন্নতা,বিশুদ্ধ পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা এবং পান ধোঁয়ার সুব্যবস্থা ও এগুলোর জন্য প্রশিক্ষণ জরুরি।যা এখন পর্যন্ত হাইমচরে নেওয়া হচ্ছেনা।
হাইমচর উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়,হাইমচরে ২’শ ২০ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়েছে।যেখানে প্রায় ২’শ এর বেশি পান চাষী এই পান চাষ করছেন।
হাইমচরের নয়ানী লক্ষীপুরের ১নং ওয়ার্ডের পান চাষী অলিউল্লা ভূঁইয়া জানান,এখানে স্থানীয় ভাষায় নলডগ(বড় গোট) এবং চাউল তা গোটা(ছোট গোট) পান এবং গাছি পান বা বাংলা পান বেশি উৎপন্ন হয়।৭২ টা পানে এক বিড়া যা ৩০-৭০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হয়।অবশ্য পান টা ঝাল কম হওয়ায় ও কিছুটা মিষ্টি হওয়ায় এর চাহিদা অনেক রয়েছে।
হাইমচর ২নং উত্তর আলগী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের পান চাষী মোস্তফা পাটোয়ারী জানান, ৬/৭ বছর যাবৎ পান চাষ করছেন।প্রতি শতাংশে ১’শ বিড়া পর্যন্ত পান চাষ হয়ে থাকে।আর এসব পান ফরিদগঞ্জের রামপুর বাজার,প্বার্শবর্তি রায়পুর,হাজীগঞ্জ,মহামায়া,আলীগঞ্জ,ঢেলের বাজার  সহ বিভিন্ন স্পটে এমনকি বিদেশেও রফতানি হয়।
তার দাবী,পান চাষীদের কে যাতে সহজ কিস্তিতে ঋণ দেওয়া হয়।সেই সাথে পানের রোগ,কাটা,উত্তোলণ,বীজ বপন সহ সব রকমের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।তাহলে এখান পান চাষ আরো এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
এ ব্যপারে হাইমচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবব্রত সরকার জানান,পান চাষ নিয়ে হাইমচরে এখন পর্যন্ত কোন কার্যক্রম নেই।তবে শীর্ঘ্রই পান চাষের ওপর একটি প্রকল্প আসছে।যার মাধ্যমে পান চাষীকে,সার,বীজ,পানের কাটিং,পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা,পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সহ সব রকমের সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।তারপর হয়তো পান চাষীদের দুঃখ লাঘব সম্ভব এবং পান চাষকে আরো এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
বার্তা প্রেরক :
অমরেশ দত্ত জয় 
চাঁদপুর প্রতিনিধি

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন