ঘুরছে না রিক্সার চাকা। উপার্জন প্রায় বন্ধ। প্রতিদিন জমার টাকা ওঠানোর দুশ্চিন্তা তো আছেই, অথচ শ্রমসাধ্য এই কাজে জুটছে না সামান্য আহার। দেশের বাণিজ্যিক রাজধানীর যে রিকশা চালকেরা মাসখানেক আগেও ছিলেন ফুরফুরে মেজাজে আজ তাদের কপালে দুশ্চিন্তার গাঢ় ভাঁজ।
করোনা উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রায় দুই লাখ রিকশা চালকের জীবনে নেমে এসেছে ভয়াবহ দুর্দিন। নগরীর অধিকাংশ রিকশা গ্যারেজ রাস্তার পাশে তালাবদ্ধ হয়ে আছে। যারা করোনার সংক্রমণের ভয় উপেক্ষা করে পথে নামছেন তারাও আশানুরূপ যাত্রী পাচ্ছেন না। কারণ চলমান বন্ধে প্রায় সবাই ঘরের মধ্যে থাকার চেষ্টা করছেন। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন না।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী নগরীতে নিবন্ধিত রিকশার সংখ্যা প্রায় ৫৪ হাজার। তবে প্রকৃত অর্থে নগরীতে চলাচল করে দুই লাখেরও বেশি রিকশা। ফলে শুধু দুই লাখ চালক নন, এর সঙ্গে যুক্ত দুই লাখ পরিবার। তারাও পড়েছেন মহা সংকটে। জানা গেছে, কর্মহীন এই রিকশা চালকদের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে ত্রাণ সহায়তা পেলেও ৯০ শতাংশ রিকশা চালকের ভাগ্যে জুটছে না কোনো সহায়তা।
নগরীর বায়েজিদ আরেফিন নগর এলাকার রিকশাচালক আবদুল জলিলের সংকট আরো ভয়াবহ। তিনি জানান, রিকশা মালিকেরা বিভিন্ন কারণে আমাদের রিকশা দিচ্ছে না। গ্যারেজে তালা। এই অবস্থায় আর কয়েকদিন থাকলে আমাদের না খেয়ে মারতে হবে। এ মাসে এখনও ঘর ভাড়া দিতে পারিনি। রিকশা নিয়ে যে বের হবো সে উপায়ও নেই।
ত্রাণ হিসেবে ৫ কেজি চাল, আলু, লবণ, তেল এবং ডাল পেয়েছেন জানিয়ে আব্দুল জলিল বলেন, এ দিয়ে এক সপ্তাহও চলতে পারিনি। সামনে কী হবে আল্লাহ জানে!
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর বেশ কিছু বেসরকারি সংগঠন, পুলিশ ও বিভিন্ন সংস্থা নানাভাবে বস্তি এলাকায় তৈরি খাবার এবং চাল-ডালসহ নিত্যপণ্য ত্রাণ সহায়তা দিচ্ছে। তবে ত্রাণের তুলনায় দরিদ্র মানুষের আধিক্য থাকায় সবার ভাগ্যে সহায়তা জুটছে না। চলমান পরিস্থিতিতে কিছু চাল-ডাল সাহায্যের আশায় পথ চেয়ে আছেন প্রায় দুই লাখ রিকশাচালক।












