সিজারিয়ান অপারেশনে জন্ম নেওয়া নবজাতককে মৃত ঘোষণা করলেন চিকিৎসক। কার্টনে ভরে হাসপাতালের বারান্দায় ফেলে রাখা হয় চার ঘণ্টা। পরে কার্টনভর্তি নবজাতককে স্বজনদের হাতে তুলে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এরপর সেই নবজাতককে বাড়িতে নিয়ে যান স্বজনরা। নেওয়া হয় দাফনের প্রস্তুতি। শেষ গোসল দেওয়ার জন্য কার্টন খুলতেই দেখা যায় পা নাড়াচ্ছে নবজাতকটি। তাৎক্ষণিক ভর্তি করা হয় নগরীর একটি প্রাইভেট হাসপাতালের শিশুদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে।
চিকিৎসক, নার্স ও আয়াসহ সংশ্লিষ্টদের অবহেলায় চাঞ্চল্যকর এমন ঘটনা ঘটেছে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (কুমেক)। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নবজাতকের স্বজনরা।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তদন্তপূর্বক সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার চড়ানল গ্রামের জামাল হোসেনের স্ত্রী শিউলী আক্তারের প্রসবব্যথা উঠলে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরের দিন শুক্রবার সকাল ৬টায় সিজারিয়ান অপারেশন করা হয় তার। জন্ম দেন এক পুত্রসন্তান। কিন্তু জন্মের পর নবজাতককে মৃত ঘোষণা করেন হাসপাতালের চিকিৎসক। এরপর এক আয়া স্বজনদের কাছ থেকে একটি কাঁথা নিয়ে নবজাতককে মুড়িয়ে মেঝেতে ফেলে রাখেন। কিছুক্ষণ পর নবজাতককে একটি কার্টনে ভরে হাসপাতালের বারান্দায় আরও চার ঘণ্টা ফেলে রাখা হয়। পরে নবজাতককে দাফনের জন্য স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
বাড়িতে যাওয়ার পর দাফনের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় কার্টন খুলে দেখা যায় পা নাড়াচ্ছে নবজাতক। নবজাতকের বাবা জামাল হোসেন বলেন, চার ঘণ্টা পড়ে থাকার পর নবজাতকটি বাড়িতে এনে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় নড়েচড়ে ওঠে। পরে সিএনজি অটোরিকশা করে কুমিল্লা শহরের প্রাইভেট হাসপাতালে এনে নবজাতককে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নবজাতকের স্বজনরা। তারা জানান, চিকিৎসক নবজাতককে মৃত ঘোষণা না করলে মায়ের কাছেই থাকতো। তারা বাড়িতে নিয়ে আসতেন না।
তার মা কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মুন হাসপাতালের শিশু বিভাগের চিকিৎসক তাপস চৌধুরী বলেন, তাদের এখানে ভর্তি ২৮ সপ্তাহের আগে প্রি-ম্যাচিউর এই নবজাতক অলৌকিকভাবে বেঁচে আছে। তারা সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন সুস্থ করে তোলার জন্য।
এই হাসপাতালে মেডিকেল কর্মকর্তা রাব্বি হোসেন মজুমদার বলেন, শিশুটি এখন শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছে। যদিও সেটা সাধারণ শিশুর থেকে অনেক কম।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মুজিবুর রহমান বলেন, বিষয়টি যেহেতু তার নজরে এসেছে, কারও গাফিলতি পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।












