চট্টগ্রাম বন্দরে বাড়ছে জাহাজ-কন্টেইনার জট

করোনা পরিস্থিতিতে দেশব্যাপী সবকিছু বন্ধ থাকার কারণে দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ ও কন্টেইনার জট তীব্রভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

একদিকে, বন্দর ইয়ার্ডে কন্টেইনার ধারণ ক্ষমতা ছাড়িয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে, অপরদিকে বন্দরের জেটি এবং বহির্নোঙরে ২৫টির ও বেশি জাহাজ পণ্য খালাসের জন্য অপেক্ষমান রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিং ও অপারেটর প্রতিষ্ঠান সাইফ পাওয়ারটেক এর সিইও ক্যাপ্টেন তানভীর হোসাইন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়া, বন্ধ পরিস্থিতির মধ্যে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা হলেও আমদানিকারক কর্তৃক বন্দর থেকে কন্টেইনার খালাসের গতি কম থাকায় বন্দরে কন্টেইনার জটের সৃষ্টি হয়েছে বলে বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, স্বাভাবিক সময়ে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৪ হাজার কন্টেইনার খালাস হয়। শুক্রবার বন্ধের দিনেও এই সংখ্যা ৩ হাজারের নিচে নামে না। কিন্তু গত ২৬ মার্চ বন্ধের পর থেকে বন্দর থেকে কন্টেইনার খালাস আশঙ্কাজনকভাবে কমে গিয়ে তা দৈনিক এক হাজার থেকে ১২শ’-এ নেমে এসেছে। আমদানিকারকদের প্রতিষ্ঠান, শিল্প কারখানা বন্ধ থাকায় আমদানিকারকরা তাদের আমদানিকৃত কন্টেইনার বা পণ্য খালাস করছেন না। এর ফলে বন্দরে এখন রীতিমত কন্টেইনার জটের সৃষ্টি হয়েছে। বন্দর ইয়ার্ডে ৪৯ হাজার একক কন্টেইনার রাখার ধারণক্ষমতা রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে ধারণক্ষমতা ছুঁই ছুঁই করছে পণ্যভর্তি কন্টেইনারে। বন্দরে জমে থাকা কন্টেইনারের সংখ্যা এখন প্রায় ৪৭ হাজার একক।

চট্টগ্রাম বন্দরের পরিবহন বিভাগের পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি পণ্য নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজের আগমন স্বাভাবিক রয়েছে। কিন্তু জাহাজ থেকে পণ্য খালাসের গতি স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কম থাকায় বন্দরের জাহাজ জটের সৃষ্টি হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে বহির্নোঙরে পণ্য খালাসের জন্য অপেক্ষমান জাহাজের সংখ্যা থেকে সর্বোচ্চ ৫ থেকে ৭টি।

বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত বন্দরে বহির্নোঙরে অপেক্ষমান কন্টেইনার জাহাজের সংখ্যা প্রায় ২৫টি। এই জাহাজগুলো থেকে কন্টেইনার খালাসের অপেক্ষায় অলস সময় কাটাচ্ছে সমুদ্রে। তবে বন্দরের বিভিন্ন জেটি, বার্থ এবং আউটারে অর্ধশতাধিক জাহাজ থেকে কার্গো ও কন্টেইনার খালাস অব্যাহত রয়েছে বলে বন্দরের পরিবহন বিভাগ সূত্র জানিয়েছে।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ও বন্দর ব্যবহারকারী ফোরামের সভাপতি মাহবুবুল আলম জানান, দেশে চলমান করোনা পরিস্থিতিতে সবকিছু বন্ধ রয়েছে। বিশেষ করে শিল্প কারখানা ও বড় বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বন্দর থেকে আমদানিকারকরা তাদের কন্টেইনার খালাস করছেন না। আর সরকারের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে শ্রমিক নিয়োগ করে কন্টেইনার খালাস করে পণ্য গোডাউন পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি এখন নেই। তবে চলমান পরিস্থিতিতে ভোগ্যপণ্যের খালাস স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। যাতে দেশে ভোগ্যপণ্য বা নিত্যপণ্যের কোন সঙ্কট তৈরি না হয়।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন