৫৪৪ দিন পর মেহেরপুরের বিদ্যালয় গুলোতে ৭০ ভাগ শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি

দির্ঘ সময় পর শিক্ষার্থীদের পদচারনায় আবারো মুখরিত হলো স্কুল-কলেজের আঙিনা। শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ফেরার অপেক্ষা শেষ হলো। রবিবার ৫৪৪ দিন পর খুলে দেওয়া হলো প্রথম শ্রেণি থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সে অনুযায়ী রবিবার প্রথম দিন মেহেরপুরের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানানো পরম ¯েœহে। দীর্ঘদিন পর শিক্ষাকার্যক্রম শুরুর প্রথমদিনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছিল সাজ সাজ রব। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিয়েছেন ফুল ও চকলেট দিয়ে। এর আগে জেলার ৫৩৮ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল কতৃপক্ষ।

প্রথম দিনে প্রতিটি শিক্ষার্থীর তাপমাত্রা মেপে, মাস্ক নিশ্চিত করে ফুলেল শুভেচ্ছা দিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করানো হয়। প্রথম দিনে জেলার প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, মাদ্রসা, কারিগরি মিলে ৫৩৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ি শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল গড়ে ৭০ শতাংশ। তবে শহরের তুলনায় গ্রাম গুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিছিল তুলনা মূলক কম। বালিকা বিদ্যালয় গুলোতে উপস্থিতি ছিল আরও কম। তবে সপ্তাহ খানেকের মধ্যে ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী উপস্থিত হবে বলে আশা করছে জেলার শিক্ষা কর্তারা। সদর উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আনারুল ইসলাম জানান, সদর উপজেলার শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত সীমান্ত এলাকার স্কুল গুলো আমরা পরিদর্শন করেছি। শিক্ষার্থী উপস্থিতি ছিল আশানুরুপ।

প্রথম দিনে কেমন চলল স্কুল, জানতে চাইলে শোলমারী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহাবুব রহমান জানান, প্রবেশপথে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে মাস্ক পরেছে কিনা তা যাচাই করে স্কুলে প্রবেশ করান। শ্রেণি শিক্ষকরা ক্লাসে এসে প্রথমে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে রোল কল করেন। এরপর যথারীতি পাঠদান শুরু হয়। এর শিক্ষার্থীদের ৯.৩০ মিনিটে ফুল ও চকলেট দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। দীর্ঘ দেড় বছর পর স্কুলে আসতে পেরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল উচ্ছ্বাস। অনেক দিন পর বন্ধুদের সাথে একই বেঞ্চে বসে ক্লাস করতে পেরে অনেকেই আনন্দিত। সদর উপজেলার আর আর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী ফারজানা আক্তার রিয়া বলেন, স্কুল বন্ধ থাকায় লেখাপড়ার তেমন চাপ ছিল না।

ক্লাসের পড়া মুখস্ত করে যেতে হবে এমন কোনও বাড়তি চাপ ছিল না। এখন প্রস্তুতি নিচ্ছি এসএসসি’র। তিনটা বিষয়ের উপর পরীক্ষা হবে। আজ প্রথম দিন স্যারদের সাথে সরাসরি ক্লাস করতে পেরে ভালো লাগছে। একই কথা জানালেন অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাফিজাসহ অনেকে। প্রধান শিক্ষক আশরাফুজ্জামান বলেন, আমরা সরকারি নির্দেশনা মেনে স্কুল খুলেছি। এরআগে গোটা স্কুল ক্যাম্পাস, ক্লাস রুম, বাচ্চাদের কমন রুম, টয়লেট সবকিছুই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। যাতায়াতের রাস্তায় দূরত্ব ঠিক রাখতে মার্কিং করা হয়েছে। ক্লাস রুমে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্কুলে পর্যাপ্ত স্যানিটাইজ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মাহাফুজুল আলম জানান, আমরা বিভিন্ন বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছি। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে আগে থেকেই ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছি। সেই হিসেবে প্রথম দিন অত্যন্ত উৎসব মুখর পরিবেশে বাচ্চারা বিদ্যালয়ে এসে ক্লাস করেছে। তবে আমরা প্রথমেই শিক্ষার্থীদের বেশি চাপাচাপি করতে নিষেদ করেছি। আগে আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি করে শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করে পূর্নভাবে পড়াশুনা শুরু করার জন্য শিক্ষকদের বলা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। করোনা পরিস্থিতির কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর দফায় দফায় ছুটি বাড়ানো হয়। প্রথম দফায় চলতি বছরের ৩১ মার্চ ও পরে ২৩ মে দ্বিতীয় দফায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ চলে আসায় তা সম্ভব হয়নি।

বার্তা প্রেরক
এ সিদ্দিকী শাহীন
মেহেরপুর প্রতিনিধি

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন