মেহেরপুরের বিদ্যালয়গুলো গবাদিপশুর অবাধ বিচরণ

যেখানে স্কুলে ক্লাস শুরুর আগে ও টিফিনে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের খেলাধূলায় মেতে থাকার কথা। সেখানে এখন গবাদিপশুর চারণভুমি‚ তে পরিণত হয়েছে। সরকারি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার জন্য যেতে হলে শিক্ষার্থীর হাতে থাকবে বই।  ক্লাস শুরু হলে ভেসে আসবে “অ এ অজগর ওই আসছে তেড়ে।” কিন্তু তার বিপরিত চিত্রই দেখা মিলছে বিদ্যালয়গুলোতে।

মেহেরপুর জেলায় সরকারি বেসরকারি ও কমিউনিটি মিলে ২৭৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরকারি বেসরকারি মিলে ১২১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় বিদ্যালয় রয়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় মাঠজুড়ে জন্ম নিয়েছে আগাছা। কোন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঠিকাদারদের দখলে। বদ্ধরুমে নষ্ট হচ্ছে আসবাবপত্র। কোন কোন স্কুলের জানালা দরজা চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরেজমিনে জেলার কয়েকটি গ্রামের  বিদ্যালয়ে গিয়ে উল্লেখিত চিত্রদেখা যায়। অধিকাংশ স্কুলে দেখা গেল স্কুল মাঠে গবাদিপশু আনাগোনা।

গ্রামের লোকজন স্কুলমাঠে গবাদিপশু চরাচ্ছে। মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রাথমিক স্কুল পাশ হতে হয়। কিন্তু করোনা কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অক্ষরজ্ঞানহীন মাদকাসক্ত যুবকদের অড্ডায় পরিণত হয়েছে প্রতিষ্ঠান চত্বর।  মেহেরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজে গিয়ে দেখা গেল সেখানেও গবাদি পশুর বিচরণ। সরকারি বালক বিদ্যালয়ে দেখা মেলে ঠিকাদারের নির্মাণ সামগ্রিতে ভরা স্কুল মাঠ। মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ভাটপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা মিললো গ্রামের রবিউল নামের এক রাখাল অবাধে স্কুলের মাঠে পশু চরাচ্ছে।

পর্যাপ্ত তরতাজা ঘাস খেয়ে অনেক পশু স্কুলের বারান্দায় ছায়াতে বসে শুয়ে আছে। জানতে চাইলে রাখাল জানায় মাঠ ঘাটে এখন পানি। তাছাড়া খোলা স্কুলমাঠে পর্যাপ্ত ঘাস থাকায় তিনি পশু চরাচ্ছেন। স্কুলের বাইরে বসবাসকারীরা জানায় রাতের বেলা স্কুলটি মাকাসক্ত যুবকদের অবাধ অবস্থান থাকে।  মেহেরপুর সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আপিল উদ্দীন জানান- স্কুল বন্ধ থাকার সুযোগে অনেক শিক্সা প্রতিষ্ঠান ব্যবহার অনুপযোগি হয়ে পড়ছে। আগাছা জন্মাচ্ছে। গবাদিপশুর বিচরণ আছে। শিক্ষকদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে অব্যবস্থাপনা দুরীকরণে।

বার্তা প্রেরক
এ সিদ্দিকী শাহীন
মেহেরপুর প্রতিনিধি

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন