ফেনীর কালিদহে শিশু তানিশা ইসলাম (১১)কে নির্মমভাবে জবাই করে হত্যার দায় স্বীকার করেছে হত্যাকারী শিশু জেঠাতো ভাই নিশান (১৫)। শনিবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন জেলা পুলিশ সুপার খোন্দকার নুরুন্নবী (বিপিএম,পিপিএম)।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন,ফেনীর কালিদহ ইউপিস্থ শহীদুল ইসলামের বাড়ীতে গত বৃহস্পতিবার রাতে শহীদুল ইসলামের ছোট মেয়ে তানিশা ইসলামের(১১) গলা কাটা লাশ পাওয়া যায় মর্মে ফেনী মডেল থানা পুলিশ সংবাদ পায়। উক্ত সংবাদ প্রাপ্তি সাপেক্ষে আমি নিজে সহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল, ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ও অন্যান্য অফিসারবৃন্দ তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হইয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। তন্মধ্যে পিবিআই ও সিআইডি পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হইয়া ক্রাইমসিন সংরক্ষণ করেন। পরে নিহত তানিশা ইসলাম(১১) এর মৃতদেহ সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের স্বার্থে ফেনী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ঘটনাস্থলে প্রাপ্ত ০১ জোড়া স্যান্ডেল এর বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা যায় যে, ঘটনাস্থলে প্রাপ্ত স্যান্ডেল জোড়া মোঃ আক্তার হোসেন নিশান (১৫) এর পরিহিত স্যান্ডেল। তারই পরিপ্রেক্ষিতে সন্দিগ্ধ হিসাবে আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত তানিশার জেঠাতো ভাই শিশু মোঃ আক্তার হোসেন নিশান(১৫) কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফেনী মডেল থানায় নিয়ে আসা হয়। আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশু মোঃ আক্তার হোসেন নিশান(১৫) কে ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করলে তাহাকে নিয়ে পুনরায় ঘটনাস্থলে গেলে তাহার দেখানো এবং নিজ হাতে বাহির করিয়া দেওয়া মতে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত একটি ধারালো ছুরি পুলিশ উদ্ধারপূর্বক জব্দ করেন।
জিজ্ঞাসাবাদে নিশান জানায় যে, সে তাহার মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থায় তাহার বাবা মারা যান। সে তাহার মায়ের একমাত্র সন্তান। দারিদ্রতা এবং অসহায়ত্বের দরুন বাড়িতে অন্যান্য চাচা-জেঠারা আক্তার হোসেন নিশান ও তাহার মায়ের সহিত কিছুটা অসৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করতো। যাহার ফলে নিশানের মধ্যে একধরণের ক্ষোভ ও ঘৃণার জন্ম নেয়। দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভুত ক্ষোভ ও ঘৃণার বহিঃপ্রকাশই অত্র মামলার ঘটনার সূত্রপাত। পরে উক্ত বিষয়ে নিহত তানিশা ইসলামের ভাই আশরাফুল ইসলাম নিশানসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি/ব্যক্তিগণের বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দায়ের করেন। উক্ত এজাহারের প্রেক্ষিতে ফেনী মডেল থানার মামলায় পেনাল কোড রুজু করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশু মোঃ আক্তার হোসেন নিশানকে আদালতে সোপর্দ করা হইলে সে তাহার দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারা মতে বিজ্ঞ আদালতে জবানবন্দি প্রদান করে।
উল্লেখ্য যে,গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে শিশু তানিশাকে বাসায় একা রেখে মা ও বোন পাশের বাড়িতে যান।সে সুযোগে পরিকল্পিত ভাবে নিশান ঘরে ঢুকে এবং তানিশাকে হত্যার উদ্যেশে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়।একপর্যায়ে তানিশাকে গলাটিপে হত্যার চেষ্টা করে।পরে তানিশা অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাকে টেনে হিঁছড়ে বাড়ীর ছাদের একটি কক্ষে নিয়ে সিলিং এর সাথে শক্ত দড়ি বেঁধে আত্মহত্যা করেছে বলে দড়িতে বাঁধার চেষ্টা করে কিন্তু এতেও ব্যর্থ হয় নিশান।এসময় পাশে পড়ে থাকা একটি আম কাটার ধারালো ছুরি দিয়ে গলায় আঘাত করে হত্যা নিশ্চিত করা হয়। এর ঘন্টা দেড়েক পর ঘরে তানিশাকে না পেয়ে তার মা ছাদের দিকে খুঁজতে গেলে তানিশার গলা কাটা মরদেহ দেখতে পান।
বার্তা প্রেরক
শেখ আশিকুন্নবী সজীব
ফেনী প্রতিনিধি












