শিক্ষার্থীদের প্রবেশ পত্র আটকে রেখে টাকা আদায়ের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কুঠি ভাটপাড় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে। সোমবার দুপুরে সাংবাদিকদের কাছে এমন অভিযোগ করেন ঐ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন কয়েকজন শিক্ষার্থী। অভিযোগে তারা জানায়, ২০২০ সালে তারা জেএসসি পরীক্ষায় অটোপাশ করেছিল। সে সময় তারা বিদ্যালয়ের ফি পরিশোধ করে এ্যসাইন জমা দেয়।
শিক্ষার্থীরা জানায় এ্যাসাইন জমা দেওয়ার পর অটোপাশ ঘোষনা হওয়ার পর আমরা নতুন বছরে গাংনী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হই। এক বিদ্যালয় থেকে অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে কোন ছাড় পত্র লাগেনা বলে তারা জানায়। এখন তাদের উপবৃত্তি খাতে নাম নিবন্ধন করার জন্য আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে প্রবেশ পত্র লাগবে। ঐ প্রবেশ পত্র আটকে রেখে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পায়তারা করছে বলে ঐ শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে।
চলতি বছরে শিক্ষার্থীদের উপ বৃত্তি চালু হওয়ায় তাদের জে এস সির পরীক্ষার প্রবেশ পত্রের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এই প্রবেশ পত্র নিতে গেলে ভাটপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মশিউর রহমান তাদের কাছে ৮শ’৮০ টাকা দাবি করে। এদিকে জানা যায়, অটোপাশ পদ্ধতি চালু হওয়ার পর একজন শিক্ষার্থী অন্য বিদ্যালয়ে যেতে কোন বাঁধা নেই অর্থাৎ তাকে আগের বিদ্যালয়ের কোন ছাড় পত্র নেওয়ার প্রয়োজন হয়না।
অথচ প্রধান শিক্ষক মোঃ মশিউর রহমান তাদের কাছে ছাড় পত্র বাবদ ১শ’৮০ টাকা দাবি করেন। এছাড়াও তিন মাসের বেতন মাসিক ১শ’ করে ৩শ’ টাকা এবং পূনরায় ভর্তি বাবদ ২শ’২০ টাকা দাবি করেন।
জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মোঃ মশিউর রহমান শিক্ষার্থীদের অভিযোগের কথা স্বীকার করে বলেন, আমার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অন্য বিদ্যালয়ে যাবে এ জন্য তাদের ছাড় পত্র নিতে হবে তাছাড়া যেহেতু তারা জেএসসি পাশ করেছে তাই তাদের এখানে নবম শ্রেনীতে ভর্তি হতে হবে এবং তিন মাসের বেতন দেওয়া লাগবে।
প্রধান শিক্ষকের এমন দাবি কতটুকু যুক্তি সঙ্গত জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রধান শিক্ষক জানান, গত বছর যে নিয়ম সরকার চালু করেছে তাতে অটোপাশ করে একজন শিক্ষার্থী যে কোন বিদ্যালয়ে যেতে পারে। তাছাড়া তাকে আবার নতুন করে একই বিদ্যালয়ে ভর্তি ফিস ও বেতন দেওয়া লাগবে না।
এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধান শিক্ষক মোঃ মশিউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন আমার জমি আমার ফসল অন্যজনে নেবে তার খাজনা খারিজের জন্য খরচ লাগবেনা?
গাংনী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মীর হাবিবুল বাশার বলেন, পাশ করার পর একজন শিক্ষার্থী যে কোন বিদ্যালয়ে যেতে পারে এজন্য তাকে নতুন করে কোন ফিস দেওয়া লাগবে না। প্রধান শিক্ষক মোঃ মশিউর রহমান শিক্ষার্থীদের কাছে যদি টাকা দাবি করে তাহলে সেটা বৈধ নয়। কারণ সরকার এ ধরণের কোন নিয়ম করেননি। উল্ল্যেখ্য, গত ২০১৮ সালে অর্থ আত্মসাতের দায়ে প্রধান শিক্ষক মোঃ মশিউর রহমান হাজত বাস করেন।
বার্তা প্রেরক
এ সিদ্দিকী শাহীন
মেহেরপুর প্রতিনিধি












