বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুররে স্মৃতিধন্য নওগাঁর আত্রাইয়ে রবিতীর্থ পতিসরে ‘রবীন্দ্র ক্যান্সার সেন্টার এ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টটিউিট’ স্থাপনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়ছে। জার্মানির কোলন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ডিন প্রফেসর ড. গোলাম আবু জাকারিয়া চেয়ারম্যান আলোর ভুবন কল্যান ট্রাষ্ট পতিসরে এমন প্রতিষ্ঠান স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছেন। এ লক্ষে প্রফেসর ড. গোলাম আবু জাকারিয়া কে চেয়ারম্যান ও রবীন্দ্রস্মৃতি সংগ্রাহক ও গবেষক এম মতিউর রহমান মামুনকে সদস্য সচিব করে সাত সদস্যর নির্বাহী পরিচালনা র্পষদ এবং এলাকার সাংসদ আলহাজ্ব আনোয়ার হোসনে হেলালকে প্রধান উপদেষ্টা করে নয় সদস্যর উপদেষ্টা পরষিদ গঠন করা হয়ছে। আলোর ভুবন কল্যান ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক প্রফসের ড.
অনুপমা আজহারী পতিসরে এ সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। জার্মানির কোলন থেকে মুঠোফোনে ক্যান্সার বিজ্ঞানী অধ্যাপক জাকারয়িা জানিয়েছেন ‘অনেক দিন আগে রবীন্দ্রস্মৃতি সংগ্রাহক ও গবেষক এম মতিউর রহমান এমন একটি আবেদন করেছিলেন, তাঁর আবেদন যৌক্তিকতা বিবেচনা করে ক্যান্সার সেন্টার এ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টটিউিট গ্রহণ করেছি কেননা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর র্বণাঢ্য র্কমময় জীবনরে পতিসরে অল্প আয়ের স্বল্পশিক্ষিত হতদরিদ্র মানুষের চকিৎসার জন্য যা করেছেন তার মূল্যায়ন দুই বাংলার কোথাও হয়নি বললইে চলে, রয়েছে অনকেটা গবষেণার বাইরেও । কবির স্মরণে করা হয়নি কোন হাসপাতাল কিংবা চিকিৎসা কেন্দ্র, অথচ পতিসরে কবিগুরু
করেছিলেন দাতব্য চিকিৎসালয়।
পতিসরে প্রথম কবির নামে ক্যান্সার সেন্টার এ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট স্থাপনে বিশাল জনগোষ্ঠীর ক্যান্সার চকিৎিসার পথ সুগম হবে স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব মতে, ২০৩০ সালে বিশ্বে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা হবে দ্বিগুণ। এর অধিকাংশ ক্যান্সারই হবে তৃতীয় বিশ্বের মানুষের। তাই আমাদের এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে। ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার (আইএআরসি) এর হিসাবে, বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ১ লাখ ৮ হাজার মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। এছাড়াও, প্রতিবছর আরও প্রায় দেড় লাখ মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে।
আক্রান্ত তালিকায় মুখের ক্যান্সার, ফুসফুস, ব্রেস্ট, জরায়ু মুখের মতো ক্যান্সার রয়েছে।
এর মধ্যে পুরুষদের সংখ্যা যেখানে ৮২,৭১৫জন, নারীদের সংখ্যা ৬৭,০৬৬জন। বাংলাদেশে নারীদের মৃত্যুর শীর্ষে রয়েছে স্তন ক্যান্সার। এরপরেই রয়েছে জরায়ু মুখ এবং গলাগন্ডের ক্যান্সার। সারাবিশ্বে যখন ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণে প্রাথমিক প্রতিরোধ, সূচনায় নির্ণয় ও স্ক্রিনিং, উপযুক্ত চিকিৎসা ও প্রশমন সেবা এই চারটি
উপাদানের উপর জোর দেয়া হচ্ছে, সেখানে দেশে ক্যান্সার থেকে সুরক্ষা, প্রাথমিক অবস্থায় নির্ণয় ও স্ক্রিনিং পর্যাপ্ত গুরুত্ব পাচ্ছে না। দেশে ক্যান্সার চিকিৎসার ক্রমান্বয়ে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও সেবার সন্নিবেশ ঘটছে। কিন্তু বড় বড় শহর ও হাসপাতাল কেন্দ্রিক ব্যবস্থা প্রান্তিক
পর্যায়ের মানুষের পর্যাপ্ত ক্যান্সার নির্ণয় ও চিকিৎসা সুবিধা দিতে পারছে না। দেরিতে রোগ নির্ণয় ও উন্নত চিকিৎসার অভাবে দেশে ক্যান্সার আক্রান্ত ৬০ শতাংশ রোগী মাত্র পাঁচ বছরেই মারা যাচ্ছে। আর সূচনাতে রোগ নির্ণয় না হওয়ায় ক্যান্সারে মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে। রোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা চালু, সূচনায় রোগ নির্ণয় এবং ক্যান্সারের বিপদ লক্ষণগুলো গণমানুষকে জানিয়ে দিতে পারলেই বহুলাংশে এর প্রতিকার পাওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে রাজধানীর বাইরেও বিশেষকরে প্রান্তিক অঞ্চলের অপেক্ষাকৃত কম সচেতন মানুষের জন্য ক্যান্সার নির্ণয় কেন্দ্রের ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি। সমগ্র বাংলাদেশের মত নওগাঁসহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে ক্যান্সার রোগীদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। ক্যান্সার একটি সমন্বিত চিকিৎসা। এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল, দীর্ঘমেয়াদি এবং কিছুটা জটিল। শহরে গিয়ে রোগীরা যে কষ্টের মধ্যে পড়ে তা অনেকখানি কমানো যায়, যদি গ্রামীণ পর্যায়ে ক্যান্সারে আক্রান্তদের উপযুক্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
বার্তা পেরক
আব্দুল মজিদ মল্লিক
আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি












