ফেনীর সোনাগাজীতে ইউএনও ও সহকারি কমিশনারের বিরুদ্ধে মৎস্য খামারীদের মানববন্ধন

ফেনীর সোনাগাজীতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অজিত দেব ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) তাছলিমা শিরিনের বিরুদ্ধে খননযন্ত্রে অগ্নিসংযোগ, মৎস্য খামারে ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ এনে তাঁদের বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছে খননযন্ত্রের মালিক ও মৎস্য খামারিরা। সোমবার (১৬ নভেম্বর) উপজেলার সদর ইউনিয়নের মুহুরী প্রকল্প সংলগ্ন পূর্ব সুজাপুরের বেড়িবাঁধ  এলাকায়  এ কর্মসূচী পালিত হয়েছে।

সকাল সাড়ে দশটায় মানববন্ধন কর্মসূচী শুরু হয়ে ঘন্টাব্যাপী চলে। মানববন্ধন ও  সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন, খনন যন্ত্রের মালিক জামশেদ আলম, মৎস্য খামারি আবুল কাশেম, শেখ রাসেল, সালা উদ্দিন, আকবর হুমায়ুন, শাহ জাহান ও মোহাম্মদ মিলন। সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য খামারি ও খননযন্ত্রের মালিকরা অভিযোগ করেন, গত শনিবার বিকেলে আগাম নোটিশ ছাড়া অবৈধ স্থাপনার হিসেবে উল্লেখ করে এবং রাস্তা চলাচলে বাধা সৃষ্টির অভিযোগ এনে উপজেলার চর খোয়াজ, চর লামছি, থাক খোয়াজের লামছি এলাকায় মৎস্য ব্যবসায়ীদের মাছের খামারের ঘর ভাংচুর, মাছের খাদ্য নষ্ট, মালামাল লুটপাট ও খনন যন্ত্রে অগ্নিসংযোগ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারি কমিশনার (ভূমি)।

খনন যন্ত্রের মালিক জামসেদ আলম বলেন, ‘গত বছর কয়েকটি দিঘী ও মাছের খামার সংস্কার কাজ শেষ করে এক কর্মচারীর তত্ত্বাবধানে রাস্তার পাশে তাঁর মালিকীয় একটি খননযন্ত্র রাখা হয়। শনিবার বিকেলে ইউএনও তাঁকে ফোন দিয়ে খনন যন্ত্রটি সরিয়ে নিতে বলেন। সন্ধ্যার পর কর্মচারী মারফত জানতে পারে যন্ত্রটি সরিয়ে নিতে দেরি হওয়ায় ইউএনও তাঁর ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের খননযন্ত্রটি (স্কেভেটর) পুরোপুরি পুড়িয়ে দিয়েছেন। শনিবার রাতে থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে তাঁকে ফিরিয়ে দেয়। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর খননযন্ত্রের পাশে অন্য একজনের আরেকটা খননযন্ত্র থাকলেও সেটির কোনো ক্ষতি করেননি। ইউএনও উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে আর্থিক ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে তাঁর মেশিনটি পুড়িয়ে দিয়েছেন। এ বিষয়ে ইউএনও ও সহকারি কমিশনারের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করবেন বলে জানান’।

মৎস্য চাষী আবুল কাশেম, শেখ রাসেল, সালাউদ্দিন, আকবর হুমায়ুন, শাহ জাহান, মোহাম্মদ মিলন বলেন, ‘সরকারের কাছ থেকে ইজারা নিয়ে ও ব্যক্তি মালিকানার জমিতে বৈধ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা মৎস্য খামার গড়ে তুলে মাছ চাষ করে আসছেন। গত কয়েক মাস ধরে কোনো নোটিশ কিংবা আগাম সতর্ক না করে প্রশাসনের লোকজন তাঁদের মৎস্য খামারের ঘর ভাংচুর ও মালামাল লুট করেছে। গত দু’দিন আগে ইউএনও এবং সহকারি কমিশনার পুলিশ নিয়ে এসে তাঁদের মৎস্য খামারের পাঁচ-ছয়টি ঘর ভাংচুর করে ঘরে রাখা মাছের খাবার নষ্ট করে টাকা ও কয়েকটি মুঠোফোন লুট করে নিয়ে গেছেন। প্রশাসনের কর্মকর্তারা কী কারণে তাঁদের সঙ্গে এমন করেছে তাঁর সঠিক কোন কারণ তাঁদের জানা নেই।

একাধিক মৎস্যচাষীরা বলেন, ‘মাছ চাষের জন্য মৎস্য অধিদপ্তর থেকে সরকার তাঁদের প্রণোদনা দিয়েছে। তাঁদের খামারের যে জমিগুলো সরকারের কাছ থেকে ইজারা নেওয়া সেগুলো যদি প্রয়োজন হয় সরকার নিয়ে যাবে। এতে তাঁদের কোনো সমস্যা নেই। সরকারের পক্ষ থেকে তাঁদের নোটিশ দিলে তাঁরা নিজ থেকে সরে যেতেন। কিন্তু কোনো বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কেন তাঁদের খামারে ভাংচুর, লুটপাট করে ক্ষতি সাধন করবে। তাঁরা বলেন, একই এলাকায় অনেক প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, পুলিশ কর্মকর্তাদের মৎস্য খামার থাকলেও তাঁদের খামারে কোনো অভিযান চালানো হয়নি’। এসব অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী শতাধিক খামারিরা সরকার ও প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।

জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অজিত দেব বলেন, ‘খননযন্ত্র পোড়ানোর সঙ্গে তাঁদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। উপজেলার চর খোয়াজ, চর লামছি, থাক খোয়াজের লামছি এলাকায় মৎস্য ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে চর দখল করে খাস জমিতে মৎস্য চাষ করছে। তাঁরা অবৈধ দখল মুক্ত করতে অভিযান চালিয়েছেন। লুটপাট ও ভাংচুরের অভিযোগ সঠিক না। খননযন্ত্রের মালিক ও মৎস্য খামারিদের কোনো অভিযোগ থাকলে কাগজপত্র নিয়ে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন’।

বার্তা প্রেরক
শেখ আশিকুন্নবী সজীব
ফেনী প্রতিনিধি

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন