রাজশাহী বাগমারা উপজেলার আউচপাড়া ইউনিয়নের হাড়িপাড়া বিলে ব্যক্তি মালিকানা জমিতে লিজের মাধ্যমে স্থানীয় এলাকাবাসি মাছ চাষ করছে বলে জানা গেছে। হাড়িপাড়া বিল বাগমারা উপজেলার আউচপাড়া ইউনিয়নের, হাটগাঙ্গোপাড়া, মজোপাড়া, শিহালী, সারন্দি, কানাইশহর, হাটখুজিপুর এই গ্রাম গুলো মিলে হাড়িপাড়া বিলের অবস্থান। রাজশাহী বাগমারার উপজেলার অধিকাংশ বিলে ও ধানী জমিতে যখন দীর্ঘি খননের মধ্যে দিয়ে মাছ চাষ করা হচ্ছে ঠিক তখনি হাড়িপাড়া বিলের চারিপাশে থাকা উদ্যম পরিশ্রমি লোকজন মাছ চাষের উদ্যোগ গ্রহন করে। মাছচাষ করলে এলাকার উন্নয়ন হবে এমনি আশায় তারা স্থানীয় মৎস্যজীবি থেকে শুরু করে মৎস্য চাষীদের নিয়ে মাছচাষ শুরু করেন। কিন্তু এইতে স্থানীয় কিছু কুচত্রু মহল সহ্য করতে না পেরে বিভিন্নভাবে হাড়িপাড়া বিল চাষীদের বাধা প্রদান করছে বলে জানা যাচ্ছে। এবং বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধামকি দিচ্ছে। বিলে বিষ প্রয়োগ করে মাছ মেরে ফেলতে পারে এমন চিন্তায় মাছচাষীরা আতংকে রয়েছে ।
হাড়িপাড়া বিলের চারিপাশের জমির মালিকেরা বাৎসরিক টাকার পাশাপাশি কিছু শর্তসাপেক্ষে মাছ চাষ শুরু করা অনুমতি দিয়েছে বলে এক জনপ্রতিনিধি জানান । তিনি আরও জানান কিছু স্বার্থলোভী ব্যক্তিবর্গ হাড়িপাড়া বিলের বিরুদ্ধে ভুয়া কিছু তথ্য সাংবাদিকদের দিয়ে হয়রানি মুলক সংবাদ পরিবেশন করাচ্ছেন, যা সত্য নয়। হাড়িপাড়া বিলে বেআইনিভাবে কোন প্রভাবশালীমহল মাছচাষ করেনি। এবং কাউকে কোনভাবে হুমকি ধামকি ও দেওয়া হয়নি। হাড়িপাড়া বিলের চারিপাশের জোরদারদের সম্মতিত্রুমে ঐ বিলে মাছচাষ করছে স্থানীয় এলাকাবাসী। সরেজমিনে এলাকায় গিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর সাথে কথা জানা যায়, মজোপাড়া, অভ্যগতপাড়া, শিহালী, কানাইশহর, সারন্দি, হাটখুজিপুর, হাটগাঙ্গোপাড়া সহ হাড়িপাড়া বিলের চারিপাশের সব ধরনের লোকজনদের নিয়ে মাছচাষ করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে হাড়িপাড়া বিলের সভাপতি মোঃ আব্দুস সাত্তার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, হাড়িপাড়া বিলের চারিপাশের মানুষের উন্নয়নের জন্য আমরা মাছচাষ শুরু করেছি। এলাকার গরীব অসহায় মানুষদের নিয়ে আমরা সবাই সম্মতিত্রুমে মাছচাষ করছি। হাড়িপাড়া বিলে কোন খাস সম্পতি নেই।ব্যক্তি মালিকানা সম্পত্তি লিজের মাধ্যমে আমরা মাছচাষ করছি। তিনি আরও বলেন হাড়িপাড়া বিলের চারিপাশে কোন কার্ডধারি মৎস্যজীবি মাছ চাষে বাদ পড়ে নাই । একটি কুচক্রমহল ভুয়া মৎস্যজীবি কার্ড বানিয়ে বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ করছে যা আসলেই মিথ্যা, ভুয়া, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন । তিনি আরও জানান, একটি স্বার্থলোভী মহল তাদের স্বার্থ হাসিল করার জন্য এই মিথ্যা, ভুয়া কাজগুলো করছে।পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, একটি মহল আমাদের কাছ থেকে শেয়ারবন্টন চেয়ে ছিলো আমরা দিতে ও রাজি ছিলাম, কিন্তু তারা শেয়ার নিবে অথচ কোম্পানির খরচ বহন করবেনা। সুতরাং তারা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে শেয়ার নিবে আমরা তাতে রাজি নয়। হাড়িপাড়া বিলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আনোয়ার হোসেন (স্বপন)এর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমরা হাড়িপাড়া বিলের অনাবাদযোগ্য জমিতে বছরে বছরে (১) এক বিঘা জমিতে (১০,০০০) দশহাজার টাকার লিজের বিনিময়ে বিলচাষ করছি। আমরা কোন অবৈধভাবে বিল চাষ করিনি। কেউ যদি বলে থাকে আমরা অবৈধভাবে হাড়িপাড়া বিলে মাছচাষ করছি, তাহলে সেটা হবে মিথ্যা ও বানোয়াট কথা। সুতরাং একটি কুচক্র ও প্রভাবশালী মহল আমাদের বিলের উন্নয়ন সহ্য করতে না পেরে এলাকার গুটি কয়েক লোক দিয়ে এ খেলাগুলো খেলছে। কারণ তারা হাড়িপাড়া বিলে ধানী জমিতে অবৈধভাবে দীর্ঘি খনন করবেন বলে এ কাজ গুলো করছে । তিনি আরও জানান, গত ২৫ অক্টোবর গুটিকয়েক লোক মিথ্যা গুজাব ছড়িয়ে অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে আমাদের বিলের বানা কেটে দিয়ে প্রায় ৬/৭ লক্ষ্য টাকার মত মাছের ক্ষতি সাধন করেছে।যা অত্যন্ত ন্যাঙ্কারজনক ঘটনা। তাছাড়া হাড়িপাড়া বিল সম্পর্কে বাগমারা উপজেলার আউচপাড়া ইউনিয়নের মৎস্যজীবি সমিতির (রেজিষ্ট্রেশন নং- ৩৬) সভাপতি মোঃ মাহাবুর রহমানের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, আমি আউচপাড়া ইউনিয়নের মৎস্যজীবি সমিতির সভাপতি, আমার সমিতির যতগুলো মৎস্যজীবি কার্ডধারী রয়েছে তারা সকলেই হাড়িপাড়া বিলের মাছচাষের সাথে জড়িত রয়েছে। তাছাড়া বাদবাঁকি যতগুলি মৎস্যজীবি কার্ডধারী কার্ড দিয়ে বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ করছেন সেগুলো হবে আমার জানা মতে ভুয়া কার্ডধারী। তিনি আরও জানান, হাড়িপাড়া বিলের চারিপাশে যতগুলো গভীর নলকূপ (ডিপ) রয়েছে সেগুলো কৃষকের বিনা খরচে সেচের ব্যবস্থা করা হয়েছে । বিলের চারিপাশে যতগুলো মসজিদ রয়েছে সেগুলোতে পরিবেশ দেখে কোনটাই (৩০,০০০) তিরিশ হাজার আবার কোনটাই বছরে দশ হাজার (১০,০০০) করে টাকা ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মজোপাড়া গ্রামের একজন সচেতন নাগরিক মোঃ ইস্ররাফিল কে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, হাড়িপাড়া বিলে মাছচাষ হলে এলাকার উন্নয়ন হবে, সাথে সাথে দেশ ও জাতির উন্নতি হবে। তাই সুষ্ঠু ও সঠিকভাবে বিল চাষ করা একান্ত প্রয়োজন। বিলচাষীদের এমনি কথার সত্যতা পাওয়া গেছে স্থানীয় কিছু এলাকাবাসীর কথা বলে। এ ব্যাপারে বাগমারা উপজেলার মৎস্য কর্মকতা মোঃ রবিউল ইসলামের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
বার্তা প্রেরক
মোঃ সাইফুল ইসলাম
বাগমারা রাজশাহী প্রতিনিধি












