ভারীবর্ষন ছাড়াও একটু বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টিতে পানিবন্দী হয়ে পরে উপজেলার ভজনপুর ইউনিয়নের ভুতিপুকুর গ্রাম। পানি নিস্কাশন না হওয়ায় খেয়ে না খেয়ে দিন যাপন করছে নি¤œ আয়ের মানুষরা। প্রশাসনকে বলেও কোন ফলাফল পয়নি ভুক্তভোগিরা।
জানাযায়, শালবাহান- ভজনপুর জিসি সড়কের ভুতিপুকুর এলাকায় পাকা রাস্তায় জনস্বার্থে ও পানি নিস্কাশনের জন্য এলজিইডি পাকা রাস্তার উপর একটি ব্রীজ নির্মাণ করেছে। দীর্ঘদিন যাবৎ গ্রামের সমস্ত পানি ঐ ব্রীজ দিয়েই নিষ্কাশন হতো। দুই বছর আগে এলাকার একটি স্বার্থম্বেষী মহল ব্রীজের অপর পাশের্^ বাড়িঘর নির্মাণ করে ব্রীজটি দিয়ে পানি নিস্কাশন বন্ধ করে দেয়। ফলে উজানের সমস্ত পানি জমাট বেধে বাড়িঘর, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ও রাস্তা ঘাটে পানিতে তলিয়ে যায়। এতেই পানি বন্দী হয়ে পরে ঐ গ্রামের প্রায় সাড়ে ৩শ পরিবার। একাধারে ১৫ দিন পনিবন্দি হয়ে জীবন যাপন করতে থাকে গ্রামবাসি। গরু-বাছুর, ছাগল, হাস মুরগি নিয়ে অতিকষ্টে দিন যাপন করে ভুতিপুকুর গ্রামবাসি।
ভজনপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ইমদাদুল হক জানান, ২০০৭ সালে নির্মিত আমাদের গ্রামের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া পানি নিস্কাশনের জন্য ড্রেনটি ২০১৭ সালে বন্ধ করে দেয়া হয়। ড্রেনটি এলজিইডি রাস্তায় নির্মিত ব্রীজে সংযুক্ত করে দেয়া আছে। সে ব্রীজ দিয়ে পানি সুন্দরভাবে নিষ্কাশন হত। ব্রীজটির ভাটিতে রুস্তম আলী একটি বাড়ি নির্মাণ করে। বাড়ি নির্মাণে ব্রীজ দিয়ে পানি নিষ্কাশনের জায়গাটি একেবারে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে এলাকার উজানে সাড়ে ৩শত বাড়িঘর সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে বাড়িঘর, স্কুল ও রাস্তাঘাট দিয়ে চলাচল একবারে বন্ধ হয়ে যায়। এ বছর লাগাতার বৃষ্টি হওয়ার কারনে দীর্ঘদিন পানি বন্দি হয়ে থাকতে হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যন ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার শান্তনার বাণী শুনিয়ে চলে যান কাজের কাজ কিছুই করেননি তারা।
একই ভাবে গ্রামবাসি সফিউল ইসলাম, আবু সাঈদ, তাহেরুল ইসলাম, আলহাজ¦ এমাজ উদ্দীন, আবেদ আলী, হায়দার আলী, আলহাজ¦ হকিকুল ইসলাম মাস্টার, শাহার উদ্দীন, রফিকুল ইসলাম, ডাঃ ইবরাহিম খলিল, মশির উদ্দীন, সমসের আলী, লালমদ্দীন, সাইবুল, জাহেরুল, ওবায়দুলসহ ভুক্তভোগীরা জানায়, আমরা একাধীকবার স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করলে সরেজমিনে পরিদর্শণ কারে আমাদেরকে শান্তনার বাণী ছাড়া আর কিছুই দিতে পারেনি । ড্রেন নির্মাণ করে পানি নিষ্কাশনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন এলাকাবাসি।
ভজনপুর ইউপি চেয়ারম্যন মকসেদ আলীর সাথে কথা বললে তিনি জানান, ভুতিপকুর গ্রামের রুস্তম আলী বাড়ির বাউন্ডারী ওয়াল নির্মাণ করে পানি নিষ্কাশনের জায়গাটি বন্ধ করে দেওয়ায় প্রায় সাড়ে ৩শ পরিবার আল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। আমরা ড্রেন নির্শানের চাহিদা দিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবরে পাঠিয়েছি। বরাদ্দ সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহাগ চন্দ্র সাহা জানান, বর্ষা শেষ হলেই পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি ড্রেন নির্মানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
বার্তা প্রেরক
জাবেদুর রহমান জাবেদ
তেতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি












