রামগঞ্জে চাঞ্চল্যকর আনিসুল হক আজাদের হত্যার দ্রুত বিচার চান স্বজন হারা পরিবার। শুক্রবার দুপুরে নিহত আনিসুল হক আজাদের স্ত্রী সেলিনা বেগম তার তিন কন্যাকে সাথে নিয়ে জানান পুলিশ মামলার চার্জশীট ৮মাস আগে দিলেও আদালত অদ্যবদি স্বাক্ষীর জবানবন্দি নেয়নি। মামলার দ্রুত রায় কার্যকর করে ঘাতক মহসিনকে ফাঁসীতে ঝুঁলিয়ে মৃত্যুদন্ড দিতে পারলে নিহত আজাদের আত্মার শান্তি পাবে।
গত ২০১৯ সালের ৮ই জুলাই রোববার বিকেলে আনিসুল হক আজাদকে ভাটরা ইউনিয়নের উত্তর ভাটরা তপাদার বাড়ির সেকান্তর মিয়ার মুদি দোকানের সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে ধারালো দা,বটি দিয়ে কুপিয়ে কুখ্যাতি সন্ত্রাসী মহসিন তাকে হত্যা করেন।
নিহত আজাদ উত্তর ভাটরা জব্বার আলী মুন্সী বাড়ির বাসিন্দা। জীবদ্দশায় তিনি ভাটরা বাজারের মুদি ব্যবসায়ী ছিলেন। ভাটরা উচ্চবিদ্যালয়, ভাটরা প্রাইমারী,বাড়ির সামনে জামে মসজিদ, নূরানী মাদ্রাসা, কওমী মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটিতে ছিলেন। ঘাতক মহসিন একই গ্রামের ডাক্তার সামছুল হকের বাড়ির আনোয়ার হোসেনের ছেলে।
সূত্রে জানান ঘটনার সময় মহসিন ধারালো দা,বটি হাতে নিয়ে আজাদের ভাগিনা রিয়াদ হোসেন টিটুকে হত্যার চেষ্টা করেন। ওই সময় রিয়াদ হোসেন আত্ম রক্ষা পেয়ে তার মামা নিহত আজাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ডাক্তার শামছুল হকের বাড়ির সামনে গিয়ে তাকে জানান। এমন সংবাদে কি কারণে ভাগিনাকে হত্যা চেষ্টা করে জানতে চাহিলে ঘাতক তার ফুঁস ফুঁসে ধারালো দা দিয়ে তাকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করলে আজাদ মাটিতে লুটে পড়ে নিহত হয়।
ওই সময় ঘাতক দা হাতে নিয়ে দ্রুত পালানো চেষ্টা করেন। চিতোষী রোর্ডস্থ মেঘনা ব্রিক ফিল্ডের সামনে একটি চলন্ত মোটর সাইকেলে দ্রুত পালানো চেষ্টা না করায় মোটর আরোহী ইব্রাহিম নামক ব্যক্তিকে এলোপাতাড়ী কুপিয়ে জখম করেন। গ্রামবাসি,পুলিশ প্রশাসন সহ তাকে পিছন থেকে দাওয়া করে শিংবাইশ ধানী মাঠ থেকে গণধোলাই দিয়ে আটক করেন। সৃষ্ট ঘটনায় ওই দিনে রাতে নিহত আজাদের স্ত্রী সেলিনা বেগম থানায় মহসিনকে আসামী করে হত্যা মামলা করেন।
নিহত আজাদের স্ত্রী সেলিনা বেগম, ছোট ভাই ফজলু মিয়া, কনে সুমাইয়া আনিস (১৮), সামিহা আক্তার (৯),শিশু সন্তান সাবিহা আক্তার (৪) কান্নায় বলেন প্রশাসন মামলা দ্রুত সময়ে সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে চার্জশিট দেন। চার্জশীট দেওয়ার ৮ মাস অতিক্রম হলেও আদালত এখনও মামলার স্বাক্ষীর জবানবন্দিত নেননি। দ্রুত সময় মামলার রায় দাবী করেন নিহতের স্বজনেরা।
ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন মিঠু জানান থানা অফিসার ইনচার্জ ওসির সহায়তায় আমরা গ্রামবাসি ঘাতককে দাওয়া করে পুলিশে শোপর্দ করেছি। দ্রুত সময়ে ওসি আনোয়ার হোসেন চার্জশীট দেন। থানা ওসি তদন্ত জানান চার্জশিট দেওয়ার পরেই পুলিশের কাছে এ মামলার কিছুই থাকে না।
বার্তা প্রেরক
মিজানুর রহমান
রামগঞ্জ প্রতিনিধি












