নরসিংদীর রায়পুরার চরাঞ্চলে মেঘনা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে অব্যাহত ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে শত শত ঘর-বাড়ি, হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে তিনটি ইউনিয়নের ১০/১২টি গ্রাম। ভাঙ্গনের ফলে মানবেতর জীবন যাপন করছেন ঘর-বাড়ি হারা অসহায় মানুষ। মেঘনায় যত্রতত্র ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অপরিকল্পিত ভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদী ভাঙ্গনের সৃষ্টিহলেও স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এসব অঞ্চলে গত কয়েক বছরে বিলীন হয়েছে নদী পারের খেটে খাওয়া মানুষের জমি-জমা, ঘর-বাড়ী, সহায় সম্বল।
অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে রায়পুরা উপজেলার মেঘনা নদী ভাঙ্গন ক্রমেই রুপ নিচ্ছে ভয়াবহতায়। ইতোমধ্যেই নদী গর্ভেবিলীন হয়ে গেছে গ্রামের পর গ্রাম। নতুন করে হুমকির মুখে রয়েছে উপজেলার মির্জাচর ইউনিয়নের মির্জাচর বাজার, পাড়াতলী ইউনিয়নের কাচারিকান্দি, মনিপুর মজিদপুরসহ বেশকটি গ্রাম। একই কারণে হুমকির মুখে রয়েছে পার্শবর্তী জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীপুর ইউনিয়নের চরলাপাঙ্গ, বড়িকান্দিসহ বেশ কটি গ্রামের শতশত বাড়িঘর, গাছপালাসহ ফসলী জমি। দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বালু উত্তোলনে অব্যাহত নদী ভাঙ্গনের ফলে বসত-ভিটা ও ফসলি জমি হারিয়ে অনেকটা মানবেতর জীবন যাপন করছেন এসব এলাকার মানুষ।
স্থানীয়রা জানান, চাঁনপুর ইউনিয়নের পূর্ব হোসেননগর মৌজায় চলতি বাংলা সনের জন্য জয়বাংলা ট্রেডার্স নামক প্রতিষ্ঠানকে বালুমহাল ইজারা দেয় জেলা প্রশাসন। অভিযোগ রয়েছে বালু মহালের ইজারাদাররা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে নির্ধারিত স্থান থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে পাড়াতলী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে অবৈধ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে নিয়ম বর্হিভূতভাবে মেঘনার তীরবর্তী এলাকা থেকে বালু উত্তোলনের কারণে দেখা দিয়েছে এসব ভাঙ্গন।
নদী গর্বে বসত-ভিটা ও ফসলী জমি হারানো সালাহ উদ্দিন জানান, দীর্ঘদিন ধরেই প্রশাসনের চোখ ফাকি দিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীদের সাথে নিয়ে অবৈধভাবে নির্ধারিত স্থান ব্যাতিত বিভিন্ন গ্রামের আশে-পাশে এসে বালু উত্তোলন করছে তারা। রায়পুরার সাংসদ রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর এপিএস আসাদুজ্জামান বাবুর এসব ড্রেজারের মালিক বলে জানা যায়। নির্ধারিত স্থান ব্যতিত অন্য স্থানে বালু উত্তোলনে বাধা দিতে গেলে বাবুর সন্ত্রাসী বাহিনী অস্ত্র দেখিয়ে গুলি করে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। এছাড়া প্রভাবশালী কাইয়ূম, সামসু মেম্বারসহ আরো অনেক প্রভাবশালী রয়েছে এসব অবৈধ বালু উত্তোলনের সংগে জড়িত। দুই জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় হওয়ায় ইতোপূর্বে নরসিংদী এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রসাসকের ধারস্থ হওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ ও মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করলেও কোন সামধান পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নরসিংদীর জেলা প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন জানিয়েছেন, সরকারী বিধি মেনে বালু মহাল ইজারা দিয়ে থাকে প্রশাসন। তবে ইজারা প্রদান কিংবা বাতিলের সর্বময় ক্ষমতা রাখে জেলা প্রশাসন। যদি বালু মহালের কারণে নদী ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে প্রয়োজনে বালুমহাল বন্ধ করা হবে। ইতোমধ্যেই পূর্ব হোসেন নগর বালু মহালটির ইজারা বাতিলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এছাড়াও জেলাব্যাপী অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারী সকল মহালের বিষয়ে জেলা প্রশাসন তৎপর রয়েছে।
বার্তা প্রেরক
মোঃ নুরুল ইসলাম
নরসিংদী প্রতিনিধি












