নওগাঁয় এডিপির কাজ সম্পন্ন না করেই বিল উত্তোলনের অভিযোগ

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় ২০১৯-২০ অর্থ বছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপির) কাজ সম্পন্ন না করেই কৌশলে বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম বহিরভূত ভাবে জুন মাসের শেষে এসব কাজের কৌশলে বিল উত্তোলন করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে এলজিইডি অফিসের কর্মকর্তাদের যোগসাজসে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ সম্পন্ন না করেই সম্পন্ন বিল উত্তোলন করা হয়েছে।

আর কর্মকর্তারা বলছেন, করোনা ভাইরাসের কারনে সঠিক সময়ে কাজ করতে পারেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। পারইল ইউনিয়নের কয়েকটি কাজে এ অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর এখনো শেষ হয়নি সে সব কাজগুলো। কিন্তু সরকারি কোন নিয়ম না থাকলেও কৌশলে এলজিইডি অফিসের কর্মকর্তারা ঠিকাদারের কাছ থেকে বিডি জমা নিয়ে বিল দিয়েছেন। স্থানীয়রা দ্রুত এই অনিয়মের তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে,নওগাঁর  রাণীনগর উপজেলায় ২০১৯-২০ অর্থ বছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) আওতায় পারইল ইউনিয়নের বিলকৃষ্ণপুর গ্রামের জায়ের মিস্ত্রীর পার্শ্বে দিয়ে কাঁচা ড্রেন পাকা করন, বিলপালশা গ্রামের ভ্রমর মেম্বারের বাড়ি হইতে খোকা মৃধার বাড়ি পর্যন্ত ইট সোলিং রাস্তা সংস্কার করণ, বিলপালশা গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয় হইতে চান্দুর দোকান পর্যন্ত ইট সোলিং রাস্তা সংস্কার করণ, বিলকৃষ্ণপুর গ্রামের ফজলুর বাড়ি হতে জায়ের মিস্ত্রীর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার দুই ধারে গাইড ওয়াল নির্মাণ কাজ করার জন্য ট্রেন্ডারের মাধ্যমে কয়েক জন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়। এ চারটি কাজের বরাদ্দ দেওয়া হয় প্রায় ৩ লাখ টাকা। নিয়ম অনুসারে জুন মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা। কিন্তু কাজ শেষ না করেই জুন মাসের শেষে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান অফিসের সাথে যোগসাজসে কৌশলে বিল উত্তোলন করেছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় সে সব কাজের ভিন্ন চিত্র। জুন মাসের আগে সমাপ্ত করা হয়নি এসব কাজ। অথচ কাজ সম্পন্ন না করা হলেও জুন মাসের শেষের দিকে এসব কাজের বিল কৌশলে উত্তোলন করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ ঠিকাদাররা নাম ছাম কাজ করে কাজ বন্ধ রেখে চলে গেছেন। এসব বিষয়ে রাণীনগর উপজেলা এলজিইডি অফিসের তথ্য নিতে গেলে সঠিক তথ্য ও কোন কাজের ঠিকাদার কে তথ্য দেয়নি অফিস।

বিলকৃষ্ণপুর গ্রামের মমিনুল, খোরশেদ আলম-সহ কয়েকজনের সাথে কথা বললে তারা জানান, ফজলুর বাড়ি হতে জায়ের মিস্ত্রীর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার দুই ধারে গাইড ওয়াল নির্মাণ কাজ করার কথা থাকলেও করা হয়নি কাজ। ঠিকাদাররা নির্মান সামগ্রী রেখে চলে গেছেন। আর জায়ের মিস্ত্রীর পার্শ্বে দিয়ে কাঁচা ড্রেন প্রায় ৫০-৬০ ফিট পাকা ড্রেন নির্মান করা হয়েছে তাও নিম্নমানের। পুরোপুরি কাজ করা হয়নি। ঠিকাদাররা কাজ বন্ধ করে রেখেছেন।

বিলপালশা গ্রামের রেজাউল, সাগর হোসেন, রফিকুল সহ কয়েকজনের সাথে কথা বললে তারা জানান, বিলপালশা গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয় হইতে চান্দুর দোকান পর্যন্ত ইট সোলিং রাস্তা সংস্কার কাজ সমাপ্ত করা হয়নি অসমাপ্ত হয়ে পরে আছে। রাস্তার কোথাও কোথাও নাম ছাম করা হয়েছে সংস্কার কাজ আবার কোথাও করা হয়নি। ভ্রমর মেম্বারের বাড়ি হইতে খোকা মৃধার বাড়ি পর্যন্ত ইট সোলিং রাস্তা সংস্কার করণ কাজেও একই চিত্র। নাম মাত্র কাজ করে ঠিকাদাররা চলে গেছে। যে পর্যন্ত কাজ করার কথা সে পর্যন্ত কাজ করেনি ঠিকাদার। অফিসের লোকজন তো এসব বিষয়ে দেখেও দেখে না। অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার জন্য দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা ও বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

রাণীনগর উপজেলা এলজিইডি অফিস থেকে এসব কাজের ঠিকাদারদের সঠিক কোন নাম ঠিকানা না দেওয়া ঠিকাদারদের এ বিষয়ে মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে এসব কাজ দেখাশুনার দায়িত্বে থাকা রাণীনগর উপজেলা এলজিইডি অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মখলেছুর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি এড়িয়ে যান এবং উপজেলা প্রকৌশলীর সাথে কথা বলতে বলেন।

এ ব্যাপারে রাণীনগর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) শাইদুর রহমান মিঞা বলেন, করোনা ভাইরাসের কারনে সঠিক সময়ে কাজ গুলো করা সম্ভব হয়নি। সরকারি টাকা ল্যাপ্স হয়ে যাবে বলে ঠিকাদারদের কাছ থেকে বিডি জমা নিয়ে তাদের বিল দেওয়া হয়েছে। কাজ শেষ করলে আবার ঠিকাদারদের বিডি ফেরত দেওয়া হবে। এছাড়া এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করতে অনুরোধ করেন তিনি।

এ ব্যাপারে রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুনের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, কাজ না করে বা কাজের আগেই বিল উত্তোলনের কোন সুযোগ নেই। যদিন এমনটা হয়ে থাকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বার্তা প্রেরক
আব্দুল মজিদ মল্লিক
নওগাঁ প্রতিনিধি

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন