রাজশাহীতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসেছে সিটি বাইপাস  পশুর হাট

বাংলাদেশ সরকার ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বারবার স্বাস্থ্যকর পরিবেশে কোরবানির পশুর হাট বসার কথা বলছে, এরপরেও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেই বসছে রাজশাহীতে কোরবানির পশুহাট। তার পাশেই পচা দুর্গন্ধময় আবর্জনার স্তূপ। সেখানেই বসছে সিটি বাইপাস পশুহাট। এ দেখে আশ্চর্যই হয়েছেন পশু ক্রেতা-বিক্রেতা।
সরকার ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, করোনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে কোরবানির হাট বসাতে হবে। অথচ আবর্জনার স্তূপ ও দুর্গন্ধময় পরিবেশেই চলছে কোরবানির পশুহাট। একেতো সবাই  মাস্ক পরছেন না, তার ওপর স্বাস্থ্যবিধি মানার কোন কথায় নেই। এতে প্রতিনিয়ত করোনায় আক্রান্ত হবার ঝুঁকি বাড়ছে।

এ সম্পর্কে হাট সংলগ্ন এলাকাবাসী মো. সাহাবুল ইসলাম নগর সংবাদ কে বলেন, কোরবানির পশুর হাটের কাদা আর আগে থেকেই স্তুপকৃত পচা আবর্জনার দুর্গন্ধ যেন ছড়াতে না পারে এর জন্য আগেই ব্যবস্থা গ্রহণ উচিত ছিল। এমনিতে রাজশাহীতে প্রতিদিনই করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। এবার যদি কোরবানির ঈদে স্বাস্থ্যবিধি না মানা হয়, তা হলে এটা রাজশাহীর মানুষের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে যাতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কেউই পশুহাট বসাতে না পারে।

রাজশাহী সিটিহাট যে স্থানে বসানো হচ্ছে সেটা ছিল একটা ভাগাড়। প্রতিদিনই ফেলা হচ্ছে নগরীর আবর্জনা। এর সাথে যাচ্ছে করোনা আক্রান্তদের ব্যবহৃত মাস্ক ও অন্যান্য জিনিসপত্র। এর মাধ্যমে বেড়ে যেতে পারে সংক্রমণ। এই দুঃসহ পরিবেশের মধ্যেই চলছে কোরবানির গরু-মহিষের কেনা-বেচা।
এ সম্পর্কে রাসিকের পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মামুন ডলার নগর সংবাদ কে বলেন, আবর্জনার বিষয় নিয়ে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের একটি পরিকল্পনা রয়েছে। করোনার এই দুর্যোগ কেটে গেলেই সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে। সেটা বাস্তবায়ন হলেই এ সমস্যার সমাধান হবে।
এ সম্পর্কে রাজশাহী পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, এ সম্পর্কে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন আবর্জনা থেকে ভাল কিছু করার পরিকল্পনা আছে। এ সম্পর্কে আমার সাথে আলোচনা হয়েছে। সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলেই এ সমস্যার অনেকটাই সমাধান হবে। তবে এখনই কিছু করা সম্ভব নয়।

এ দিকে কয়েক দিন ধরে রাজশাহীতে বৃষ্টি হচ্ছে। তার ওপর আবর্জনার স্তূপ। এ দুয়ে মিলে পশুহাটের পরিবেশকে করে তুলেছে দুর্গন্ধময়। মাস্ক না পরলেও এই দুর্গন্ধের কারণে যে সব ক্রেতা সাধারণ পশুহাটে আসছেন তারা নাকে-মুখে কাপড় অথবা রুমাল বেঁধে হাটে ঢুকতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেক ক্রেতা আবার দুর্গন্ধের মধ্যেই খোলা দোকানে বসে খাবার খাচ্ছেন। গায়ে গা ঘেঁষে ঘুরছেন। করোনা প্রতিরোধে সরকার যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার, মাস্ক পরার, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার, দূরত্ব বজায় রেখে চলার কথা বলে চলেছে, পশুহাটগুলোতে তা মেনে চলার কোন বালাই নেই।

আর এই মুহূর্তে দূষিত পরিবেশে পশুহাট বসানো কতটুকু যুক্তিযুক্ত তা বিবেচ্য বিষয়। অতীতের শিক্ষা থেকেই সরকার ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ঢাকায় অনেক কোরবানির পশুহাট বন্ধ করে দিয়েছে। বাইরে যেসব হাট বসবে তা স্বাস্থ্যসম্মত স্থানে বসাতে হবে এরকমই নির্দেশনা আছে সরকারের পক্ষ থেকে। কিন্তু এদিকে কারই যেন নজর নাই। এ সম্পর্কে হাটের ইজারাদার আতিকুর রহমান কালু বলেন, এ ব্যাপারে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনকে জানানো হয়েছে। তিনি হাটের উন্নয়ন এবং পরিবেশ দুষণমুক্ত রাখার ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। ইতোমধ্যেই তিনি এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন বলে জানান।

বার্তা প্রেরক
মোস্তাফিজ মিশু
রাজশাহী প্রতিনিধি

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন