গাংনীতে ব্রিজের মুখে পুকুর খনন করায় দিশেহারা কৃষকরা

মেহেরপুর গাংনী উপজেলার কুষ্টিয়া-মেহেরপুর সড়কের চোখতোলা নামক স্থানে ব্রিজের মুখে পুকুর খনন ও বাঁধ দেওয়ার কারনে হাজার  হাজার একর জমির ফসল পানির নিচে,দিশেহারা কৃষক।

বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে গাংনী  উপজেলার সাহারবাটি ও ষোলটাকা  ইউনিয়নের জোড়পুকুর,ধর্মচাকী ও চেংগাড়া  গ্রামের কৃষককের প্রায় ৫ হাজার একর জমির পাট পানির নিচে। এঅবস্থায় ফসলহানির শঙ্কায় এলাকার প্রায় দুই হাজার কৃষক পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে ,এক সপ্তাহ টানা বর্ষণে তিন ফসলী জমির পাট তলিয়ে গেছে।

মাঠের এক মাত্র পানি নিষ্কাশনের  যে ব্রিজ সেই ব্রিজের মুখে পুকুর খনন করায় পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় ক্রমান্বয়ে তলিয়ে যেতে থাকে পাট  ধানের ক্ষেত।

আজ  বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে গেলে  স্থানীয় কৃষকরা জানায়, তলিয়ে যাওয়া পাটের  জমিতে পানি জমে থাকায়  পাট ক্ষেত পচে যাওয়ার আশস্কা প্রবল। দুইদিনের মধ্যে পানি নিস্কাশন না হলে হাজার হাজার বিঘা জমির ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ার আসংখ্যা  রয়েছে।

জোড়পুকুর গ্রামের কৃষক নাসির  জানান,এই মাঠে তাঁর ১একর  জমিতে পাট ও ১বিঘা জমিতে আঊশ ধান রয়েছে।টানা বর্ষণে ক্ষেত তলিয়ে গেছে।জোরপুকুর গ্রামের প্রভাব শালী বকুল হোসেন মাঠের পানি নিস্কাশনের মুখে পুকুর খনন কারায় পানি বের হওয়ার কোন ব্যবস্থান নেই।যার কারনে এই মাঠের হাজার হাজার বিঘা ফসলীয়  জমিতে পানি জমে আছে।

এব্যাপারে আমরা গ্রাম বসি গাংনী  উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ধর্মচাকী গ্রামের কৃষক  শহিদুল ইসলাম, ফজলুল হক জানান,তাদের  ৫একর জমিতে পাট ও ২একর জমির ধান তলিয়ে গেছে।

দ্রুত পানি সরে না গেলে পুরোটাই পচে যাবে। তা ছাড়া এসব তিনফসলি জমিতে পানি জমে থাকলে  আমন মৌসুমে ধানের  আবাদ হবেনা।এ অবস্থায় আগামী একটি বছর পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়তে হবে আমাদের।
ধর্মচাকী গ্রামের কৃষকরা  জানান,জোরপুকুর গ্রামের প্রভাবশালী বকুল ও চেংগাড়া গ্রামের আব্দুল গনি,কুষ্টিয়া মেহেরপুর সড়কের চোখতোলা নামক স্থানে মাঠের এক মাত্র পানি নিস্কাশনের মুখে পুকুর খনন কারার ফলে এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এই এলাকায় বিগত ৫০-৬০ বছরেও এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়নি বলে দাবি করেন তারা।

ধর্মচাকী গ্রামের ইউপি সদস্য নিজাম উদ্দিন,ও জোরপুকুর গ্রামে ইউপি সদস্য শাহাবদ্দিন জানান, ব্রিজের মুখে  পুকুর কেটে বা নিচু জমিতে বাঁধ দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে মাছ চাষ করায় এমন জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।পানি নিষ্কাশনের  ব্যবস্থা না থাকায় এখন বৃষ্টি হলেই ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।

তারা আরও বলেন, পাট ছোট থাকা অবস্থায় একবার বৃষ্টি হয়ে পাট ঢুবে গেলে আমরা তৎকালীন গাংনী উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তাকে জানালে তিনি পুকুর মালিকদের ডেকে পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করেছিলেন। এবং একসপ্তাহর মধ্যে পানি নিস্কাশনের জন্য ড্রেন করে দেওয়ার নির্দেশ দেন। সেখানে পুকুর মালিকরা আবারো ব্রিজের মুখ বন্ধ করে দেওয়ায় জরবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।আমরা গ্রাম বাসির পক্ষ থেকে পানি নিস্কাশনের জন্য বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।তিনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

এব্যাপারে সাহারবাটি ইউনিয়নের পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক জানান,ইতিপূর্বে  গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ উজ-জামান থাকা অবস্থায় পুকুর খননের মাধ্যমে  জলবদ্ধতা সৃষ্টি করে সেখানে আমি ও আরিফ উজ-জামান স্যারসহ গ্রাম বাসি পানি নিস্কাশনের জন্য ড্রেজার মেশিন দিয়ে পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করি।সেখানে আবারো কিছু স্বার্থলোভী ব্যাক্তি তাদের নিজের স্বার্থহাসিলের জন্য কৃষকদের সমস্যা সৃষ্টি করছে।পুকুর খননের কারনে  এলাকায় হাজার হাজার কৃষকের বড় ধরনের  সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আর ও বলেন, এখান থেকে বাঁচার পথ এবং কৃষকদের ফসল আদি যাতে ফলাতে পারে। সেজন্য আমি উচ্ছ মহলের  হস্তক্ষেপ কামনা করছি।এবং অর্ত এলাকার মানুষের সমস্য লাঘবের জন্য পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করবেন বলে তিনি জানান।

গাংনী উপজেলা কৃষি অফিসার কে, এম, শাহাবুদ্দিন আহমেদ জানান, দ্রæত পানি নিষ্কাশন না হলে পাট ও আউশ ধান  নষ্ট হওয়ার আশস্কা রয়েছে।এছাড়াও আমন মৌসুমে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হবেন।

এব্যাপারে গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আর এম সেলিম শাহনেওয়াজ জানান, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের সমস্যার সৃষ্টি না হয়।সরেজমিনে তদন্ত  করে দ্রæত পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করা  হবে।

বার্তা প্রেরক
এ সিদ্দিকী শাহীন
মেহেরপুর প্রতিনিধি

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন