গাংনীতে উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সেক্রেটারীর প্রেস ব্রিফিং

গাংনী খাদ্য গুদাম থেকে কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) প্রকল্পের চাল চুয়াডাঙ্গায় জব্দ করার ঘটনা জন সম্মুখে তুলে ধরলেন গাংনী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও মেহেরপুর জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেক প্রেস ব্রিফিং করেছেন। বুধবার সকাল ১১ টার সময় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের নিজস্ব কার্যালয়ে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দদের সাথে নিয়ে তিনি সাংবাদিক ও জনগণের মুখোমুখি হয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

জনতার মখোমুখি লাইভ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, কয়েকদিন ধরে স্থানীয় সাংবাদিক ও জনগণের নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছি। আমি বিচ্ছিন্নভাবে সেসব প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দিতে আপনাদের সামনে এসেছি। সাংবাদিক নানা প্রশ্নের জবাবে এম এ খালেক বলেন,আমি শুনেছি,গাংনীতে ১৩ টি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। গাংনী খাদ্য গুদামের ১২৬৬ বস্তা চাল চুয়াডাঙ্গায় জব্দ হয়েছে এ ব্যাপারে আমার কাছে নিউজের অনেক কাটিং রয়েছে। অনেক ন্যাশনাল পত্রিকাতেও সংবাদ এসেছে। এই চাউল জব্দের ঘটনায় আমরা অত্যান্ত লজ্জিত, আমাদের দল বিব্রত কারণ কাজ শুরু হওয়ার আগেই কাজের খাদ্য বিক্রয় হয়ে যাওটা রহস্যজনক।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে আমাদের সরকার ও গাংনীর রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সফলতা রয়েছে। বিগত ৩ মাস ধরে জননেত্রী শেখ হাসিনা সরাসরি মনিটরিং করছেন কোথাও কোন অনিয়ম দুর্নীতি বরদাস্ত করা যাবে না বলে তিনি কড়া হুসিয়ারি দিয়েছেন।সরকার এবং দল অনিয়ম বন্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করেছে। ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’ নামাঙ্কিত চালের বস্তা গাংনী গুদাম থেকে পাচার করা হয়েছে। এই খবর গাংনীর জন্য দুঃখজনক।এই ঘটনায় মেহেরপুর জেলা তথা গাংনী বাসীর ভাবমূর্তি নষ্ট করা হয়েছে। আমি জানতে পেরেছি, এসব অনিয়ম ও দুর্নীতি তদন্তে একটি টিম কাজ করছে।

এই কমিটির স্বচ্ছতা নিয়ে আমি সন্ধিহান। কারন ডেকোরেটরের চেয়ার টেবিল নিয়ে গাংনী উপজেলা চত্বরে বসে চাল চুরির সাথে জড়িত ব্যক্তিদের ডেকে তদন্ত সাপেক্ষে টিমের সামনে তাদের হাজির করা হয়েছে। আমি মনে করি তাদের প্রথমত গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে সঠিক তদন্ত হবে বলে আমি মনে করি। দোষী ব্যক্তিদের পরিচয় উন্মোচন করা হউক। তদন্তে ধরা পড়লে তাদের কঠিন ও কঠোর শাস্তি দেয়া হবে।। প্রকল্পের চেয়ারম্যানদের সাথে আগেই সাংবাদিকরা প্রশ্ন করে সব জেনেছেন। তারা জানিয়েছেন, শুধুমাত্র স্বাক্ষর করেছে এছাড়া কিছুই জানেন না তারা। তিনি আরও বলেন, কাবিখার টুটাল চাল চুয়াডাঙ্গায় কিভাবে গেল? এ কারনে মেহেরপুর তথা গাংনীবাসীর ভাবমূর্তি নষ্ট করা হয়েছে তিনি দলের একজন দায়িত্বশীল পদে রয়েছেন। তিনি একার সিদ্ধান্তে এরকম কাজ না করলেও পারতেন।এসব কাজ গুলি ধুম্রজালের সৃষ্টি করেছে।

আমাদের নেতাকে নিয়ে অনেক সমস্যা রয়েছে। এমনিতেই তিনি রাজাকারের সন্তান। এটা নিয়ে তিনি সমস্যায় রয়েছেন। শেখ হাসিনা মহামারী করোনা নিয়ে দলের মধ্যে শৃংখলা নিয়ে দিশেহারা। আর আমরা নিজেদের নিয়ে দিশেহারা। আমি ৩০ বছর ধরে রাজনীতির সাথে যুক্ত রয়েছি। অনিয়ম দুর্নীতি করলে আমি তাদের সাথে নেই। তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সরকারীকরণ বা এমপিও করণ নিয়ে অর্থ বাণিজ্য করা হয়েছে বলেও ইঙ্গিত করেছেন। এমপিও করনে মোটা অংকের টাকা নিয়ে বিতর্কিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিও করা হয়েছে টাকা পয়সা নিয়ে বিএনপি জামায়াতের লোকজনকে সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

এছাড়া টাকা পয়সা ছাড়া কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিল্ডিং হয়নি। সরকারী ঘোষনা ছিল, কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিও করতে টাকা পয়সা নেয়া হবে। যোগ্যতা অনুযায়ী এমনিতেই এমপিও করা হবে। সেখানে তিনি দুর্নীতি করে বহু টাকার বাণিজ্য করেছেন।পরিশেষে তিনি সাংবাদিকদের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন,সাংবাদিকদের সম্বন্ধে আমার অভিজ্ঞতা রয়েছে। এতবড় জাতির সংকটময় মূহুর্তে কতিপয় সাংবাদিক নিরব কেন? তবে কি এমপি তাদেরকে ম্যানেজ করেছে। এব্যাপারে অফিস ও কর্মকর্তারা দায় এড়াতে পারেন না। এদের বিরম্নদ্ধে কঠোর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিতে হবে।

এসময় গাংনী উপজেলা আ,লীগের সাধারন সম্পাদক গোলাম মোস্তফা,উপজেলা আ,লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদস্য মজিরুল ইসলাম, সাবেক মেয়র আ.লীগ নেতা আহমেদ আলী, যুবলীগের সভাপতি মোশারফ হোসেন,যুব মহিলালীগের সভাপতি শাহানা ইসলাম শান্তনা, যুবমহিলা লীগের সেক্রেটারী ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফারহানা ইযাসমিন, পৌর আ,লীগের সেক্রেটারী আনারুল ইসলাম বাবু, সাবেক এমপি মকবুল হোসেনের একান্ত সহকারী সাইফুজ্জামান শিপুসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বার্তা প্রেরক
এ সিদ্দিকী শাহীন
মেহেরপুর প্রতিনিধি

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন