গাংনীর ইউএনও’র বিরুদ্ধে মেয়রের ক্ষোভ

গাংনীতে অসহায় কর্মহীনদের মাঝে ও এম এস এর তালিকায় স্বচ্ছল ও ঠিকানা বিহীন নাম প্রকাশ হওয়ার পর থেকে পৌর মেয়র আশরাফুল ইসলাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলারা রহমানের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
পৌর মেয়র আশরাফুল ইসলাম বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দাবি করেন করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে সরকারি নির্দেশ মোতাবেক কর্মহীন মানুষের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন করোনা পরিস্তিতির আগে অনেকে ব্যবসা বা অন্যান্য কর্ম করে দিনাতিপাত করতেন। কিন্তু বর্তমানে তারা কর্মহীন হয়ে পড়ায় সেসব ব্যাক্তিদেরকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এতে অনীয়ম হয়েছে বলে আমি মনে করিনা।
পৌর মেয়র দাবি করেন সরকারের নিয়ম শতভাগ মেনে এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তাছাড়াও যদি তালিকা প্রস্তুতের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা পৌরসভাকে জানাতে পারতেন। তিনি তা না জানিয়ে একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তালিকা প্রস্তুতে অনিয়ম নিয়ে পোষ্ট করা উচিৎ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন।
পৌর মেয়র আশরাফুল ইসলাম গত (২৮ মে) বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় “গধুড়ৎ অংযৎধভঁষ এধহমহর” নামের আইডিতে এই তালিকার বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন এবং বিদায়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলারা রহমানের বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ক্ষোভের সাথে তিনি নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার কথাও ব্যাক্ত করেন। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন সুবিধাভোগি তালিকার মধ্যে যদি একজনের নাম যদি ঠিকানাবিহীন হয় তাহলে মেয়র পদ থেকে সরে দাড়াবেন। এছাড়াও তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিভিন্নভাবে ভৎসর্না করেন ও তার বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলেও লাইভে জানান।
এদিকে এই পরিস্থিতিতে মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ মকবুল হোসেন এর একান্ত সহকারি জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি শাহিদুজ্জামান শিপু করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। করোনা পরিস্থিতিতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গৃহিত পদক্ষেপকে অত্যান্ত সময়োপযোগি বলে মনে করেন এবং তাঁর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির কর্মকান্ডে ভুয়োষি প্রশংসা করে বলেন সারাদেশের মতো আমাদের জেলাতেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় করোনা পরিস্থিতিতে সকল কর্মহীন হয়ে পড়া জনগনের মাঝে ত্রাণ পৌছে দিয়ে নজির সৃষ্টি করেছেন। সাথে তার ও সরকারের নির্দেশনার মাধ্যমে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন হতদরীদ্রদের মাঝে সরকারি সহায়তা পৌছে দিতে সক্ষম হয়েছেন যা সকল মহলে প্রশংসা ছড়িয়ে পড়েছে।
গাংনী পৌরসভার এম এস এর তালিকা নিয়ে পৌর মেয়র আশরাফুল ইসলাম লাইভ এর মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তা সম্পর্কে  শাহিদুজ্জামান শিপু বলেন, পৌরসভার মাধ্যমে যে তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে তার মধ্যে অনিয়ম রয়েছে। জানতে চাইলে তিনি বেশ কয়েকজনরে নাম উল্লেখ করেন যার মধ্যে স্বামী-স্ত্রী দুজনে শিক্ষকতার চাকুরী করেন, হার্ডওয়্যারের ব্যবসা করেন যার পাকা বাড়িও রয়েছে, তিনতলা বাড়ির মালিক যিনি বালুর ব্যবসা করেন, বামন্দী উইনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ভোট করবেন বলেও একজনের নাম তালিকাতে আছে যিনি পৌরসভার ষ্টাফ, গাংনীর পরিচিত মাইক ও ডেকোরেশন ব্যবসায়ী ‘কাশেম মাইক ও ডেকোরেশনের’ মালিক পক্ষের একজনের নাম রয়েছে যার তিনতলা বিশিষ্ট বাড়ি রয়েছে, এছাড়াও পৌর সভার ৭,৮ও৯ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের মহিলা কাউন্সিলরের স্বামী যিনি পৌরসভার ট্রাক ড্রাইভার তার নাম রয়েছে তালিকায় এছাড়াও ৪,৫ও৬ নং ওয়ার্ডের মহিলা কাউন্সিলরের স্বামী নজরুল ইসলাম তিনতলা বাড়ি এবং গাংনী আমিরুল মার্কেটে কাপড়ের ব্যবসা করেন তার নামও এই তালিকাতে রয়েছে বলে জানান শাহিদুজ্জামান শিপু।
তিনি বলেন প্রায় ২হাজার মানুষের তালিকার মধ্যে ১শ’৯জনের অনিয়মের মধ্যে যতটুকু মনে করতে পেরেছি ততটুকু বলেছি।
এদিকে পৌর মেয়র আশরাফুল ইসলামের সাথে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, তালিকাতে কোন প্রকার অনিয়ম করা হয়নি। শতভাগ সরকারি নির্দেশ মেনে তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। কিন্তু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কীভাবে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তা ফেসবুকে পোস্ট করলেন।

কয়েকজন ব্যবসায়ীদের নাম ঐ তালিকাতে থাকায় জানতে চাওয়া হলে মেয়র আশরাফুল ইসলাম বলেন,কোটিপতি ব্যবসায়ী যদি কর্মহীন হয়ে পড়েন তবুও তার নাম এই তালিকায় যাবে এবং এটা সরকারি নিয়মের মধ্যে আছে। তিনি বলেন, আমি ঠিকানাবিহীন কোন মানুষের নামের তালিকা দেয়নি। মহিলা কাউন্সিলর মলিদা খাতুনের স্বামী কাপড় ব্যবসায়ী নজরুল ইসলামের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন ওর বাড়িতে কাজের লোক ছিল তাকে এই সুবিধার আওতায় আনার জন্য নামটি দেওয়া হয় কারণ কাজের মেয়ের কোন মোবাইল নং নাই নজরুলের বাড়িতে থাকে সেজন্য নজরুলের নামে তালিকাটি করা হয়েছে যাতে ঐ কাজের মেয়েটি এ সুবিধা পায়। পৌর মেয়র আশরাফুল ইসলাম বলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেসবুকে পোস্ট করে আমার মানহানি করেছেন বলে দাবি করেন সাথে সাথে তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলাও করবেন বলে জানান।নীতিমালা অনুযায়ী উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা আয়েশা খাতুন নথী উপস্থাপন করেছিলেন তা সঠিক আছে কিনা তদন্ত করতে উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা ইয়ানুর রহমানকে দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তদন্ত শেষে তিনি আমার কাছে রিপোর্ট পেশ করেছিলেন সেই রিপোর্ট আমি গত ২৭ তারিখে ডিসি স্যারের কাছে পেশ করি।

মেয়র আশরাফুল ইসলামের মামলাল হুমকির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, কোন দৃষ্টি কোণ থেকে এমন কথা বলছেন সেটা আমার বোধগম্য নয়। তালিকা নিতিমালা অনুযায়ী তদন্তর দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ভূমি কর্মকর্তাকে তিনি তদন্ত রিপোর্ট দেওয়ার পর সেটা আমি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে।

বার্তা প্রেরক                                                                                                                        এ সিদ্দিকী শাহীন                                                                                                                    মেহেরপুর প্রতিনিধি

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন