ডোমারে খাদ্য বান্ধব কর্মসুচির কার্ডের চাল নিয়ে ডিলার ও ইউপি সদস্যের চালবাজি

নীলফামারীর ডোমারে খাদ্য বান্ধব কর্মসুচির আওতায় হত দরিদ্রের মাঝে ১০টাকা কেজি মুল্যে ৩০ কেজি চাল বিক্রয়ের ডিলার ও ইউপি সদস্যর বিরুদ্ধে আত্মসাৎ অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে, সংশ্লিষ্ঠ ডিলার ও ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে।

সরেজমিনে গিয়ে জান গেছে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে গত ৩১ অক্টোবর ২০১৬ইং খাদ্য মন্ত্রনালয় ও খাদ্য অধিদপ্তরের খাদ্যবান্ধব কর্মসুচির আওতায় কার্ডের মাধ্যমে ১০টাকা কেজি মুল্যে ৩০ কেজি চাল বিক্রয় কার্যক্রম চালু হয়।

এই কর্মসুচির আওতায় কেতকীবাড়ী ইউনিয়নে হত দরিদ্রদের জন্য ৫শত কার্ড বরাদ্দ দেয়া হয়। ওই ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের নয়া হাটপাড়া গ্রামে ইউপি সদস্য জিয়াউর রহমান বাবুজি ও ডিলার ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক রবিউল ইসলাম স্বাধীন এর যোগসাযোশে বরাদ্দকৃত কার্ডের বিপরিতে তিন জন হত দরিদ্রের ১৬ দফা চাল তুলে তারা আত্মসাৎ করেন। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সরকার বিশেষ বরাদ্দ দিলে চেয়ারম্যান ওই কার্ডগুলি পুনরায় জমা নিয়ে পরিক্ষা করে নিজ দায়িত্বে বিতরন করলে কার্ড আত্মসাৎ বিষয়টি ভুক্তভোগীদের মাধ্যমে প্রকাশ পায়।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ২১৬ নং কার্ডধারী জাহেদার স্বামী খয়বর জানান, আমার স্ত্রীর নামে হত দরিদ্রের কার্ড হয়েছে তা আমি ও আমার স্ত্রী জানিনা। আমি গত ১৯ মে ২০২০ ইং তারিখে এক বার চাল উত্তোলন করি। ডিলার ও মেম্বার মিলে আমাদের চাল আত্মসাৎ করেছে। অপর ভুক্তভোগী ২০৮ নং কার্ডধারী আব্দুর রশিদের পিতা বুলু জানান, মোর বেটার নামে যে কার্ড হইছে তা মুই স্বপ্ন যানোনা। মোর বেটার ছবি দেখা পাবার পর মুই মেম্বার সাহেবক কনু মোর বেটার নামে যে কার্ড হইছে সেই কার্ড কোনঠে, এর পর স্বাধীন আসি মোর বাড়ীত কার্ড দিয়া যায়। এ বিষয়ে আরেক ভুক্তভোগী ১৬৭ নং কার্ডধারী সিদ্দিকার শশুর জসিয়ার জানান, আমার ছেলের বৌয়ের নামে যে কার্ড হয়েছে সেটা আমরা জানিনা, যখন বিভিন্ন জায়গায় ধরাধরি শুরু হয়েছে তখন মেম্বার আমার বাসায় এসে কার্ডটি দিয়ে যায়। আমি এযাবত একখল চাউল পেয়েছি।

কেতকীবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান জহরুল হক প্রামানিক দিপু বলেন , কার্ডের অনিয়মের বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম, এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করবো। কেতকী বাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও খাদ্যবান্ধব কর্মসুচির ডিলার, রবিউল ইসলাম স্বাধীন আত্মসাৎ বিষয়টি স্বিকার করেন।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মাহমুদ হাসান এর সাথে মুঠোফোনে যোগায়োগ করলে তাকে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনা শবনম বলেন বিষয়টি আমি জানিনা,আপনাদের মাধ্যমে অবগত হলাম, তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

বার্তা প্রেরক
মোসাদ্দেকুর রহমান সাজু                                                                                                           ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধী

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন