মানবতার সেবায় ১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়ন

শনিবার (১৬ মে) পঞ্চগড় ব্যাটালিয়ন (১৮ বিজিবি) এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বর্তমানে দেশব্যাপী করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) এর প্রাদুর্ভাবে কারণে অত্র ব্যাটালিয়নের অধিনস্থ তেঁতুলিয়া, রণচন্ডি এবং গোয়ালগছ বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলাধীন কাজী শাহাবুদ্দিনন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ এবং তিরনইহাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে স্থানীয় সীমান্তবর্তী এলাকার কর্মহীন গরীব, এতিম, অসহায়, দুস্থ পরিবার ও অপ্রকৃতিস্থদের (পাগল) মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।

উক্ত ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে সামাজিক দুরত্ব রজায় রেখে পঞ্চগড় ব্যাটালিয়ন (১৮ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল খন্দকার আনিসুর রহমান, পিএসসি, জি+ কর্তৃক স্থানীয় ৪২৫ টি দুস্থ পরিবার এবং ২৫ জন অপ্রকৃতিস্থ (পাগল) লোককে ৭৫টিসহ সর্বমোট ৫০০ জনের মাঝে ত্রাণ হিসেবে প্রত্যেক পরিবারকে ৪ কেজি চাল, ৪ কেজি আটা, ২ কেজি ডাল ও ৫০০ গ্রাম লবন প্রদান করেন। এ সময় পঞ্চগড় জেলার ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ত্রান বিতরণ কার্যক্রম শেষে পঞ্চগড় ব্যাটালিয়ন (১৮ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল খন্দকার আনিসুর রহমান, পিএসসি, জি+ বলেন, পঞ্চগড় ব্যাটালিয়ন (১৮ বিজিবি) কর্তৃক পঞ্চগড় জেলার সীমান্তবর্তী জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তাকল্পে সবর্দা সীমান্তে নিয়োজিত থেকে সীমান্তে বসবাসরত জনগণের নিরাপত্তা প্রদান, সীমান্ত সুরক্ষা, সীমান্ত হত্যা রোধ, নারী ও শিশু পাচার রোধ এবং মাদক চোরাচালানসহ সকল ধরণের চোরাচালান প্রতিরোধ করে আসছে। সরকার কর্তৃক বিজিবি’র উপর অর্পিত দায়িত্ব ন্যায় ও নিষ্ঠার সাথে পালনের পাশাপাশি সীমান্তবর্তী জনসাধারণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিজিবি তথা পঞ্চগড় ব্যাটালিয়ন (১৮ বিজিবি) সর্বদা কার্যকরী ভূমিকা রাখার চেষ্ঠা করে আসছে।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ যে কোন দূর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি ও মহামারীতে সর্বদা প্রথম সারিতে অবস্থান করে সীমান্তবর্তী তথা দেশের সকল স্তরের বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলাসমূহের দুস্থ, অসহায় ও হতদরিদ্র জনসাধারণের পাশে থেকে সহায়তা প্রদান করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে দেশব্যাপী চলমান করোনা পরিস্থিতির কারণে পঞ্চগড় জেলার খেটে খাওয়া দুস্থ, অসহায় ও হতদরিদ্র জনসাধারণের পাশে থেকে বিজিবি’র আজকের এই ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম এবং ভবিষ্যতেও পঞ্চগড় জেলার দুস্থ ও অসহায় জনসাধারণের পাশে থাকবে মর্মে অধিনায়ক, পঞ্চগড় ব্যাটালিয়ন (১৮ বিজিবি) আশাবাদ ব্যক্ত করে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। ত্রান বিতরণ শেষে এক পর্যায়ে উপস্থিত সাংবাদিকগণ কর্তৃক তেঁতুলিয়া ও বাংলাবান্ধা এলাকায় ভারতীয় পাগল বাংলাদেশে প্রবেশের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অধিনায়ক, পঞ্চগড় ব্যাটালিয়ন (১৮ বিজিবি) বলেন, পঞ্চগড় ব্যাটালিয়ন (১৮ বিজিবি) সীমান্তে ২৪ ঘন্টা নিয়োজিত থেকে সীমান্তবর্তী জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আসছে। এমতাবস্থায় শুধুমাত্র অপ্রকৃতিস্থ লোকই নয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারত হতে কোন লোক পঞ্চগড়ে প্রবেশ করেনি।

উল্লেখ্য, আমি কয়েকদিন আগে কোন এক টিভি চ্যানেলে একটি প্রতিবেদন দেখেছি। প্রতিবেদনটির জন্য সামগ্রিক ভাবে আমি উক্ত চ্যানেলকে ধন্যবাদ জানাই। তারই প্রেক্ষিতে আমি গ্রাউন্ড লেভেলে সার্ভে করে উক্ত অপ্রকৃতিস্থ লোকগুলোকে খুঁজে বের করার নিদের্শ প্রদান করি। উক্ত নিদের্শনা মোতাবেক ক্যাম্প কমান্ডারগণ কর্তৃক তাদের খুজে বের করে তাদের ভিডিও ধারণ করা হয় এবং দেখেছি তারা সবাই গত কয়েক বছর যাবৎ তেঁতুলিয়া ও বাংলাবান্ধা এলাকায় অবস্থান করছে। এছাড়াও আমি খোঁজ নিয়ে জেনেছি যে, উক্ত অপ্রকৃতিস্থ লোকগুলোকে তেঁতুলিয়া এলাকার জনৈক মোঃ সাব্বির হোসেন রকি, “টিম-১৯ যোদ্ধা” নামক স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনের সংগঠক, তেঁতুলিয়া কর্তৃক বিগত ২ (দুই) বছর যাবত তাদের দেখাশুনা ও খাবারের ব্যবস্থা করছে এবং তিনি নিশ্চিত করছেন এই অপ্রকৃতিস্থ লোকগুলো বাংলাদেশী।

এছাড়াও আমি গত নভেম্বর ২০১৯ সালে শীত মৌসুমে উক্ত এলাকার রাস্তা-ঘাটে থাকা অপ্রকৃতিস্থ কিছু লোকদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছি। উক্ত লোকগুলোর সাথে টিভি চ্যানেলে প্রচারিত লোকগুলোর ছবি মিল রয়েছে। এ তথ্য উপাত্ত থেকে এটাই উপনীত হয় যে, ভারত থেকে কোন পাগল বাংলাদেশে প্রবেশ করেনি। মূলতঃ বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির কারণে এলাকায় সাধারণ জনগণের আনাগোনা কম থাকায় শুধুমাত্র অপ্রকৃতিস্থ লোকদের রাস্তায় দেখা যায়। আসলে তারা বাংলাদেশী অপ্রকৃতিস্থ লোক ভারত হতে আসার কোন সুযোগ নেই।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন