সোনালী ফসল ঘরে তোলায় খুশি কৃষকরা

উলিপুরে ঘরে ঘরে এখন চলছে সোনালী ফসল ঘরে তোলার কাজ। করোনার কারণে শ্রমিক সংকট আর আগাম বন্যার শঙ্কা কাটিয়ে প্রায় ৯০ ভাগ ধান কাটাই শেষ। হাওরাঞ্চলে বছরের একমাত্র ফসল বোরো ধান ঘরে তুলতে পেরে খুশি তারা। চলছে বোরো ধান কাটার হিড়িক। করোনা ভাইরাসের মাঝেও যেন কৃষকদের বাড়ীতে মহা উৎসব। কিন্তু এ সময়ে বেকার হয়ে পরেছেন ধান কাটার দিনমজুররা। করোনা ভাইরাসের কারণে বেকার হওয়া অন্যান্য পেশার মানুষেরা যোগ দিয়েছেন এ পেশায়। ফলে মৌসুমি শ্রমিকরা প্রয়োজন মতো কাজ পাচ্ছেন না।

উলিপুর উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের বেকার হওয়া দিনমজুর মোঃ আবুল হোসেনের (৩৭) কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমরা অন্যান্য বোরো মৌসুমে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৃষকদের ধান কেটে ছিলাম। কিন্তু এ বছর কাজ পাচ্ছি না। দলদলিয়া ইউনিয়নের আরেক কৃষক নুর-ইসলাম বলেন, অন্যান্য পেশার মানুষ এ পেশায় যোগ দেওয়া কাজ কিছুটা কমেছে। সেই সাথে মজুড়ি ও অনেক কম। আমরা গত মৌসুমে যেখানে প্রত্যেক দিন ৫০০-৬০০ টাকার কাজ করতাম , সেখানে এবছর ৩০০-৩৫০ টাকার কাজ করতে পারছি। হাতিয়া ইউনিয়নের ইজি বাইক চালক দেলোয়ার হোসেন বলেন ,লকডাউনে ইজি বাইক বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে এ পেশায় নেমেছি। টেম্পু চালক মতিয়ার বলেন, আমি সাধারণত টেম্পু চালাই। এখন টেম্পু বন্ধ থাকায় জীবিকার তাগিদে কৃষকদের ধান কাটছি।

উপজেলা কৃষি অফিসে এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তারা বলেন, অন্যান্য বছর শ্রমিকরা এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে কাজ করার জন্য বাধাবিহীন ভাবে যেতে পারলেও এবছর সরকারের নিয়ম-নীতি মেনে যেতে হচ্ছে। তাছাড়া অন্যান্য পেশার মানুষ আসছেন এ পেশায়। বিভিন্ন স্থানে ধান কাটার জন্য হারভেস্টার মেশিন দেওয়া হয়েছে। সবমিলিয়ে কিছু শ্রমিক হয়তো বেকার হয়েছে। মজুরিও অনেক কম। জানা যায়, এ বছর স্বল্প মূল্যে সহজেই ধান কাটার শ্রমিক পাওয়ায় আবাদি কৃষকরা অনেক খুশি হয়েছেন।

বার্তা প্রেরক
মোঃ সাহেব আলী
উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন