সারাদেশে সকল ধরণের যানবাহন চলাচল বা যোগাযোগ বন্ধ। শুধুমাত্র অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরী সেবা প্রদানকারী যানবাহনগুলো চলাচল করছে। এমন অবস্থায় প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে জরুরী রোগী পরিবহনে ব্যবহৃত এ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরী প্রয়োজনে চলাচলকারী যানবহনগুলো। কারণ অভিযোগ উঠেছে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে রোগীর পরিবর্তে যাত্রী পরিবহনের। জানা গেছে মূলত চেকপোষ্ট এড়াতেই জরুরী রোগী পরিবহনে ব্যবহৃত অ্যাম্বুলেন্সকে ব্যবহার করছেন অনেকেই। এর ফলে নোভেল করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯ ভাইরাসের সংক্রামনের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
জরুরী রোগী পরিবহনে ব্যবহৃত অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে ঢাকা বা নারায়নগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সুকৌশলে রাজশাহীতে মানুষ প্রবেশ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যোগাযোগের নিরাপদ যানবহন হিসেবে অ্যাম্বুলেন্সকেই বেঁছে নিচ্ছেন যাত্রীরা। আর এর পেছনেও রয়েছে বিশেষ কারণ। সেটি হলো পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চেকপোষ্টকে ফাঁকি দেওয়া বা এড়িয়ে যাওয়া যায়। সাধারণত জরুরী রোগী পরিবহনের কাজে অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহৃত হয় বলে পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অ্যাম্বুলেন্সকে চেক করার ক্ষেত্রে তেমন গুরুত্ব দেয় না। আর এই সুযোগটিই কাজে লাগাচ্ছেন একশ্রেনীর অসাধু যাত্রী ও চালকরা। মোটা অংকের টাকার লোভে অ্যাম্বুলেন্সে রোগীর পরিবর্তে যাত্রী পরিবহন করছেন অ্যাম্বুলেন্সের অসাধু চালকরা।
রাজশাহী জেলার বিভিন্ন উপজেলায় নোভেল করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হলেও এখনও পর্যন্ত রাজশাহী মহানগরীতে কোনও কোভিড-১৯ ভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়নি। কিন্তু এভাবে রাজশাহীর বাইরে থেকে সুকৌশলে মানুষ রাজশাহীতে আসায় নোভেল করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯ ভাইরাসের ঝুঁকিতে রয়েছে রাজশাহী মহানগরী। জানা গেছে, গত ৩০ এপ্রিল রাজধানী ঢাকা থেকে রাজশাহীতে পালিয়ে আশে ৩৫ বছর বয়সী একজন কোভিড-১৯ পজেটিভ রোগী। তিনি ঢাকার ফার্মগেট এলাকায় একটি ঔষধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন। তার গ্রামের বাড়ি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ধরমপুর গ্রামে। তিনি কৌশলে অ্যাম্বুলেন্সে চড়ে ঢাকা থেকে রাজশাহীতে এসেছিলেন। তিনি বর্তমানে খ্রীষ্টিয়ান মিশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলেও জানা গেছে।
এর বেশকিছু দিন আগে নগরীর পশ্চিম বুধপাড়া এলাকায় একজনের বাড়িতে তার বেড়াতে আসেন মেয়েজামায়। তারাও অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে ঢাকা থেকে রাজশাহীতে আসেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের আসার তথ্য পেছে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছালেও তাদেরকে পাই নি বলেও জানা গেছে। তবে স্থানীয়দের দাবি এলাকায় বহিরাগতরা ঢাকা থেকে এসেছে এ বিষয়টা সত্য। আত্মীয়রা বহিরাগতদের অন্য কোথাও লুকিয়ে দিয়েছেন বলেও মনে করেন স্থানীয়রা। এদিকে, গত এপ্রিল ২৯ বিকেলে মাইক্রোবাস যোগে ফ্লাইওভারের কাজের জন্য ১৩ জন রাজশাহীতে আসে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তাদের সঙ্গে ধান কাটার কাচি ছিলো বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। এ বিষয়ে ফ্লাইওভারের দায়িত্বে থাকা ডিএনকো’র ওয়ার্কার ম্যানেজার আহাদ আলী জানিয়েছেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। লোকজনকে ঢাকা অফিস রাজশাহীতে পাঠিয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ ফ্লাইওভারের কাজ করানোর জন্য ঢাকা অফিসের অনুমতি করিয়ে তিনি-ই ঢাকা থেকে শ্রমিক আনছিলেন।
এ প্রসঙ্গে মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুদ পরভেজ বলেন, বিষয়টি শুনেছি। ফ্লাইওভারের ম্যানেজার আমাকে ফোনে বলেছে, যারা কাজের জন্য রাজশাহীতে এসেছিল তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে নারী উন্নয়নকর্মী আতিয়া বলেন, রাজশাহীতে করোনা পরিস্থিতি অন্যান্য জেলার তুলনায় ভালো। সেক্ষেত্রে ঢাকা বা নারায়নগঞ্জে কিংবা সাভারে যারা আছে তারা রাজশাহীতে একটা নিরাপদ আশ্রয় নিতে চাচ্ছে। ফলে যেভাবেই হোক তারা প্রবেশ করছে। পণ্যবাহী ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্স, ওষুধের গাড়ী বা অন্য আরও পন্থা অবলম্বন করছে। এতে আমরা রাজশাহীবাসি যতটা নিরাপদ ভাবছিলাম করোনা প্রকোপ থেকে সেটা দিন দিন হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। রাজশাহীর নিরাপত্তার স্বার্থে এ বিষয়ে সুষ্ঠু পদক্ষেপ নিতে যথাযথ কতৃপক্ষ ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণও করেন এই নারী উন্নয়নকর্মী। এ বিষয়ে জানতে আল্ট্রাপ্যাথ ডায়াগনিস্টিক সেন্টারের মেডিকেল অফিসার ডা. সিফাত-ই-রাব্বী বলেন, ‘এটা একধরনের প্রতারণা। বিশেষ করে সরকার যে সকল সেবামূলক কার্যক্রম এই লকডাউনের মধ্যে সচল রাখতে বলেছে তার মধ্যে অ্যাম্বুলেন্স একটি জরুরী পরিসেবা। সেটার সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু চালক অসৎ উপায়ে অ্যাম্বুলেন্স যোগে রোগীর বদলে যাত্রীদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পরিবহণ করছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের একমাত্র উপায় হলো এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চল বিচ্ছিন্ন করা। তাহলেই কেবলমাত্র এই রোগের ব্যাপক বিস্তার রোধ করা সম্ভব বলে উল্লেখ করে এই চিকিৎসক আরো বলেন, একজন আক্রান্ত ব্যক্তি যদি স্থান পরিবর্তন করে, তবে সে একসাথে দুইটা এলাকাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করলো। হয়তোবা কিছু মানুষ এই কাজটি করছেন। তবে এটা নিজের সাথেই প্রতারণা করা। ডা. সিফাত-ই-রাব্বী বলেন, অবশ্যই এর ফলে রাজশাহী মহানগরীতে করোনা বিস্তারের সম্ভাবনা অনেকাংশে বেড়ে যাবে। যদিও এখন পর্যন্ত প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের দৃঢ় অবস্থানের কারণে রাজশাহী মহানগরী করোনা মুক্ত আছে। তবে এই ৫০-৭০ দিন করোনা বিস্তার এর আসল সময় বলে জানিয়ে তিনি সকলকে সাবধানে থাকার পরামর্শ দেন।
বার্তা প্রেরক
মোঃ শামীউল আলীম শাওন
রাজশাহী প্রতিনিধি












