মুক্তি পেতে ২৪০ বন্দীর তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে

করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বল্পমেয়াদের সাজাপ্রাপ্ত বেশকিছু বন্দীকে মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কারা অধিদফতর। এ লক্ষ্যে টাঙ্গাইল কারা কর্তৃপক্ষ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ২৪০ জন বন্দীর তালিকা পাঠিয়েছে।

টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি বন্দী রয়েছে। ৪৭৬ জন ধারণক্ষমতার এ কারাগারে বর্তমানে বন্দী রয়েছেন এক হাজার ৮৪ জন। ধারণ ক্ষমতার অধিক বন্দী থাকায় করোনাভাইরাসের ঝুঁকিতে রয়েছে এ কারাগার। তারপরও বন্দীদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কারা কর্তৃপক্ষ।

জেল সুপার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কারাগারটিতে জেল অফিস, স্টাফ কোয়ার্টার ছাড়াও তিনটি বন্দীশালা রয়েছে। প্রতিদিনই এখানে নতুন বন্দী আসেন, আবার অনেকেও অন্য কারাগারে স্থানান্তরিত হন। কারাগারে বিভিন্ন পদে কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে ১৫৭ জন। ভেতরে বন্দীদের চিকিৎসার জন্য রয়েছে একটি কারা হাসপাতাল। এর শয্যা সংখ্যা মাত্র ২৪টি। নারী বন্দীদের জন্য মাত্র একটি ওয়ার্ড। সেখানে বন্দী আছেন ৪০ জন। অন্যান্য ওয়ার্ড ছাড়াও কনডেম সেল রয়েছে চারটি।

জেল সুপার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, সারা বিশ্বের জন্যই করোনা এখন হুমকি। এটি মোকাবিলায় প্রথম প্রয়োজন সামাজিক দূরত্বের। কিন্তু যেহেতু এমনিতেই ধারণ ক্ষমতার অনেক বেশি বন্দী রয়েছে এখানে। গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে বন্দীদের, সেই হিসেবে তারা করোনা ঝুঁকিতে রয়েছেন। সাধ্যমতো তাদের নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছি।

তিনি আরো বলেন, কারাগারের ভেতরে থাকা ছোট হাসপাতালটিতেই চিকিৎসা দেয়ার ব্যবস্থা করেছি। সেখানে আইসোলেশনও রাখা হয়েছে। যদি বন্দীদের মধ্যে কোনোভাবে করোনা ছড়িয়ে পড়ে, তবে যে কয়জনকে আইসোলেশনে রাখা সম্ভব হবে, তাদের রাখব। তারপরও স্থান সংকুলান না হলে বাধ্য হয়ে অন্য জায়গায় স্থানান্তরিত করতে হবে। তারপরও স্থান সংকুলানের জন্য তারা ঝুঁকিতে থাকছেন। তবে নতুন একটি পাঁচ তলা ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। সেটি শেষ হলে ধারণ ক্ষমতার সমস্যা কেটে যাবে।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন