বর্তমানে আমাদের পৃথিবীতে একটি বড় সমস্যা হচ্ছে করোনা ভাইরাস। এর ফলে জীবনযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে সবাই। সবাই আমরা সব সময় বাড়িতে থাকার চেষ্টা করছি। কিন্তু কিছু মানুষ আছে, যাদের একবেলা খাবারের জন্য জীবনের মায়া ত্যাগ করে প্রতিনিয়ত জীবনের সাথে যুদ্ধ করতে হচ্ছে।
কুমারখালির উত্তর দিকে শিলাইদহ ইউনিয়নের দুটি গ্রাম, মির্জাপুর ও কল্যাণপুর। এখানে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বেশকিছু শ্রমিকের আবাসস্থল। করোনা ভাইরাসের কারনে বেশকিছু শ্রমিক কর্মস্থল ত্যাগ করে ফিরে এসেছে নিজ গ্রামে। যার কারনে স্থানীয় সরকার তাদেরকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলার পাশাপাশি গ্রাম দুটি লকডাউন করে দেয়। ফলে গ্রামের হতদরিদ্র জনগোষ্ঠী কাজ করতে পারছেন না। আবার সরকারি সহযোগিতা না পাওয়ার কারনে তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে পরেছে। মির্জাপুর গ্রামের একজন ভ্যান চালক সুরুজ আলী জানান, তিনি এ পর্যন্ত কোনোরুপে সাহায্য সহযোগিতা পান নি। তিনি বলেন, কিছুদিন আগে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তার কাছ থেকে ছবি ও জাতীয় পরিচয় পত্রের কপি সংগ্রহ করে নিয়ে যায়।
কিন্তু অন্যান্য ভ্যানচালকদের মত তিনি এ পর্যন্ত কোনো ত্রাণ বা সহযোগিতা পান নি। অতঃপর তার স্ত্রী জানায়, আগে দিন এনে দিন খাওয়া হতো। কিন্তু বর্তমানে তাদের পরিবার চালানোর সক্ষমতা তাদের নেই। তিনি জানান, ” আমি কিছুদিন আগে অন্যদের কথা না শুনে সেনাবাহিনীর গাড়ির সামনে দাড়িয়ে তাদের গাড়ি থামাই। অতঃপর একজন সৈনিক গাড়ি থামানোর কারণ জিজ্ঞাসা করলে আমার পরিবারের অসচ্ছলতার কথা ও সরকারি সহায়তা না পাওয়ার কথা জানালে তারা ওয়ার্ড নং জেনে চলে যায়। কিন্তু তারপরেও কোনোরূপ সাহায্য বা ত্রাণ বা অনুদান কিছুই পাইনি। ”
এছাড়াও গ্রাম দুটির স্থানীয় বিভিন্ন পেশার অনেকে জানান, ত্রান না পাওয়া ও কর্ম হারানোর কারনে এবং সবকিছুর বাজার মুল্য বৃদ্ধির কারনে তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে পরেছে। তাই অনেকে জীবনধারনের জন্য গ্রামের রাস্তা ঘিরে দেওয়া হলেও আইন অমান্য করে কাজের খোঁজে বাইরে যেতে হচ্ছে। যা মোটেও কাম্য নয়।এভাবেই চলতে থাকলে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। এবং এখানকার মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই আরো কঠিন হয়ে পরবে।
বার্তা প্রেরকঃ
মাহাবুব হোসেন
কুমারখালি প্রতিনিধি












