চাঁদপুর জেলা কারাগারে ডিপ্লোমা নার্স না থাকায় নারী কয়েদিদের সিমাহীন ভোগান্তি!

চাঁদপুর জেলা কারাগারে ডিপ্লোমা নার্স না থাকায়  নারী কয়েদিরা পোহাচ্ছে সিমাহীন ভোগান্তি। তাই এই করোনা মহামারীতে এই শূণ্য পদটি পূরণে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সচেতনরা। খবর নিয়ে জানা যায়,জেলা কারাগারে সরকারিভাবে ১০ জন নারী কয়েদি রাখার নিয়ম। তবে প্রয়োজন ভেদে এর বেশি সর্বোচ্চ ৫০ জন নারী কয়েদি পর্যন্ত রাখা যেতে পারে।

২৮শে এপ্রিল মঙ্গলবার বিশেষ সূত্রে জানা যায়,জেলা কারাগারে মোট কয়েদি বন্দী রয়েছে ৭’শ ৪৪ জন। এই কয়েদির মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ের ১৬ জন নারী কয়েদি বন্দী রয়েছেন। যারা এই করোনা মহামারী সময়ে অনেকটা বেকায়দায় রয়েছেন। এ ব্যপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সচেতন মহল রাইজিং বিডি কে জানান, চিকিৎসকের সহকারী হিসেবে একজন নার্স রোগীর চিকিৎসা সেবা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পরিচর্যার কাজ করে থাকেন। রোগীর স্বাস্থ্যের অগ্রগতি বা অবনতি সম্পর্কে ডাক্তারকে নিয়মিত জানান। যাতে যেকোন কঠিন অবস্থাতেও অনেকক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।

কিন্তু এই মহামারী করোনা পরিস্থিতিতে ডিপ্লোমা নার্স না থাকায় বেকায়দায় রয়েছে কারাগারের নারী কয়েদীরা। এ ব্যপারে কারাগারের জেল সুপার মোঃ মাইন উদ্দিন ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে রাইজিং বিডি কে জানান, কারাগারে কয়েদীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতে ১জন সহকারী সার্জন ও ১ জন ফার্মাসিস্ট রয়েছে। তবে নারী কয়েদীদের জন্য ১জন ডিপ্লোমা নার্স থাকার কথা থাকলেও ওই পদটি শূণ্য হয়ে রয়েছে। তবে আমরা এই মহামারীতে ওই পদের গুরুত্বতা জানিয়ে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করেছি।

তিনি রাইজিং বিডি কে আরো জানান,সাড়ে ৯ একর জায়গা জুড়ে অবস্থিত এই কারাগারে নারী কয়েদীদের জন্য ৪ কক্ষ বিশিষ্ট ১টি ২তলা ভবন রয়েছে। যার মধ্যে ২ টা সাধারণ ওয়ার্ড ও ৬টা কন্ডেম সেল রয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে ৪০-৫০ জন আসামীকে রাখা যায়। সেই প্রতিটি ওয়ার্ডে ৩টি করে টয়লেট ব্যবস্থাও রয়েছে। জরুরী অবস্থা মোকাবেলা প্রসঙ্গে জেল সুপার রাইজিং বিডি কে জানান,জেলা কারগারে আমরা ৩ জন করে মোট ৬জন রাখার মতো ২টি আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত রেখেছি।

যা দেখভালে ১জন সহকারী সার্জন সহ কারাগারের মোট ৭৯ জনবল কাজ করছে। কারাগারের রান্নাঘর পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি খাবার ভালোভাবে সিদ্ধ হওয়ার পর পরিবেশন করা হয়। এছাড়াও কারাগারের ভেতরে বন্দীদের মাঝে করোনা সম্পর্কে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো সহ নানাবিধ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ব্যপারে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জামাল হোসেন রাইজিং বিডি কে  জানান,করোনা পরিস্থিতিতে জেলা কারাগার ঝুঁকিমুক্ত রাখতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নতুন বন্দীদেরকে কারাগারের ভেতরে ঢোকানোর আগে প্রধান গেটে হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে ভালোভাবে হাতমুখ ধোঁয়ানো হয়।

পরীক্ষা করা হয় শরীরের তাপমাত্রা। স্প্রে করা হয় জীবাণুনাশক স্প্রে। এভাবে প্রাথমিকভাবে সুস্থতার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ভেতরে ঢোকানো হয় আসামিদের। তিনি রাইজিং বিডি কে আরো জানান,নতুন আসামীদের ক্ষেত্রে আমরা ১৪দিন তাদের কে আলাদা ওয়ার্ডে রাখি। সেই ওয়ার্ড থেকে আবারো পুনরায় অন্য একটি আলাদা ওয়ার্ডে আরো ১৪ দিন তাদের কে রাখি। প্রতিদিন সকাল বিকাল দু’বার পুরো কারাগার এলাকায় জীবাণুনাশক স্প্রে ছিটানো হয়।

রেডক্রিসেন্টের পক্ষ থেকেও একবার করে জীবাণুনাশক স্প্রে ছিটানো হচ্ছে।বাইরের দর্শণার্থীরা ভেতরে প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ। বিকল্প হিসেবে দিনে ৫ মিনিট আসামীদের ফোনে কথা বলার নির্দেশনা রয়েছে। এখন পর্যন্ত কারাগারে কোন করোনা রোগী পাওয়া যায়নি। আমরা মহিলা কয়েদীদের জন্য ডিপ্লোমা নার্সের শূণ্য পদটি পূরণে যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছি।

বার্তা প্রেরকঃ
অমরেশ দত্ত জয়
চাঁদপুর প্রতিনিধি

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন