চাঁদপুরে নদীতে ৪টি চোখ পয়েন্ট ঘিরে কোস্ট গার্ডের দুঃসাহসিক তৎপরতা!

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড একটি আধা সামরিক বাহিনী। যারা সমুদ্র ও নদী পথে চোরাচালান, মানব পাচার, মাদকদ্রব্য,অবৈধ অস্ত্র পাচার রোধ ও উদ্ধারে সমুদ্র সীমানা, তৎসংলগ্ন উপকূলীয় অঞ্চল এবং বিভিন্ন নদ-নদীতে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও নির্ভরতার সাথে অর্পিত দায়িত্ব পালন করছে।

উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসকারী জনগণের মূল জীবিকায়ন নিশ্চিত করা এবং বঙ্গোপসাগরে প্রাকৃতিক গ্যাস, তেল ও অন্যান্য বহু অনাবিষ্কৃত খনিজ ও মৎস সম্পদ রক্ষাতেও তারা কাজ করছে। যদিও কোস্ট গার্ড জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়, সুনামি ও দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়াতেও উপকূলীয় জনগনকে সার্বিক সহায়তা দিচ্ছে। এর পাশাপাশি ত্রাণ ও বিভিন্ন উদ্ধার অভিযানে অংশগ্রহণ করেও তারা সর্বমহলে প্রশংশিত হয়েছে। ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর তাদের  একটি স্টেশন স্থাপিত হয় চাঁদপুরে। আর এরপরই চাঁদপুরের নদী পথে জনসংযোগ নিরাপদ করতে তারা ভূমিকা রেখে চলছে।

২৮শে এপ্রিল মঙ্গলবার সরজমিনে দেখা যায়, নদীতে চলমান জাটকা সংরক্ষণ অভিযানের পাশাপাশি বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে যাতে পাশ্ববর্তী জেলার লোক এ জেলায় ঢুকে পরতে না পারে। সে বিষয়কে জোর দিয়ে কোস্টগার্ড নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। কোস্টগার্ড সূত্রে জানা যায়,নারায়নগঞ্জ থেকে চাঁদপুর পর্যন্ত তাদের আওতাধীন নদী এলাকাকে ৪টি প্রবেশ পথ (চোখ পয়েন্ট) ধরে তারা অবস্থান করছে। এর মধ্যে অবরোধস্থান গুলো হচ্ছে ১.গজারিয়া-ষাটনল ২.মোহনপুর ৩.চাঁদপুর মোহনা এবং ৪.হাইমচর।

যেখানে ২৪ ঘন্টা সিফিটিংয়ে তাদের ১২টি টিম টহলে রয়েছে। আরো জানা যায়,তাদের এই টহলের জন্য চাঁদপুর মোহনায় বিসিজিএস (সোনাদিয়া) ও মোহনপুরে বিসিজিএস (রাঙ্গামাটি) নামের ২টি জাহাজে অবস্থান করে তারা নজরদারি করছে। এ ছাড়াও নদীতে জাটকা নিধনকারী জেলে কিংবা বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে পাশ্ববর্তী জেলার লোক ঢুকে পড়া রোধ করতে আরো ৮টি স্পীড বোট তারা ব্যবহার করে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে।

এ ব্যপারে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড চাঁদপুরের ষ্টেশন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট এ এস এম লুৎফর রহমান জানান, নদীতে মার্চের ১ তারিখ হতে এপ্রিলের ৩০ তারিখ পর্যন্ত সময়ে সরকার ঘোষিত জাটকা নিধন সহ সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ করতে আমরা কাজ করছি। এর পাশাপাশি চলমান করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় চাঁদপুর লকডাউনে আমরা নির্দেশনা অনুযায়ী নদীতে মানুষের মুভমেন্ট নিষিদ্ধ করছি। বিশেষ করে পার্শবর্তী জেলার লোকজন যাতে নদীতে প্রবেশ করতে না পারে। সে ব্যপারে আমরা আমাদের কার্যক্রমের তৎপরতা বৃদ্ধি করেছি। পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত নদীতে আমাদের অভিযান পরিচালনা অব্যাহত থাকবে।

বার্তা প্রেরকঃ
অমরেশ দত্ত জয়
চাঁদপুর প্রতিনিধি

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন