ঢাকার ফেরত ১৭টি পরিবার খালিয়াজুরি উপজেলার নির্জন হাওর থেকে অবশেষে বাড়ি ফিরেছে। নেত্রকোনা পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী মুনসী খবর পেয়েই এলাকায় পুলিশ পাঠিয়ে তাদের নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেন। এ সময় তিনি জানান, তাদের খাদ্য সহায়তাসহ সব নিরাপত্তা দেয়া হবে। এই ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
এর আগে প্রায় ১২ দিন আগে তারা গ্রামে আসলে গ্রামের প্রভাবশালীরা বাড়িতে উঠতে না দিয়ে উপজেলার নগর ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামের কসমা হাওরে খুপরি করে থাকতে দেয়। তাদের মধ্যে অনেকেই গার্মেন্টস কর্মী। এছাড়া অনেকে ঢালাইয়ের কাজসহ বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে কাজ করতেন।
কয়েক ধাপে তারা এলাকায় আসলে ওই হাওরে তাদের থাকতে বাধ্য করা হয়। খবর পেয়ে ইউএনও সোমবার বিকেলে খাদ্য সহায়তা পাঠিয়েছেন বলে জানা যায়। মঙ্গলবার পুলিশের সহায়তায় তারা বাড়ি যেতে পেরে আনন্দিত।
এদিকে গত ১৬ এপ্রিল থেকে আসা কয়েকটা পরিবার প্রায় ১২ দিন ধরে অনেকে ঝর বৃষ্টিতে হাওরের ভেতর মানবেতর জীবন পার করেছে। পর্যায়ক্রমে মোট ১৭টি পরিবার এসেছিল।
হাওরে থাকা তরুণী রিতা রানী জানান, তারা দুই বোন ঢাকায় কাজ করতো। এখন বাড়ি ছাড়া। রাতে পালা করে ঘুমাতে হয়েছে তাদের। একজন ঘুমালে আরেকজন পাহারা দেয়। হাওরে মল মূত্র ত্যাগ করাও কষ্টের বলে জানান কৃষ্ণ নামের আরেক যুবক। এই কয়েকদিন তারা পান করেছেন নদীর পানি।
মঙ্গল সরকার নামে একজন জানান, তারা বাড়ি আসলে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দীপক সরকার ও মেম্বার দেবাশীষ চাপ সৃষ্টি করলে গ্রামের মানুষও তাদের এখানে খুপরি করে দেয়া হয়। এমন দুর্ভোগে ছিলো করোনায় বাড়ি আসা শ্রমজীবী মানুষগুলো। এমন না তারা করোনা রোগী। তারা বলেন আমরা বাড়িতেই হোম কোয়ারেনটাইনে থাকতে প্রস্তুত ছিলাম।












