সুনামগঞ্জে কৃষকের কাছ থেকে ২৬ টাকা কেজি দরে ধান কেনা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে ছাতক ও দিরাই উপজেলায় দুজন কৃষক সরকার নির্ধারিত দামে খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করেছেন।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. জাকারিয়া মোস্তফা বলেন, আজ সুনামগঞ্জের দুই উপজেলায় সরাসরি দুজন কৃষকের ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ধান সংগ্রহ করা হবে। ধানের টাকা সরাসরি কৃষকের একাউন্টে যাবে। এই প্রক্রিয়ার বাইরে পেমেন্ট দেয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই।
জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে সুনামগঞ্জ জেলা থেকে ২৫ হাজার ৮৬৬ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করবে সরকার। প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকে কৃষি কার্ডের মাধ্যমে ধান সংগ্রহ করা হবে। একজন ছোট পর্যায়ের কৃষক ১ টন বড় থেকে মাঝারি পর্যায়ের কৃষক ৩ টন ধান খাদ্য গুদামে বিক্রি করতে পারবেন। প্রান্তিক ও মহিলা কৃষকদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। ধান ক্রয়ের বিষয়টি প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে মাইকিং করে জানিয়ে দিতে হবে।
ছাতক উপজেলার লেবারপাড়া গ্রামের মৃত সাজুর রহমানের ছেলে কৃষক হোসেন আলী জানান, এবার তিনি প্রথম খাদ্যগুদামে সরকার নির্ধারিত মূল্যে ধান বিক্রি করেছেন। একারণে তিনি উৎপাদিত ধানের নায্য মুল্য পেয়েছেন।
দিরাই উপজেলার কৃষক মাসুক মিয়া বলেন, আজ দিরাই খাদ্য গুদামে ১ টন ধান বিক্রি করেছেন। তবে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হলে হাওর এলাকার কৃষক লাভবান হবেন।
দিরাই উপজেলার ভারপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তা হিমেল চন্দ্র সরকার বলেন, কৃষি বিভাগ এখন মাঠ পর্যায়ের তালিকা তৈরি করছে। তালিকা তৈরির কাজ শেষ হলে উন্মুক্ত লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হবে। প্রতিটি ইউনিয়নে ও উপজেলা সদরে উপজেলা সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটি এবং সমাজের সকল শ্রেণী পেশার মানুষের উপস্থিতে লটারি হবে। কৃষি বিভাগ এখনো তালিকা তৈরি কাজ শেষ করতে পারেনি। আগামী মাসের ৫ তারিখের মধ্যে কৃষকের তালিকা তৈরি কাজ শেষ হলে পুরো দমে ধান সংগ্রহ করা হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় সম্ভাব্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১২ লক্ষ ৩০ হাজার ৯ শ ৩৪ মেট্রিক টন। এরমধ্যে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ধানের সম্ভাব্য উৎপাদনের আকার ৯৪ হাজার ৭ শতল ২৪ মেট্রিক টন, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় ১ লক্ষ ৩২ হাজার ১৮ মেট্রিক টন, দোয়ারাবাজার উপজেলায় ৭৪ হাজার ৮ শ ৮৮ মেট্রিক টন , ছাতক উপজেলায় ৮৫ হাজার ৭শত ৫৪ মেট্রিক টন , জগন্নাথপুর উপজেলায় ১ লক্ষ ২৪ হাজার ১শ ৩১ মেট্রিক টন, দিরাই উপজেলায় ১ লক্ষ ৭৫ হাজার ২শ ৪০ মেট্রিক টন, শাল্লা উপজেলায় ৬৬ হাজার ৭ শ ৫৩ মেট্রিক টন, ধর্মপাশা উপজেলায় ১ লক্ষ ৮২ হাজার ৪ শ ৯ মেট্রিক টন, জামালগঞ্জ উপজেলায় ১ লক্ষ ৩৪ হাজার ৫ শ ৯২ মেট্রিক টন, তাহিরপুর উপজেলায় ৯৮ হাজার ৮ শ ২৭ মেট্রিক টন, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ৬১ হাজার ৫ শ ৯৮ মেট্রিক টন।
সুনামগঞ্জ হাওর বাচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় বলেন, সরকার এবছর হাওর এলাকা থেকে বিপুল পরিমান ধান সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে সংগ্রহ করবে। এজন্য কৃষক হয়তো বোরো আবাদে কিছুটা হলেও লাভের মুখ দেখবেন।












