ছিন্নমূল মানুষের পাশে থাকা সৈকতকে পুরষ্কৃত করলেন সেতুমন্ত্রী

অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের পাশে থাকায় সৈকতকে পুরষ্কৃত করলেন ওবায়দুল কাদের

খোলা নেই কোনো হোটেল, খোলা নেই কোনো রেস্টুরেন্ট, খোলা নেই কল-কারখানা, পুরো ঢাকা শহর যেন স্থবির হয়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। সরব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসও যেন মানব শূন্য হয়ে আছে এক মাসের অধিক সময় ধরে। ভীষণ অসহায় হয়ে পরেছে খেটে খাওয়া শ্রমিক, দিনমজুর, রিক্সা চালক, ভিক্ষুক, ভবঘুরে, পথ শিশু সহ আরো অনেকেই।
এমতাবস্থায় এসকল অসহায় মানুষদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর কৃতি শিক্ষার্থী, ছাত্রলীগ নেতা ও ডাকসুর সদস্য তানবির হাসান সৈকত। নিজ হাতে রান্না করে দীর্ঘ ৩৬দিন যাবত প্রায় ১৫০০-১৬০০ মানুষের দুই বেলা খাবার খাওয়াচ্ছেন তিনি। করোনা মহামারীতে টানা ৩৬ দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার ছিন্নমূল মানুষকে নিজ হাতে রান্না করে খাওয়ানোর ধারাবাহিকতায় পবিত্র রমজান মাসেও সেহরি ও ইফতারে ছিন্নমূল মানুষের ভরসার প্রতীক হয়ে উঠেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ’র (ডাকসু) অন্যতম সদস্য এই সৈকত।

তাঁর এই মহৎ উদ্যোগকে এইবার সাধুবাদ জানালেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সেতুমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সম্মানিত সাধারণ সম্পাদক জনাব ওবায়দুল কাদের। তিনি সৈকতে কে এই কাজে সাধুবাদ জানান ও এই কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে ৫০০০০ টাকা দিয়েছেন।

এ বিষয়ে তানভীর হাসান সৈকত বলেন, “ধন্যবাদ জানাচ্ছি, প্রিয় নেতা জনাব ওবায়দুল কাদের এমপি, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ও মাননীয় মন্ত্রী,  সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। আর এই কর্মযজ্ঞে অনেকেই বিভিন্ন ভাবে আমাকে সহযোগিতা করেছেন এবং করছে, তবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একজন কর্মী হিসেবে আমি বিস্মিত হয়েছি, কাদের স্যারের মত একজন বড় মনের নেতা এবং বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আমার এই ক্ষুদ্র কার্যক্রমকে গুরুত্ব দিয়ে আমার জন্য ৫০ হাজার টাকা সহযোগিতা উপহার পাঠিয়েছে। সত্যিই আপনার এবং আওয়ামীলীগের এই উপহার আমার মত কর্মীদের জন্য উৎসাহ ও প্রেরণা। আমরা যারা মানুষের জন্য কাজ করতে চাই আপনার এই সহযোগিতা আমাদের কাজের গতি আরো বৃদ্ধি করে তুলবে ইনশাল্লাহ।
আপনার এই স্বেচ্ছা সহযোগিতা আবারো প্রমাণ করলো বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ গণমানুষের দল। আর আপনি গণমানুষের নেতা। আল্লাহর কাছে আপনার সুস্বাস্থ্যে ও দীর্ঘায়ু কামনা করি।”

তিনি আরো বলেন, ” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেশের যেকোন দুর্যোগে সবসময় জাতির পাশে ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নেতা হিসেবে বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে থাকা আমার নৈতিক দায়িত্ব সে দায়বদ্ধতা থেকে এ কাজটি আমার করা প্রয়োজন বলে মনে করছি। ৯৮ এর বন্যায় ঢাবি শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন ৭০ হাজার মানুষকে খাওয়াইছে সে তুলনায় এটি কিছু নয়। আমার এ যাত্রায় সহযোগিতায় এগিয়ে আসছে তাঁদের ধন্যবাদ জানাই এবং সারা বাংলার ছাত্র সমাজসহ সবাইকে জাতির এ দুর্দিনে এগিয়ে আসা উচিত বলে আমি মনে করি।
আগামীর পথচলায় বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করে ডাকসুর এ সদস্য বলেন, সকলের সহযোগিতায় আমার এ কাজ সম্ভব হয়েছে। এ যাত্রা হয়ত আরও দীর্ঘ হবে; সমাজের বিত্তবানরা যদি এগিয়ে না আসে তাহলে তা আমার জন্য কষ্টসাধ্য হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরসহ দেশের সকল বিত্তবানদের আহ্বান জানাই জাতির এ দুর্যোগে সহযোগিতায় আপনারা এগিয়ে আসুন।”

করোনার এই দুঃসময়ে সৈকতরাই বাংলাদেশ,  সৈকতরাই অসহায় মানুষদের ভরসার প্রতিক হয়ে উঠেছে দিন দিন।

শেখ আব্দুল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন