করোনা শনাক্ত হওয়া রোগীর সংস্পর্শ: ইউএনসহ ৫৮ জনের নমুনা সংগ্রহ

করোনা শনাক্ত হওয়া রোগীদের সঙ্গে সংস্পর্শ হওয়ার কারণে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ (ইউএইচএফপিও) আরো ৫৮ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। গত শনিবার তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলে  রোববার সন্ধ্যায় তা নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রমতে, গত বৃহস্পতিবার রাতে মুরাদনগরে যে দুইজনের করোনা শনাক্ত হয়েছে তাদের নমুনা মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেের কর্মকর্তা কর্মচারীরা সংগ্রহ করেছিলো। উপজেলার রামচন্দ্রপুর উত্তর ইউনিয়নের কাঠালিকান্দি গ্রামের লিটন ও দারোরা ইউনিয়নের কাজিয়াতল গ্রামের মিজানুর রহমান মিজানকে আবাসিকভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
এছাড়া দারোরা ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের কাজিয়াতল পূর্ব পাড়ায় যে ব্যক্তির করোনা শনাক্ত হয়েছে তিনি ২১ এপ্রিল ঢাকা থেকে এলাকায় আসেন এবং খবর পেয়ে হাসপাতাল থেকে তার ঘরে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ হয়। ওই দিনেই তারা দুজনের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকার আইইডিসিআরে পাঠানো হয়।
সেখানে তাদের নমুনা পরীক্ষা শেষে গত ববৃহস্পতিবার  রাতে রিপোর্ট দেওয়া হয়। রিপোর্টে তাদের দুজনের করোনা পজেটিভ আসে। করোনা শনাক্ত হওয়ার আগে তারা দুজনকে চিকিৎসা দেওয়া এবং নমুনা সংগ্রহের সময় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ দুই চিকিৎসক ও তিনজন স্টাফের সঙ্গে তাদের সংস্পর্শ হয়।
এছাড়া ওই রোগীদের বাড়ি লকডাউন করার সময় এদের সঙ্গে সংস্পর্শ হওয়ার পর উপজেলা স্বাস্থ ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজমুল আলম এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও অভিষেক দাসসহ অন্যান্যরা এক সঙ্গে কাজ করেছেন।
এছাড়া গত শুক্রবার করোনা শনাক্ত হওয়া দুজনের পরিবারের সঙ্গে সংস্পর্শ হওয়া লোকদের চিহ্নিত করে ২ টি গ্রামসহ একটি বাজারকে লকডাউন করার সময়ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এক সঙ্গে ছিলেন।
ফলে গতকাল শনিবার মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভিষেক দাস, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ দুই চিকিৎসক ও তিনজন স্টাফসহ রামচন্দ্রপুর কাঠালিকান্দি গ্রামের করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে আসা আরো ৫৮ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকাতে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার বিকেলে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজমুল আলম তাদের নিজেদের নমুনা সংগ্রহের কথা এড়িয়ে গিয়ে কৌশলে জানান, গত শুক্রবার করোনা শনাক্ত হওয়া দুই ব্যক্তির বাড়ি লকডাউন করার সময় যারা ওই রোগীদের সংস্পর্শ হয়েছে এমন ৫৮ জনকে চিহৃিত করে নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠিয়েছি।
মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, আমাদের সঙ্গে সংস্পর্শ হওয়া রোগীর করোনা শনাক্ত হওয়ায় সতর্কতার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, আমরা কয়েকজন চিকিৎসক ও স্টাফসহ একসঙ্গে অন্যান্য ৫৮ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর বুঝতে পারব কোনো সমস্যা হয়েছে কিনা।
বার্তা প্রেরক
মো. শরিফুল আলম চৌধুরী,কুমিল্লা প্রতিনিধি

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন