ফরিদগঞ্জে মেয়রের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধিঃ কামরুজ্জামান

ফরিদগঞ্জ পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নিতী আর অবিচারের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছে পৌরসভার ৬ জন কাউন্সিলর। ২৭ এপ্রিল সোমবার বিকালে ফরিদগঞ্জ বাজারের একটি বিপনী বিতানে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

প্যানেল মেয়র খলিলুর রহমান উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে বলেন, গত ২৬ এপ্রিল ২০১৮ইং আমরা ৯জন কাউন্সিলর মেয়রের বিরুদ্ধে উল্লেখিত অভিযোগ এনে অনাস্থা দেই। সে আলোকে চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের তদন্ত টিম অভিযোগ প্রমান করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করে। একই সাথে একুশে টিভিতে মেয়রের দুর্নিতীর বিষয়ে একুশের চোখ নামক অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে। কিন্তু কোন এক অদৃশ্য শক্তির বলে গত তিন বছরে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি বিষয়টির।

বক্তব্যে আরো বলে, এখন সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও মহামারী চলমান। সরকার এটি রোধের জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহন করেছে। একই সাথে কর্মহীন ও খেটে খাওয়া মানুষের জন্য বিনামুল্যে চাউল নগদ টাকা দিচ্ছে। এ নিয়মের আওতায় ফরিদগঞ্জ পৌর মেয়র এ পর্যন্ত ৩৫ মে.টন চাউল ও ১লক্ষ ৬৫হাজার নগদ টাকা উত্তলোন করে। গড় হিসাবে প্রতিটি ওয়ার্ডে ৩৮৮টি পরিবারে ১০কেজি করে চাউল পাওয়ার কথা কিন্তু আমাদের জানামতে অঞ্চলভেদে বেশীরভাগ ওয়ার্ডেই ৫০ থেকে ৬০টি পরিবারে ১০ কেজি করে চাউল এবং টাকা বিলি করা হয়েছে। বাকী চাউল এবং টাকার কোন হিসাব নেই। আমরা নির্বাচীত কাউন্সিলরগন জিজ্ঞেস করেও কোন সদুত্তর পাই না।

উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপস্থিত কাউন্সিলরগন বলেন, আমারা এলাকার জনগনের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচীত প্রতিনিধি। অথচ আমাদের সাথে কোন রকম আলোচনা ছাড়াই মেয়র একা একা নিজের পোশা লোকদের নিয়ে চাউল এবং টাকা বিতরন করছে। বিষয়টি ফরিদগঞ্জ ইউএনও শিউলি হরি মহোদয়কে লিখিতভাবে জানালে আমাদেরকে একটি চিঠির মাধ্যমে এলাকার প্রাপ্য লোকদের তালিকা চাওয়া হয়। সে অনুপাতে প্রতি ওয়ার্ড থেকে আমরা ১৮২জন লোকের এনআইডি কার্ডের ফটোকপি ও তালিকা জমা দেয়ার জন্য যাই। কিন্তু পৌরসভার সচীব খোরশেদ আলম জানায়, আমাদের প্রতি কাউন্সিলর থেকে ৩০জনের বেশী নাম গ্রহন ও অনুদান দেয়া যাবে না। কেন যাবে না জানতে চাইলে মেয়র বলেন, আমি কোন কাউন্সিলরকে জবাবদিহী করতে বাধ্য নই। এহেন অবস্থায় আমরা কঠিন বিপদে আছি। ১৮২ জনের এনআইডি ফটোকপি এনে ৩০জনের তালিকা দাখিল করলে অথবা ৩০জনকে চাউল এবং টাকা দিলে বাকীদের প্রশ্নের কি জবাব দিব ?

তাই আজকের সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমরা মেয়রের এরকম দুর্নিতী আর অনিয়মের প্রতিবাদ জানাই। এবং সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জনগনসহ প্রশাসনকে জানাতে চাই গরীব, অসহায় আর কর্মহীন খেটে খাওয়া মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত চাউল এবং টাকার প্রকৃত হিসাব যেন এই দুর্নিতীপরায়ন মেয়রের কাছ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আদায় করে। একই সাথে তার অনিয়ম এবং স্বেচ্ছাচারিতার হাত থেকে পৌরকাউন্সিলরগন নিষ্কৃতি চায়। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিল কাউন্সিলর যথাক্রমে ইসমাইল হোসেন সোহেল, মোঃ হারুনুর রশিদ, মোঃ জামাল উদ্দিন, মোঃ মজিবুর রহমান ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর ফাতেমা বেগম।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন