নওগাঁয় মাঠ জুড়ে ইরি-বোরো ধান:শ্রমিক সংকটের আশা কৃষকদের

নওগাঁ প্রতিনিধি: সুমন আলী

নওগাঁয় দিগন্ত জুড়ে ইরি-বোরো ধানের সবুজ ও সোনালী রঙে ভরা মাঠ। উড়ছে ধানের সবুজ কেতন। চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখনো হানা না দেয়ায় ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষি বিভাগ ও কৃষকরা। আর মাত্র কয়েকদিন পর শুরু হবে ধান কাটা, মাড়াই ও ঘরে তোলার কাজ। আগাম জাতের ধান ইতিমধ্যেই পাকা শুরু হয়েছে। কিন্তু করোনা ভাইরাসে কারণে ধান কাটায় শ্রমিকের তীব্র সংকটের আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। তাই ঘরে ধান না তোলা পর্যন্ত দুশ্চচিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।

কয়েক জন কৃষক জানান, বিগত বছরগুলোর তুলনায় এ বছর ধান খুব ভালো হয়েছে। এখনও পর্যন্ত পোকা মাকড় বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কোন সমস্যা হয় নাই। তাই গত বছরের তুলনায় এবার ফলন বেশি হবে বলে আশা করেন তারা। তবে করোনা ভাইরাসের কারণে অনেক জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করার ফলে প্রতি বছরের মতো এবার অন্য জেলা থেকে ধান কাটতে আসতে পারবে না শ্রমিকরা। তাই  এবার শ্রমিক সংকটে পড়তে হবে বলে মনে করেন তারা। শ্রমিক সংকটের কারণে সময়মত ধানগুলো ঘরে তুলতে পারবেন কিনা বর্তমানে এই আশঙ্কা রয়েছে কৃষকদের মাঝে। প্রতি বছর বাহিরের শ্রমিকরা আসে তারপরও যেসব স্থানীয় শ্রমিক পাওয়া যায় তাদের দ্বিগুন পারিশ্রমিক দিতে হয়। এবার যদি বাহিরের শ্রমিকেরা আসতে না পারে তাহলে ধান নিয়ে বিপাকে পড়তে হবে বলে জানান তারা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সিরাজুল ইসলাম জানান, চলতি বোরো মৌসুমে  জেলায় ১ লক্ষ ৮০ হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। কিন্তু ১ লাখ ৮২ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সঠিক সময়ে চারা লাগানো নিবিড় পরিচর্যা, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, যথা সময়ে সেচ ও কীটনাশক দেওয়া এবং সার সংকট না থাকায় জেলায় চলতি মৌসুমে ইরি-বোরো ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও শেষ সময়ে বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ধানের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করেন। তবে শ্রমিক সংকটে  বিষয়ে তিনি বলেন, জেলায় প্রায় ৪ লক্ষ কৃষক পরিবার আছে। প্রতি পরিবার থেকে গড়ে ২ জন লোক ধান কাটায় অংশ নিলে ধান কাটার জন্য বাহির থেকে কোন শ্রমিকের প্রয়োজন নেই বলে জানান তিনি।

শ্রমিক সংকটের বিষয়ে নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোঃ হারুনুর রশিদ জানান, করোনা ভাইরাসের কারণে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের জন্য বাহির থেকে কোন লোক না এনে আমরা যারা ভ্যান, রিকশা, অটো চালক বর্তমানে বেকার হয়ে আছি তারা সবাই মিলে এই সংকটময় সময়ে এই ধান কাটার কাজ করতে পারি। কারণ কোন কাজকেই ছোট করে দেখা উচিত নয়। যদি আমরা বাহির থেকে শ্রমিক নিয়ে আসি তাহলে আমরা করোনা ভাইরাসে নতুন করে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই সবাইকে এই দুর্যোগ মুহুর্তে কাঁধে কাঁধ রেখে ধান কেটে ঘরে তোলার প্রত্যয় নিয়ে সবাই সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি। এছাড়াও ধান কাটার বিষয়ে শ্রমিকরা যদি কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের চেষ্টা করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি। তারপরও যদি কোন কৃষকের শ্রমিকের প্রয়োজন হয় তাহলে কোন এলাকার শ্রমিক লাগবে অথবা ওই শ্রমিক সরদারের মোবাইল নম্বর দিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করলে আমরা ওই জেলার জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানিয়ে দিয়ে তাদের মেডিকেল করে আনার ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন