ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ মোসাদ্দেকুর রহমান সাজু
নীলফামারীর ডোমারে ইদুর মারা ঔষুধ খেয়ে আতœহত্যা করেছেন ২ সন্তানের জননী মিসু।
রবিবার(১৯এপ্রিল) বিকালে দেবিগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়েছে।
এ নিয়ে এলাকায় চাঁপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানাযায়, উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের পশ্চিম সোনারায় টংবান্ধা গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে মুন্সি মমিনুর রহমানের স্ত্রী মিসু পরোকিয়ায় লিপ্ত থাকায় তাদের মধ্যে প্রায় ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকত। এনিয়ে এলাকায় বেশ কয়েকবার বিচার সালিশ করা হয়েছে। তবুও বন্ধ হয়নি তাদের পরোকিয়া প্রেম। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, মিসু’র স্বামী মুন্সি মমিনুর রহমান দীর্ঘদিন যাবত জোড়াবাড়ী ইউনিয়নের বেতগাড়া মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন, প্রায় দিনেই তিনি মাদ্রাসায় থাকেন। এই সুযোগ কে কাজে লাগিয়ে প্রতিবেশী বাবু মিয়ার ছেলে আলিফ ইসলাম, মিসুর সাথে অবৈধ পরোকিয়া প্রেমে লিপ্ত হয়। তারা আরও জানায় যে ইউপি সদস্য তৈয়ব আলী বাবু, মজিবুল হক, সাহেব ও ছামসুল তারা আলিফের কাছ থেকে উৎকোচ নিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে মিমাংসা করে দেয়।
মিসু’র মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে প্রেমিক আলিফ ইসলাম ও তার পরিবার বাড়ী থেকে পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে মিসু’র স্বামী মুন্সি মমিনুর রহমান বলেন, গত ১৭ই এপ্রিল শুক্রবার আছরের নামাজ পড়ে আমি মাদ্রাসায় উদ্দেশ্যে রওনা হই, কিন্তু আকাশের অবস্থা ভালো না থাকায় রাতের মধ্যে আবার বাড়ী ফিরে আসি।এসে দেখি আলিফ নামের এক ছেলে রাতের অন্ধকারে আমার স্ত্রীর শয়নকক্ষের এক কর্নারে দাড়িয়ে আছে। আমাকে দেখামাত্র সে পালিয়ে যায়। এরপর আমি আমার বাŸাকে ডেকে আলিফের বিষয়টি অবগত করি। আমার বাবা স্থানীয় ইউপি সদস্য তৈয়ব আলী বাবু (হাইবিট) কে অবগত করে। পরদিন শনিবার রাতে ইউপি সদস্য তৈয়ব আলী বাবু, সোনারায় ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মজিবুল হক, সাহেব ও ছামসুল সহ স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে বসে আমাদের পরিবারের বিষয়টি মিমাংসা করে দেয়।
ঘটনার দিন রবিবার দুপুরে মিসু’র বাপের বাড়ী থেকে তার চাচা সাদিকুল ও দুলাভাই এসে মিসুকে বুঝিয়ে চলে যায়। যাওয়ার কিছুক্ষন পর দেখি মিসু কান্না করছে, আমি কান্নার কথা জানতে চাইলে সে বলে আমি ইদুর মারা ঔষুধ খেয়েছি,এবং এরই মধ্যে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে আমার পরিবারের লোকজন তড়িঘড়ি করে তাকে দেবিগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সোনারায় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এবং বলেন মৃত্যের স্বামী মমিনুর পরোকিয়ার বিষয়টি আমাকে অবগত করেছেন। এ ব্যাপারে সঠিক তদন্ত পূর্বক ন্যায় বিচার দাবি করেন তিনি।এ বিষয়ে পাশ্ববর্তী পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ হাসিনুর রহমান বলেন, মিসুকে মৃত অবস্থায় আমাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়েছে।
দেবীগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ রবিউল হাসান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন থানায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে, লাশ ময়না তদন্তের জন্য পঞ্চগড় জেলা মর্গে প্রেরন করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, মিসু উপজেলা ভোগডাবুড়ী ইউনিয়নের গোসাইগঞ্জ কাওলা এলাকার মৃত মঞ্জু রহমানের মেয়ে বলে যানাগেছে।












