কিশোরগঞ্জ জেলায় গত রোববার (১৯ এপ্রিল) পর্যন্ত ৯৯ জন করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। আক্রান্তের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। এরপরই রয়েছে পুলিশ।
গত শনিবার পর্যন্ত জেলায় ২৬ জন চিকিৎসক, নার্সসহ আরও ২৩ জন স্বাস্থ্যকর্মী করোনায় আক্রান্ত হন। সেবাদানকারী কর্মীরা একের পর এক আক্রান্ত হতে থাকায়, বিশেষ করে ডাক্তাররা আক্রান্ত হয়ে পড়ায় মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে যাচ্ছে কিশোরগঞ্জ।
গত ১৭ এপ্রিল পরীক্ষার জন্য ১২৫ জনের নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। তাদের মধ্যে রোববার রাত ৯টা পর্যন্ত ৪০ জনের ফলাফল পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ২৩ জনের মধ্যে কোভিড-১৯ পাওয়া যায়। বাকি ৮৫টির ফলাফল এখনো পেন্ডিং আছে।
নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ১২ জন পুরুষ, ১১ জন নারী। নতুন আক্রান্ত ২৩ জনের মধ্যে এক দিনে সবচেয়ে বেশি ২০ জন আক্রান্ত হয়েছেন ভৈরবে। তাদের মধ্যে ৬ জন ডাক্তার ও ১০ জন স্বাস্থ্যকর্মী। বাকি ৪ জন পুলিশ।
জানা গেছে, এরই মধ্যে জেলার ১৩টি উপজেলার সব কটিতে ছড়িয়ে পড়েছে ভাইরাস।
শনিবার পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ২৪ করোনা রোগী শনাক্ত হয়। তাদের মধ্যে ১৬ জনই ছিলেন স্বাস্থ্য বিভাগের। আট জন চিকিৎসক এবং বাকি ৮ জন করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মচারী। করিমগঞ্জ হাসপাতালের ৫ জন চিকিৎসক করোনা আক্রান্ত। এরই মধ্যে লকডাউন করা হয়েছে হাসপাতালটি। ১৪ এপ্রিল থেকে করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কিশোরগঞ্জ সদর, ইটনা, কটিয়াদী, তাড়াইল ও ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও করোনা সনাক্ত হয়েছে। এ অবস্থায় হুমকির মুখে পড়তে যাচ্ছে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা।
কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. মুজিবুর রহমান জানান, আক্রান্তদের মধ্যে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৭ জন, ঢাকার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে দুজন, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে দুজন এবং ময়মনসিংহের এসকে হাসপাতালে এক জনের চিকিৎসা হচ্ছে। বাকিরা বাসাবাড়িতে আইসোলেশনে আছেন।












