শেরপুরে করোনা মুক্ত ছাড়পত্র নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন করোনা আক্রান্ত দুই নারী। প্রায় দুই সপ্তাহ জেলা হাসপাতালে আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন থাকার পর বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে তাদেরকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের তত্ত্বাবধানে নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
তারা হলেন- সদর উপজেলার ভাতশালা ইউনিয়নের মধ্যবয়ড়া গ্রামের শাহিনা আক্তার (৩২) এবং সাতানি-শ্রীবরদী এলাকার বাসিন্দা শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়া খোদেজা বেগম (৫০)। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা মেনে শেরপুরের চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্টাফরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে তাদের সুস্থ করে তোলেন।
হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর ওই দুই নারী সাংবাদিকদের বলেন, করোনায় আক্রান্ত হলেও তারা মনোবল হারাননি। হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন। চিকিৎসকেরাও সব সময় তাদের খোঁজখবর নিয়েছেন। করোনার সংক্রমণ থেকে মুক্ত থাকার জন্য সবাইকে ঘরে থাকার আহ্বান জানান তারা।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. এ.কে.এম আনওয়ারুর রউফ দুজনের ছাড়পত্র দেওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুসারে আইসোলেশনে থাকার সময় তাদের পর পর দুবার নমুনা পরীক্ষায় ‘কভিড-১৯ নেগেটিভ’ ফলাফল আসায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। তারা এখন পুরোপুরি করোনামুক্ত এবং সুস্থ্য রয়েছে।’
তিনি জানান, গত ৫ এপ্রিল নমুনা পরীক্ষায় তাদের করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছিলো। ওইদিনই তাদেরকে জেলা হাসপাতালের আইসোলেশনে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। আইসোলেশনে থাকাকালে ওই দুই নারীর চিকিৎসায় নিয়োজিত জেলা হাসপাতালের আরএমও ডা. খাইরুল কবীর সুমন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. আলমগীর মোস্তাক, ডা. আব্দুল হান্নান, সদর টিএইচএ ডা. মোবারক হোসেন এবং নার্স ও অন্যান্য স্টাফদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান সিভিল সার্জন।
এদিকে, বৃহস্পতিবার আরও ৩৭ জনের নমুনা সংগ্রহ করে করোনা সংক্রমণ পরীক্ষার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। দুই নারীকে ছাড়পত্র দেওয়ার পর এখন জেলায় সাতজন করোনা আক্রান্ত আইসোলেশনে রয়েছেন।
করোনা সংক্রমণ রোধে শেরপুর জেলাকে বুধবার রাত থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।












