রাজশাহীতে যেভাবে নমুনা পরীক্ষা করাবেন

সারাবিশ্ব করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। বাংলাদেশে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়ার পর রাজশাহী অঞ্চলেও দিন দিন আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। জ্বর, কাশি কিংবা সর্দির মতো করোনার উপসর্গ দেখা দিলে অনেকের মনেই এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে যে নমুনা পরীক্ষা করতে হবে কীভাবে? সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস, রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. এনামুল হক ও সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আঞ্জুমান আরা বেগম। তাদের দেখানো প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই রাজশাহীতে নমুনা পরীক্ষা করা যাবে।

প্রথমেই জেনে নেয়া যাক রাজশাহীর ৯ উপজেলার বাসিন্দারা যেভাবে নমুনা পরীক্ষা করাবেন। রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. এনামুল হক সোনালী সংবাদকে জানিয়েছেন, প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। কারও শরীরে করোনার উপসর্গ দেখা দিলে তিনি তার পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে নিজ এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ওয়ার্ড সদস্য, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অথবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অবহিত করবেন।

তাদের কাছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকের মোবাইল নম্বর দেয়া আছে। করোনার উপসর্গ থাকার বিষয়টি ইউপি সদস্য, ইউএনও অথবা থানার ওসি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে অবহিত করবেন। তারপর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে কেউ একজন গিয়ে সন্দেহভাজন রোগীর বাড়ি থেকে তার নমুনা সংগ্রহ করে আনবেন। ওই ব্যক্তির স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।

রাজশাহী মহানগরীর বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে নমুনা পরীক্ষা করানোর দুটি উপায় রয়েছে। একটি বাড়ি থেকেই নমুনা দেয়া এবং অন্যটি রাজশাহীর খ্রীষ্টিয়ান মিশন হাসপাতালে গিয়ে নমুনা দিয়ে আসা। বাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহ করছে সিটি করপোরেশন। তবে তাদের নমুনা সংগ্রহের সক্ষমতা কম। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস সোনালী সংবাদকে জানান, খ্রীষ্টিয়ান মিশন হাসপাতালে নমুনা সংগ্রহ করার জন্যই একটি বহির্বিভাগ খোলা হয়েছে। কেউ নিজেকে আক্রান্ত হিসেবে সন্দেহ করলে সেখানে গিয়ে নমুনা দিয়ে আসতে পারবেন। তবে বাড়ি থেকে মিশন হাসপাতালে যেতে চাইলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং গণপরিবহন এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

এদিকে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আঞ্জুমান আরা বেগম সোনালী সংবাদকে জানিয়েছেন, নগরীর কোনো বাসিন্দা করোনার নমুনা পরীক্ষা করাতে চাইলে তিনি পরিবারের কোনো সদস্যের মাধ্যমে নিজ এলাকার ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয়ে খবর দেবেন। ওয়ার্ড কার্যালয় তখন বিষয়টি তাকে অবহিত করবে। এরপর তিনি গিয়ে বাসা থেকেই নমুনা সংগ্রহ করে আনবেন। অথবা তার মোবাইল নম্বরে নাম-ঠিকানা লিখে একটি এসএমএস দিলেই তিনি নমুনা সংগ্রহ করে আনবেন বলে জানান ডা. আঞ্জুমান আরা। তবে এভাবে নমুনা সংগ্রহ করার সক্ষমতা তাদের কম বলেও জানিয়েছেন তিনি।

অনেকেই আবার করোনার উপসর্গ নিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসছেন। তাদের ভর্তি নিয়ে করোনা আক্রান্ত এবং সন্দেহভাজন রোগিদের জন্য নির্ধারিত মিশন হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। সেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে। ভর্তি থাকা অবস্থায় নমুনাও সংগ্রহ করা হচ্ছে। রিপোর্ট পজিটিভ হলে সেখানেই আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া বাইরের জেলা থেকে কেউ রাজশাহীতে এলেই তাকে হোম কোয়ারেন্টাইন করা হচ্ছে। এরপর তার বাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহ করে আনা হচ্ছে। নমুনা সংগ্রহের পর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ল্যাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। জেলার বাইরের নমুনাও পরীক্ষা হচ্ছে ল্যাব দুটিতে। হাসপাতালে রোজ ৯৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। আর কলেজে পরীক্ষা করা হচ্ছে ১৮৮টি নমুনা।

বার্তা প্রেরক
মোস্তাফিজ মিশু
পবা (রাজশাহী) প্রতিনিধি

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন