কাঙ্গালিনী সুফিয়া সহায়তা পেলেন

ঘরে খাবার নেই, টাকার অভাবে ওষুধ কিনতেও পারছেন না বলে  অনলাইনকে জানিয়েছিলেন প্রখ্যাত বাউলশিল্পী কাঙ্গালিনী সুফিয়া। করোনা ভাইরাসের এই পরিস্থিতিতে শিল্পীর এমন দূর্দশার খবর ‌‌ ‌’খাবার নাই, ওষুধ কেনার টাকা নাই, আমাকে বাঁচান ভাই’-এ শিরোনামে প্রকাশ হয়েছিলো অনলাইনে। ওই খবর চোখে পড়লে কাঙ্গালিনী সুফিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছে স্বাধীনতা সাংস্কৃতিক পরিষদ।

এই শিল্পীর কাছে নগদ ১০ হাজার টাকা পৌঁছে দিয়েছেন এই সংগঠনের স্বাধীনতা সাংস্কৃতিক পরিষদের সভাপতি চয়ন ইসলাম।

তিনি বলেন, হঠাৎ করে কাঙ্গালিনী সুফিয়ার সংবাদটি পড়লাম। সঙ্গে সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেই তার পাশে দাঁড়ানোর। সারা জীবন আমাদের গান শুনিয়েছেন তিনি।

সহযোগীতা পেয়ে কাঙ্গালিনী স্বাধীনতা সাংস্কৃতি পরিষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন কাঙ্গালিনী সুফিয়া ও তার মেয়ে পুষ্প। সুফিয়া বলেন, সাংবাদিক ভাইয়েদের মাধ্যমে আমার বর্তমান অবস্থার কথা অনেকেই জেনেছেন। স্বাধীনতা সাংস্কৃতিক পরিষদ এগিয়ে এসে দশ হাজার টাকা পাঠিয়েছে। এবার ওষুধ কিনতে পারবো। ঘরে খাবারও কিনবো। তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।

মাসখানেক আগে কুষ্টিয়া যান কাঙ্গালিনী সুফিয়া; লালন সাঁইজীর আখড়ায় গান গাইতে। সেখানে গিয়েই আটকা পড়েন । ঢাকায় আর ফেরা হয়নি তার। জনপ্রিয় এ বাউল শিল্পী বয়সের ভারে এখন অনেকটাই ন্যুব্জ। তারপরও এই শিল্পী এখনো বেশ হাসিখুশি। তার ব্যবহার এখনও শিশুসুলভ।

দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছেন তিনি।

ওষুধের ব্যয়ও অনেক। কিন্তু আর্থিক সমস্যার কারণে কয়েক মাস ধরে সেই ওষুধ খাওয়াও বন্ধ ছিলো।

কাঙ্গালিনী সুফিয়া ১৯৬১ সালে রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার রামদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কাঙ্গালিনী সুফিয়া প্রায় ৩০টি জাতীয় ও ১০টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেছেন।

গান রচনা করেছেন প্রায় ৫০০টি।

তার বিখ্যাত গানের মধ্যে রয়েছে কোনবা পথে নিতাইগঞ্জে যাই, পরাণের বান্ধব রে, বুড়ি হইলাম তোর কারণে, নারীর কাছে কেউ যায় না, আমার ভাঁটি গাঙের নাইয়া।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন