কোভিড ১৯-এর কারণে তাদের মতো থিয়েটারের সঙ্গে সম্পৃক্ত অধিকাংশ দৈনিক আয়ের কর্মী কিংবা বিভিন্ন দলের আর্থিকভাবে অসচ্ছল সদস্যের আর্থিক অবস্থা বেশ সংকটে। জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে তাদের।
এই পরিস্থিতিতে হাতে কাজ থাকুক আর না থাকুক, পেটে খাবার থাকুক বা না থাকুক, মাস শেষে তাদের একটি মোটা অংকের টাকা বাড়ির মালিকদের হাতে তুলে দিতে হচ্ছে। এই সংকটে সরকারের কাছ থেকে সাহায্য-সহযোগিতা চান তারা। থিয়েটারের পেশাজীবী ও কর্মীদের সহায়তায় সরকারি প্রণোদনার বিষয় নিয়ে কথা হয় বেশ কয়েকজন নির্দেশক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে।
বটতলা থিয়েটারের পরিচালক মোহাম্মদ আলী হায়দার বলেন, থিয়েটারের জন্য সরকারি প্রণোদনা নেই। তবে সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি প্রক্রিয়া চলছিল। একটি তালিকা চাওয়া হয়েছিল। আমরা আমাদের বিভিন্ন জায়গা থেকে তালিকা দিয়েছি। কিন্তু সেটা বর্তমানে কী অবস্থায় আছে, সে বিষয়ে আমাদের জানা নেই।
প্রায় একই কথা বললেন অনুস্বর নাট্যদলের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্দেশক মোহাম্মদ বারী। তার মতে, গ্রম্নপ থিয়েটার ফেডারেশন থেকে একটি ফরম দেয়া হয়েছিল প্রণোদনা পেতে সরকারের কাছে আবেদনের জন্য। সরকারের পক্ষ থেকে যে প্রণোদনা পাওয়া যাবে, তা শিল্পমাধ্যমের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবার জন্য ব্যয় করা হবে-এ রকম শোনা গেছে। কিন্তু এর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আমরা আসলে জানি না।
সরকারি প্রণোদনা না পেলেও থিয়েটারগুলো তাদের দলের অসচ্ছল কর্মীদের জন্য কী করছে, সে বিষয়ে কথা হয় একাধিক সাংস্কৃতিককর্মীর সঙ্গে।
এ বিষয়ে মোহাম্মদ আলী হায়দার বলেন, প্রথম দিকে মাঠপর্যায়ে যারা কাজ করছেন, তাদের সহায়তার জন্য কাজের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে আমরা বুঝতে পারি, আমাদের অনেক থিয়েটারকর্মীর অবস্থা খারাপ, যারা আলোকসজ্জা, মেকআপ, সেট নির্ধারণ- এসব কাজের সঙ্গে যুক্ত। এমনকি অনেক কর্মী আছেন, যারা টিউশনি করে বা ছোটখাটো চাকরি করে চলতেন। সেসব বন্ধ হয়ে গেছে। কাজেই তারা বিপদে আছেন। তখন আমরা এসব সাংস্কৃতিককর্মীকে অর্থসহায়তার সিদ্ধান্ত নেই।
করোনা পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, তা নিশ্চিত করে কেউই বলতে পারছে না। ফলে কবে আবার থিয়েটার কার্যক্রম শুরু হতে পারে, তা অনিশ্চিত। কাজেই আর্থিকভাবে অসচ্ছল কর্মীদের নিয়ে সামনে বড় পরিসরে কাজের কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা জানতে চাইলে গ্রম্নপের সঙ্গে সম্পৃক্ত থিয়েটারকর্মীদের ভাষ্য, ‘আমরা এই প্রক্রিয়াটি চালিয়ে যেতে চাই। যে গ্রম্নপটি খোলা হয়েছে, সেটার মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে অসচ্ছল কর্মীদের সহায়তা করতে চাই।
আরণ্যক নাট্যদলের প্রধান মামুনুর রশীদ বলেন, আমাদের দলের কর্মীদের পাশে আমরা আছি। আমরা একটি পরিবারের মতো। বাইরে না জানিয়ে আমাদের নিজেদের মধ্যে যারা অসচ্ছল আছেন, সংকটে আছেন, গোপনে খবর নিয়ে তাদের সহায়তা করছি।
নাট্যদল তাড়ুয়ার প্রধান বাকার বকুল বলেন, ‘আমরা সাংস্কৃতিককর্মীবৃন্দ নামে একটি পস্নাটফর্ম করেছি। এটার সঙ্গে ভালোভাবেই যুক্ত আছি। চাঁদা তুলে দিচ্ছি।’ পাশাপাশি নিজস্ব উদ্যোগে বেশকিছু কর্মীসহ কয়েকজন মেকআপ আর্টিস্টকেও সহায়তা করেছে বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এদিকে প্রাঙ্গণে মোর নাট্যদলটি নিজেদের অসচ্ছল কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছে জানিয়ে নির্দেশক অনন্ত হীরা বলেন, আমাদের দলে যাদের সাহায্য প্রয়োজন, তাদের সাহায্য করার চেষ্টা করছি। এ ছাড়া দলের বাইরেও যারা নেপথ্যে কাজ করেন, তাদের জন্য সহায়তার কাজ করে যাচ্ছি। তবে বৃহৎ অর্থে সারাদেশের নাট্যকর্মীদের সহায়তা করতে পারছি না।
এখন যে খারাপ সময়টা চলছে, তা আরও দীর্ঘ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেখানে ব্যক্তিগত পর্যায়ের সাহায্য-সহায়তা যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন এসব সাংস্কৃতিককর্মী। তাদের দাবি, সহায়তা পাওয়া সাংস্কৃতিককর্মীদের অধিকার এবং এ সময় সাংস্কৃতিককর্মীদের পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্রেরও দায়িত্ব।











