করোনা আক্রান্তদের ১০ শতাংশ মিরপুরের, ঢাকায় ৪৬ ভাগ

দেশে এখন পর্যন্ত মোট করোনাভাইরাস আক্রান্ত ১৮৩৮ জনের মধ্যে শতকরা ১০ ভাগই মিরপুরে এবং মোট আক্রান্তের ৪৬ শতাংশই ঢাকায় বলে জানিয়েছেন সরকারের জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে আইইডিসিআর-এর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানান তিনি।

মোট আক্রান্তদের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সর্বোচ্চ আক্রান্ত বা সংক্রমিত ব্যক্তির বয়সসীমা ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে শতকরা ২১ ভাগ, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে শতকরা ১৯ ভাগ, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ১৫ ভাগের মতো। ফলে আমরা দেখতে পাচ্ছি, ২১ থেকে ৫০ বছর বয়সীদের মধ্যেই সংক্রমণের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।’

মোট আক্রান্তদের মধ্যে নারী-পুরুষ বিভাজনে শতকরা ৬৮ ভাগ হচ্ছে পুরুষ ও ৩২ ভাগ নারী বলেও জানান তিনি।

ডা. ফ্লোরা বলেন, ‘এলাকাভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা শহরে শতকরা ৪৬ ভাগ আক্রান্ত এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নারায়ণগঞ্জে শতকরা ২০ ভাগ। এছাড়া আমরা নতুন করে একটি এলাকার অনেক রোগী দেখতে পাচ্ছি, সংক্রমণের তথ্য পাচ্ছি, সেটা হচ্ছে গাজীপুর। চট্টগ্রাম ও মুন্সিগঞ্জে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ঢাকা শহরের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা কিংবা সংক্রমণের সংখ্যা বিশ্লেষণ করে আমরা দেখেছি, বড়ভাবে যদি বলি মিরপুরে আক্রান্ত সবচেয়ে বেশি। আমরা দেখেছিলাম টোলারবাগে বেশি সংক্রমণ। এখন মিরপুরের বিভিন্ন সেক্টর ও টোলারবাগের পুরোটা জুড়ে মোট আক্রান্তের শতকরা ১০ ভাগের বেশি। প্রায় শতকরা ১১ ভাগ। এরপরেই মোহাম্মদ পুরে শতকরা ৪ ভাগ রয়েছে। ওয়ারি ও যাত্রাবাড়ীতেও ৪ ভাগ আক্রান্ত প্রায়। উত্তরা ও ধানমন্ডিতে শতকরা ৩ ভাগ আক্রান্ত।’

আইইডিসিআর পরিচালক বলেন, ‘বর্তমানে যারা আক্রান্ত তাদের শতকরা ৬৮ ভাগকে বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং শতকরা ৩২ ভাগের হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন হয়েছে। তবে একটি বিষয়ের ওপরে আমি জোর দিতে চাই- যদিওবা শতকরা ৩২ ভাগ হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন তাদের অনেকেরই হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন ছিল না। যারা সংক্রমিত তাদের বিভিন্ন কারণে হাসপাতালে যেতে হয়। তার মধ্যে একটি হচ্ছে, সামাজিকভাবেও তাদের ওপরে এক ধরনের চাপ থাকে, তারা যাতে বাড়িতে না থেকে হাসপাতালেই থাকে।’

তিনি বলেন, ‘আমি এখানে আমাদের গণমাধ্যমের মাধ্যমে বাংলাদেশের ভাই-বোনদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই- একজন রোগী যদি বাড়ি থেকে চিকিৎসা নিতে পারে সেক্ষেত্রে সারা বিশ্ব এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এটা উৎসাহ প্রদান করে। যেটি করণীয়, ওই রোগী হোম আইসোলেশনে থাকবেন। তিনি একটি ঘরের মধ্যে থাকবেন এবং তার সঙ্গে যাতে অন্য কারও মেলামেশা না হয় সে বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করবেন।’

‘আমরা যারা প্রতিবেশী কিংবা বন্ধুবান্ধব রয়েছে তাদেরকে যদি আমরা এ ব্যাপারে সহযোগিতা করতে পারি, তারা যাতে বাড়িতে থেকে আইসোলেশনটি স্ট্রিকলি মেইনটেইন করতে পারি- এক্ষেত্রে কিন্তু ওই রোগীটির জন্যই ভালো এবং আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্যও এটি একটি ভালো পদক্ষেপ’- যোগ করেন ডা. ফ্লোরা।

এদিকে ব্রিফিংয়ে যুক্ত হয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেক জানিয়েছেন, দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৭৫ জনে দাঁড়ালো। গত ২৪ ঘণ্টায় একদিনে রেকর্ড সংখ্যক ২৬৬ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস সনাক্ত করা হয়েছে। ফলে দেশে এখন করোনা আক্রান্তের মোট সংখ্যা বেড়ে ১৮৩৮ জন হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৯ জন। মোট সুস্থ এখন ৫৮ জন।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন