ভয়কে জয় করে চলার নাম জীবন- এ কথার প্রমাণ মিলল আবার। করোনাভাইরাসের কারণে ব্যস্ত জীবন যাদের থমকে গেছে, সেসব তারকা নতুন করে জেগে উঠেছেন। ঘরবন্দি সময়কে নানাভাবে কাজে লাগাচ্ছেন তারা।
মনের ভীতি দূরে ঠেলে সৃষ্টির নেশায় মেতে ওঠা তারকাদের নিয়ে এ আয়োজন ঘরের চার দেয়ালে বন্দি আমরা সবাই। তাই বলে সবকিছু থেমে যাবে- এটা মেনে নেওয়া কঠিন। জীবন বাঁচাতে, সময়কে নতুন করে সাজাতে থামিয়ে রাখা যাবে না কোনো কিছুই। ঘরবন্দি তারকারা তাই মেতে উঠেছেন সৃষ্টির নেশায়।
অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার কথায়, ‘আমি চুপচাপ ঘরে বসে থাকার মানুষ নই। কোনো না কোনো কাজ খুঁজে নেওয়া চাই। গত ক’দিন বাসা জীবাণুমুক্ত করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছিলাম। এরপর শুরু করেছি হাতের কাজ। কুশন, ফ্লাওয়ার ভাস, শিকাসহ আর ছোটখাটো জিনিস তৈরি করে যাচ্ছি। দুস্থ ও অসহায় মানুষকে নিজের সাধ্য অনুযায়ী সাহায্য করে যাওয়ার চেষ্টাও করছি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে ইউনিসেফের অফিসিয়াল ফেসবুকে বিভিন্ন বার্তাও দিচ্ছি।’তিশার মতো তার স্বামী নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী চুপচাপ বসে নেই। ইউনিফেসের ফেসবুকে জনসচেতনার বার্তাগুলো ভিডিও নির্মাণের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
অন্যদিকে কণ্ঠশিল্পী হাবিব তার স্টুডিওতে বসে নতুন গানের আয়োজন করে যাচ্ছেন। তার কথায়, ‘ঘরে বসেও অনেক কিছু করা যায়। মিউজিশিয়ানদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ না থাকলেও অনলাইনের মাধ্যমে কাজ সমাধা করা অসম্ভব নয়। এখন সে কাজটিই করা হচ্ছে। হাবিবের এ কথা যে মিথ্যা নয়, তার প্রমাণ দিয়েছেন গানবাংলা পরিবার। যাদের ফেসবুক গ্রুপের শিল্পী আঁখি আলমগীর, ঐশী, তাপসসহ আরও বেশ কয়েকজন শিল্পী ও মিউজিশিয়ান কবিগুরুর ‘আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে’ মোবাইল মেসেঞ্জারের মাধ্যমে রেকর্ড করেছেন। গানবাংলার ফেসবুক পেজে তা পোস্ট করার পর বেশ সাড়া পেয়েছেন শিল্পীরা। এর বাইরেও গানবাংলার বিভিন্ন আয়োজনে কণ্ঠশিল্পী ছাড়াও অভিনেতা-অভিনেত্রীরা অংশ নিয়েছেন।
মেহের আফরোজ শাওন, চঞ্চল চৌধুরী, নুসরাত ফারিয়া করোনাভাইরাস নিয়ে বিভিন্ন বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি গান গেয়ে শুনিয়েছেন। তাদের কথায়, এই দুঃসময়ে মানুষ ঘরবন্দি থেকে যেন মুষড়ে না পড়ে, তার জন্য এই বিনোদনের ব্যবস্থা। একই সঙ্গে তাদের মানসিক শক্তি জোগাতেও কাজ করে যাচ্ছেন তারা।
এখানেই শেষ নয়, আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য তুলে ধরতেও গানবাংলা শতকণ্ঠে ‘এসো হে বৈশাখ’ গানটি নতুন করে তুলে ধরছে। তার আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ‘শতকণ্ঠে শ্রদ্ধাঞ্জলি’ দিয়েছে চ্যানেলটি। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে তারা ধারাবাহিকভাবে ‘মিউজিক ফর পিস’ গানের আয়োজন করছে। যেখানে দেশ-বিদেশের অসংখ্য শিল্পী অংশ নিয়েছেন।
আরেকটি আয়োজনে চিরকুট ব্যান্ডের তারকা কণ্ঠশিল্পী শারমিন সুলতানা সুমির সুরে গান গেয়েছেন বরেণ্য রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সাদী মহম্মদ, তাহসান, এলিটা করিম, মিলন মাহমুদ, নীরব ও সন্ধি। একই সঙ্গে গানে কণ্ঠ দিয়েছেন সুমি নিজেও। ‘চলো একসাথে দূরে থাকি’ শিরোনামের এই গানের কথা লিখেছেন গাউসুল আলম শাওন। সংগীতায়োজন করেছেন পাভেল আরিন। করোনাভাইরাস সম্পর্কে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে গানটি তৈরি করা হয়েছে। যার ভিডিওটির কাজ হয়েছে শিল্পীদের নিজ নিজ ঘর থেকে।
সুমির কথায়, স্বাধীনতার প্রত্যয়ে চাইলেই সম্ভব একসঙ্গে দূরে থেকে দেশটাকে ভালো রাখা। যুগে যুগে বিজয়ীর হাতিয়ার হয়ে উঠেছে গান। করোনাভাইরাসের ভয়াল থাবা থেকে দেশবাসীকে সচেতন করে তুলতেও গান অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।’সুমির মতো একই কথা শোনা গেছে লোকগানের সাড়া জাগানো শিল্পী মমতাজের মুখে।
তিনি বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে মানুষকে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার শক্তি জোগাতে হবে। তাই আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি ঘরবন্দি থেকে নানা আয়োজন করে যাওয়ার। ‘মনটা ভইরা যায়’ গানটি তৈরি করার পেছনের কারণও এটাই।’ মমতাজের মতো করোনার বিরুদ্ধে মানুষকে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগাতে ও দুস্থদের পাশে দাঁড়াতে দেশের সংগীত, নাটক, চলচ্চিত্র, সংবাদপত্র, রাজনীতি, সমাজসেবা এবং করপোরেটের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্বদের নিয়ে নতুন গানের ভিডিও তৈরি করেছে গানচিল। ‘এসো সবাই’ শিরোনামের এই ভিডিওর গানের কথা লিখেছেন নন্দিত গীতিকবি আসিফ ইকবাল, সুর, সংগীতায়োজন ও ভিডিও পরিচালনা করেছেন অদিত রহমান।
এ গান ও গানের মিউজিক ভিডিওতে ৭০ জন ব্যক্তিত্ব তাদের নিজ নিজ বাসা থেকে কণ্ঠ মিলিয়ে মোবাইল ভিডিওর ব্যাক ক্যামেরায় নিজেরাই চিত্রধারণ করে পাঠিয়েছেন। গানের মতো স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণেও ব্যস্ত আছেন অনেকে। ঘরে বসেই তৈরি হচ্ছে সেসব চলচ্চিত্র ও নাটিকা।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ভার্চুয়াল কনসার্টের পরিকল্পনাও থেমে নেই। অনেক তারকা আবার স্বাস্থ্য, রান্না, ফ্যাশনসহ নানা বিষয়ে ভিডিওর মাধ্যমে তাদের কাজ তুলে ধরছেন। সবমিলিয়ে ঘরে থেকেও ব্যস্ত এখন তারকারা। যার মাধ্যমে চলছে করোনার বিরুদ্ধে লড়াই।











