কোনোভাবে টেনে-টুনে চলছে তার সংসার। ধার-দেনার মধ্যেই রয়েছেন। সবশেষ লালন সাইজীর আকড়ায় গান করে কিছু টাকা পেয়েছিল তাও শেষ। এখন কিভাবে চলবো জানিনা। গরিবের তো উপরওয়ালাই ভরসা।’ নিজের বর্তমান দৈন্যদশার কথা এভাবেই বলছিলেন বাংলাদেশের প্রসিদ্ধ লোকসঙ্গীত শিল্পী নন্দিত বাউল রাণী কাঙ্গালিনী সুফিয়া। যার গানের সুনাম দেশ ছেড়ে রয়েছে ভিনদেশেও।
সুরের মূর্ছনায় ভাসিয়ে জয় করে নিয়েছেন কোটি ভক্তের হৃদয়।জনপ্রিয় এ বাউল শিল্পী বয়সের ভারে এখন অনেকটাই ন্যুজ। তারপরও এই শিল্পী এখনো বেশ হাসিখুশি। তার ব্যবহার এখনও শিশুসুলভ।
করোনাভাইরাসের কারণে ভালো নেই এই সঙ্গীতশিল্পী। টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে চলছে তার সংসার।
এখন পর্যন্ত কেউই তার পাশে দাঁড়ায়নি। কারও সহায়তাও পায়নি জানিয়ে সুফিয়া বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে কোথাও যেতে পারি না। গান-বাজনা নাই। ঘরে বসে আছি। কী করবো? এখন তো না খাইয়া মরার মতো অবস্থা।’
কাঙ্গালিনী সুফিয়া দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছেন । ওষুধের ব্যয়ও অনেক। কিন্তু আর্থিক সমস্যার কারণে গত কয়েক মাস ধরে সেই ওষুধ খাওয়াও বন্ধ। হার্ট, কিডনি ও ব্লাড প্রেশারের ওষুধ এরই মধ্যে শেষ হয়ে গেছে বলে জানান তিনি।
বয়স হয়ে গেছে, টেলিফোনে কথায় মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছেন বলেও জানালেন। আক্ষেপ নিয়ে বললেন ‘ক’দিন আর বাচবো । বয়সের ভারে নুয়ে পড়া কাঙ্গালিনী কোনরকমভাবে গান গাইতে পারেন। তবে একসাথে দুই-তিনটার বেশি গান গাইতে পারেননা। শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে যান। দম আটকে আসে।
তিনি বলেন, এখন তো বাবা বয়স অনেক হলো। আগের মতো আর হেলে দুলে গাইতে পারিনা। আমি যে ধরনের গান গাই তার সাথে নেচেও থাকি। যার কারণে দর্শক-শ্রোতারা এক ধরনের আনন্দ পেয়ে থাকে। এখনতো আর নেচে নেচে গান গাইতে পারি না। যার কারণে শ্রোতরাও সেভাবে আনন্দ পান না।
বর্তমানে কাঙালিনি সুফিয়া কুষ্টিয়ায় রয়েছেন। সেখানে তিনজনের সংসার তার। ঢাকায় নাতি-পুতি, মেয়ের জামাই আছে











