করোনাভাইরাসে সারাবিশ্বে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই মহামারী সামাল দিতে প্রায় সব দেশের সরকারই হিমশিম খাচ্ছে। তবে বিশ্বের কিছুসংখ্যক দেশের নেতা প্রাণঘাতী এ ভাইরাস নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর কারণে সমালোচিত হচ্ছেন। এখানে এ রকম কয়েকটি বিতর্কিত মন্তব্য তুলে ধরা হলো–
‘আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে’
যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম যেদিন করোনাভাইরাসে কেউ আক্রান্ত হওয়ার খবর রিপোর্ট করা হলো, তার দুদিন পর ২২ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিএনবিসিকে একটি সাক্ষাৎকার দেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে কোভিড-নাইনটিনের সংক্রমণকে খুব একটা গুরুত্ব দেননি। তিনি বলেছিলেন, করোনা আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
‘এটি সামান্য ফ্লুর মতো’
ব্রাজিলে কোভিড নাইনটিনের সংক্রমণ দেখা দেয়ার পর থেকে রাষ্ট্রপ্রধান বোলসোনারোর জনপ্রিয়তা কমতে শুরু করে। সম্প্রতি তিনি টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশ্যে যে ভাষণ দিয়েছেন, তা ব্রাজিলের অনেক মানুষকে ক্ষুব্ধ করেছে। লাখো মানুষ থালাবাসন পিটিয়ে প্রেসিডেন্টের এই ভাষণের প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
‘আমি আপনাকে কবর দিয়ে দেব’
ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তে করোনাভাইরাসের হুমকিকে অনেক গুরুত্ব দিয়েছেন। দেশটিতে কঠোর সব বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে লকডাউন ও কারফিউ জারি করা। তবে খাদ্য ঘাটতির প্রতিবাদে একবার রাস্তায় বিক্ষোভ হয়েছে। প্রেসিডেন্ট দুতের্তের জবাব কী ছিল? নির্দেশনা ভঙ্গকারীদের হুমকি দিয়ে তিনি বলেছেন, নিরাপত্তা বাহিনী তাদেরকে গুলি করে মেরে ফেলবে। ‘
‘করমর্দন নিয়ে চিন্তিত নই’
যুক্তরাজ্যে কোভিড-নাইনটিনের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার পরও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ৩ মার্চ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বলেছেন, তিনি লোকজনের সঙ্গে করমর্দন করার ব্যাপারে উদ্বিগ্ন নন। তার প্রধান বক্তব্য ছিল এই ভাইরাসটি প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে হাত ধোয়া। প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের ফলে তাকে প্রচুর সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। ‘
আপনি তো এগুলোকে চারপাশে উড়তে দেখেননি। দেখেছেন কি?‘
করোনাভাইরাস মহামারীর ব্যাপারে বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো যে মনোভাব দেখে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তার দেশেও করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হলে তিনি হাস্যোচ্ছলে তা উড়িয়ে দিয়েছেন। বলেছেন, তিনি তো এই ভাইরাসকে ‘চারপাশে উড়তে’ দেখেননি।
‘পরিবারকে নিয়ে বাইরে খাওয়া চালিয়ে যান’
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেস মানুয়েল লোপেজ ওব্রাদোর কোভিড-নাইনটিন মোকাবেলায় তার দেশের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের দেয়া উপদেশের বিরোধিতা করে আসছেন। একই সঙ্গে এই ভাইরাসের যে বিপদ সেটিও তিনি খাটো করে দেখিয়েছেন। সারা দেশে ঘুরে বেড়িয়েছেন। তাকে জনসমাগমে যোগ দিতে দেখা গেছে। দেখা গেছে শিশুদের চুম্বন করতে এবং সমর্থকদের ভিড়ে মিশে গিয়ে তাদের শুভেচ্ছা জানাতে।
‘সমকামী বিবাহ আইন দায়ী’
ইরাকে প্রভাবশালী শিয়া নেতা মুক্তাদা আল-সদর যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী দেশগুলোতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে দেয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিযুক্ত করেছেন। ভাইরাসটির বিস্তার প্রতিরোধে ইরাকে যেসব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, সেগুলো ভঙ্গ করে আল-সদর নামাজের আয়োজন করছেন। এ ছাড়া কোভিড-নাইনটিন ছড়িয়ে পড়ার জন্য তিনি ‘সমকামী বিবাহ আইনকে’ দায়ী করেছেন। কিন্তু যেসব দেশ সবচেয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেই ইতালি ও স্পেনে এ ধরনের বিয়েকে বৈধতা দিয়ে কোনো আইন তৈরি করা হয়নি।
‘জনগণকে আমরা কিছু তথ্য দিইনি’
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো স্বীকার করেছেন উদ্দেশ্যমূলকভাবেই তিনি কোভিড-নাইনটিন সংক্রান্ত কিছু তথ্য গোপন করেছিলেন। ঠিক কতজন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন সেটি জানানো হয়নি। তিনি বলেন, লোকজন যাতে পাগলের মতো কেনাকাটা করতে শুরু না করে দেয় সে জন্যই এই তথ্য গোপন করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা












