করোনা পরিক্ষা রাজশাহীতে ভিআইপিদের দখলে

নিজস্ব প্রতিবেদনঃ সম্প্রতি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ আসনের এমপি শামিউল উদ্দিন আহমেদ শিমুল রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ ল্যাবে গিয়ে কনো উপসর্গ ছাড়ায় নমুনা পরীক্ষা করে আসেন। এরপর নমুনা নেওয়ার সেই ছবি তিনি ফেসবুকেও দেন। পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ হওয়ার পরেও সেই রিপোর্টও দেন ফেসবুকে।

শুধু তিনি নয়, রাজশাহীর দুটি ল্যাবে এই রকম উপসর্গহীন ভিআইপি বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের করোনা পরীক্ষা পর নেগেটিভ রিপোর্টের এমন পোস্ট ফেসবুকের পাতাজুড়ে সাম্প্রতিক সময়ে ঘুরছে ব্যাপক হারে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে যেমন তৈরী হয়েছে হতাশা, তেমনি উপসর্গ আছে এমন রোগীদের করোনার নমুনা পরীক্ষা করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন রাজশাহীর দুটি ল্যাব কর্তৃপক্ষ।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে করোনার নমুনা নেওয়া হবে স্ব স্ব জেলার সিভিল সার্জন নগরীর প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দপ্তরের মাধ্যমে। তারাই ঠিক করে দিবেন কাদের নমুনা পরীক্ষা হবে। কিন্তু সেই নির্দেশনারও বাস্তবায়ন হচ্ছে না তেমন। নমুনা পরীক্ষার জন্য ভিআইপি প্রচ্ছন্ন চাপ থাকছেই প্রতিদিন। এতে করে ল্যাব সংশ্লিষ্টদের মাঝে চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

ল্যাব সূত্র মতে, রাজশাহীর দুটি ল্যাবে করোনা পরীক্ষা চলছে। এর মধ্যে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ ল্যাবে প্রায় প্রতিদিনই দুই শিফটে করোনা পরীক্ষা হচ্ছে। আর রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ল্যাবে এক শিফটে করোনা পরীক্ষা হচ্ছে। সবমিলিয়ে গড়ে প্রতিদিন দুই’শটি নমুনা পরীক্ষা হচ্চে। তবে এসব নমুনার একটি বড় অংশই থাকছে ভিআইপিদের দখলে। অর্থাৎ ভিআইপিদের করা সুপারিশের ভিত্তিতে অন্তত অর্ধেক নমুনা পরীক্ষা করতে হচ্ছে দুটি ল্যাব কর্তৃপক্ষকে।

পাশাপাশি উপসর্গওয়ালা সাধারণ রোগীদের করোনা নমুনা পরীক্ষায় হচ্ছে বিলম্ব। অনেকের করায় যাচ্ছে না। এতে করে উপসর্গহীন ভিআইপি ও প্রভাভশালীদের নমুনা পরীক্ষা করতে গিয়ে যেমন বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ রোগীরা, তেমনি সাধারণ রোগীদের নমুনা পরীক্ষা করতে না পারায় করোনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও থেকে যাচ্ছে বেশি। বাস্তবেও সেটাই হচ্ছে-এমনটিই দাবি করেছেন ল্যাব সংশ্লিষ্টরা।

আরকে চিকিৎসক বলেন, কারণ উপসর্গওয়ালা পজিটিভ রোগীদের করোনা নমুনা দ্রুত পরীক্ষা করে তাদের আলাদা করা না পারায় তাদের মাধ্যমেই করোনা ছড়িয়ে পড়ছে সামাজিকভাবে। কিন্তু আমরা ভিআইপি বা প্রভাবশালীদের চাপে সাধারণ নমুনাগুলো সময়মতো পরীক্ষা করতে পারছি না।’

তিনি আরও বলেন, কেউ কেউ স্ব শরীরেই হাজির হয়ে যাচ্ছে ল্যাবে। এরপর বাধ্য হয়ে সেটি করাতে হচ্ছে। এতে করে সাধারণ উপসর্গওয়ালা রোগীদের নমুনা পরীক্ষায় হচ্ছে বিলম্ব। তাদের নমুনা ফেলে রাখতে হচ্ছে ফ্রিজে। আবার কখনো কখনো পাটাতে হচ্ছে ঢাকায়। ফলে সাধারণ রোগীদের নমুনা সঠিক সময়ে করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তার প্রভাবে করোনাও ছড়িয়ে পড়ছে।’

রাজশাহীর একটি ল্যাবের একজন কর্মকর্তা বলেন, এই মুহূর্তে আমাদের উচিত উপসর্গহীন রোগীদের নমুনা পরীক্ষা না করা। কারণ এখন উপসর্গওয়ালা রোগী ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু সেটি আমরা করতে পারছি না। প্রতিদিন অনেক উপসর্গহীন প্রভাবশালীদের নমুনা পরীক্ষা করতে হচ্ছে। কোনো কোনো অফিস থেকে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর তালিকা পাঠানো হচ্ছে পরীক্ষার জন্য। তারপর সেই তালিকা ধরে নমুনা সংগ্রহ করতে স্থানীয় ওয়ার্ডের স্বাস্থকর্মীদের কাছে পাঠানো হচ্ছে।’

তিনি বলেন, শুনেছি কোনো কোনো অফিসে গিয়েও স্বাস্থ্যকর্মীদের জনে জনে নমুনা নিয়ে আসতে হচ্ছে। সেই নমুনা পরীক্ষা করতে হচ্ছে আমাদের। এতে করে এখনো তেমন করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছে না। কারণ উপসর্গহীন নমুনায় বেশি পরীক্ষা করা হচ্ছে। যদি সবগুলোই উপসর্গওয়ালা নমুনা পরীক্ষা যায়, তাহলে করোনা পজিটিভের সংখ্যা অনেক বাড়বে প্রতিদিন।’

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ অধ্যক্ষ নওসাদ আলী বলেন, ‘আমরা নমুনা সংগ্রহের জন্য

জেলার সিভিল সার্জন ও মহানগরীর জন্য প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়েছি। তাদের মাধ্যমেই নমুনা নেওয়া হচ্ছে। তদবির আসলেও সেখানেই পাঠানো হচ্ছে।’

বার্তা প্রেরক                                                                                                              মোঃইলিয়াস হোসেন                                                                                                        রাজশাহী

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন