কক্সবাজারের চকরিয়ায় নুরুল আলম(৮০)নামক এক বৃদ্ধকে বিবস্ত্র করে লাঞ্ছিত করার প্রধান অভিযুক্ত এবং এ ঘটনায় করা মামলার এজাহারভুক্ত এক নম্বর আসামি মো. আনছার আলমকে (৪০) গ্রেফতার করেছে কক্সবাজার জেলা পুলিশ। ওই বৃদ্ধকে লাঞ্ছনা ও মারধরের ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে প্রশাসনের নজরে আসে।এই ঘটনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তাৎক্ষণিক অভিযানে নামে পুলিশ। এ ঘটনায় ভিকটিমের পক্ষ থেকে মামলা নেয়ার পর অভিযান চালায় পুলিশ।
অভিযানে পুলিশ তিনজন আসামিকে গ্রেফতার করলেও প্রধান অভিযুক্ত মো. আনছার আলম পালিয়ে যান। কিন্তু তাকে ধরতে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত থাকে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মহেশখালী থানার ষাইটমারা এলাকা থেকে তাকে আজ বেলা ১১টায় গ্রেফতার করে পুলিশ। গত ২৪ মে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছয়কুড়িটিক্কা পাড়ায় পাশবিক নির্যাতনের শিকার হন নুরুল আলম (৮০)। ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি আনছার আলমের নেতৃত্বে একদল বখাটে যুবক ঘটনাটি ঘটায়।
এ ঘটনার পর ৩১ মে বৃদ্ধ নুরুল আলমের ছেলে আশরাফ হোসাইন চকরিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।এতে ওই এলাকার মৃত মনির উল্লাহর ছেলে আনছার আলম, বদিউল আলম, শাহ আলম, শাহ আলমের স্ত্রী আরেজ খাতুন, বদিউল আলমের ছেলে মিজানুর রহমান, আবদুল জাব্বারের ছেলে রিয়াজ উদ্দিন, জয়নাল আবেদিন এবং মনজুর আলমের ছেলে মো. রুবেলকে অভিযুক্ত করা হয়। বৃদ্ধ নুরুল আলমের ছেলে আশরাফ হোসাইন জানান,গত ২৪ মে আমার বৃদ্ধ বাবা ঈদের বাজার করে ঢেমুশিয়া স্টেশন থেকে টমটমযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে যুবলীগ নেতা আনছার আলমের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী টমটম থেকে আমার বাবাকে নামিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে পরনের লুঙ্গি, গেঞ্জি ছিঁড়ে উলঙ্গ করে ফেলেন। পাশাপাশি তাকে মারধর ও গালিগালাজ করেন।
গ্রামের কয়েকজন যুবক এ দৃশ্য মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করে।এ সময় আমার বাবা বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করলেও কেউ রক্ষা করতে এগিয়ে আসেনি। খবর পেয়ে আমার ছোট ভাই সিএনজিচালক সালাহউদ্দিন স্থানীয় লোকজনসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাবাকে উদ্ধার করে। এরপর বাবাকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। ঘটনার প্রধান আসামী আনছার আলমকে গ্রেফতারের খবরে এলাকাবাসীর মাঝে আনন্দ বিরাজ করছে।সেই সাথে তারা অভিযুক্ত আরেজ খাতুনকে ও দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
বার্তা প্রেরক
মোঃজহির
পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি












