করোনাকালেও পাখিদের প্রতি পাবনার সমর ঘোষের অনন্য ভালবাসা

করোনাকালে মানুষের পাশাপাশি স্বস্তিতে নেই মানুষের ওপর নির্ভরশীল পশু-পাখিগুলো। মানুষের ফেলে দেওয়া উচ্ছিষ্ট খেয়েই যাদের জীবন সেই মানুষগুলোই যখন ঘরবন্দি তখন পরনির্ভরশীল এই প্রাণীগুলোর প্রাণ যে সঙ্কটে তা বলাই বাহুল্য। এমন পরিস্থিতিতে এক ব্যতিক্রম দৃশ্যের দেখা মিলছে পাবানার মধ্য শহরের ট্রাফিক মোড় সংলগ্ন শ্যামল দই ও মিষ্টান্ন ভান্ডারে। প্রতিদিন প্রায় হাজার দুই শালিক পাখির খাবার যোগান দিচ্ছেন মিষ্টি ব্যবসায়ী সমর ঘোষ।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় এক দশক ধরে শহুরে কর্মজীবী মানুষের পাশাপাশি এ সব শালিকের জন্য সকালে খাবারের আয়োজন করেন দোকানের মালিক সমর ঘোষ। করোনায় রেস্তোরা বন্ধ থাকলেও নিয়ম করে সমরের অপেক্ষাতেই চেয়ে থাকে এই পাখিগুলো। সন্তানের মত আগলে রাখা পাখিগুলোকে হতাশ করেননি সমর। তাই ঝুঁকি থাকলেও এই ঘরবন্দি দিনগুলোতে কেবলই শালিকের জন্য খাবারের ব্যবস্থা অব্যাহত রেখছেন তিনি।
সমর ঘোষ বলেন, ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে একটি দিনের জন্যও সমরের দোকানে বন্ধ হয়নি পাখিদের সকালের আহারের আয়োজন। প্রতিদিন প্রায় ১৫ থেকে ২০ কেজি চানাচুর খায় এসব শালিক। এই করোনাভাইরাসের দুঃসময়ে তাদের জন্যই রোজ ভোরে দোকান খুলে খাবার দিয়ে আবার বাড়ি ফিরে যান সময়  মত।
তিনি আরও বলেন, শালিকগুলো সন্তানের মতো। ওরা খাবারের জন্য তার পথ চেয়ে থাকে। করোনাভাইরাস কী, কেন বন্ধ সব কিছু-এসব তো ওদের জানা নেই। ওরা খাবারের জন্য এসে ফিরে যাবে এটা ভাবতেই কষ্ট হচ্ছিল। তাই ঝুঁকি থাকলেও ওদের মায়াতেই খাবার দিতে আসা। ওরা আমায় চেনে না। কিন্তু ওরা জানে, প্রতিদিন সকালে এখানে খাবার পাওয়া যাবে।
এমন ভালোবাসায় মুগ্ধ পরিবেশবিদরাও। নেচার এন্ড ওয়াইল্ড লাইফ কনজারভেশন কমিউনিটি, পাবনার সহ সভাপতি সুপ্রতাপ চাকী জানান, করোনায় হঠাৎ করেই খাদ্য সংকটে পথের পশু পাখিরা অসহায় হয়ে পড়েছে।
এমন ক্রান্তিকালে সমর ঘোষ পাখিদের প্রতি ভালবাসা দেখিয়ে প্রমাণ করেছেন, জীবন জীবনেরই জন্য।
বিপন্ন পৃথিবীতে প্রাণ ও প্রকৃতিকে ভালবেসে সমরকে উদাহরণ মেনে সবাই এগিয়ে আসলে ভালবাসায় পূর্ণ সত্যিকারের মানবিক পৃথিবী গড়ে তোলা কঠিন কিছু নয়।
বার্ত প্রেরক :
রাসেল মাহমুদ
পাবনা প্রতিনিধি.

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন