সাঁথিয়া উপজেলার ছেঁচানিয়া সোনাতলা গ্রামে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় গড়ে উঠেছে কয়েকটি প্রসেস মিল এন্ড ডাইং কারখানা।এই কারখানার বর্জ্যে পদার্থ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও পরিবেশ দূষণের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সোনাতলা গ্রামের প্রসেস মিল এন্ড ডাইং কারখানার নির্গত বিষাক্ত তরল বর্জ্য পাশের খালে ফেলা হচ্ছে। ছেঁচানিয়া গ্রামের ডাইং কারখানার
নির্গত বিষাক্ত তরল বর্জ্য ইছামতি নদিতে।এতে করে নদি ও খালের পানি কালো বর্ণ ধারণ করে পচে দূগন্ধ এবং বিভিন্ন রোগ ছড়াচ্ছে।
বৃষ্টিতে খালের পানি উপচে ফসলি জমিতে গিয়ে পড়ছে । এত করে জমির উর্বর ক্ষমতা হারাচ্ছে। কারখানার বিষাক্ত তরল বর্জ্যরে পচা দুর্গন্ধে গ্রামে বসবাসকারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ পথে পথচারীদের নাকে কাপর চেঁপে ধরে চলাচল করতে হয়। ঘনবসতি এলাকায় গড়ে উঠা সুতা রঙ করা প্রসেস মিল গুলো নাক-কান বন্ধ করে চালিয়ে যাচ্ছে ব্যবসা।সুতার মিলের বিষাক্ত রাসায়নিক রঙের কাজ করতে তাদের নেই নিদৃষ্ঠ সেফটি পোষাক। সাধারন পোষাক পরেই জিবনের ঝুকি
নিয়েই দির্ঘদিন যাবত কাজ করে চলছে শ্রমিকরা।
ভুক্তভোগীরা জানান, নদীর পানি বিভিন্ন গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ গোসল, রান্না, গবাদি পশুকে গোসল ও খাওয়ানোসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়। গোসল করলে শরীরে বিভিন্ন প্রকার পেটের পীড়া, চর্মরোগ দেখা দিচ্ছে এবং পানিতে দুর্গন্ধ ও ব্যবহার অনুপযোগী। নদীর পানি দূষিত হওয়ার কারণে মাছসহ সকল জলজ প্রাণী মরে যাচ্ছে। সন্ধ্যার পর থেকে সুতা রঙ করা মিলের জেনারেটরের উচ্চ শব্দে ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার সমস্যা হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মিল মালিকরা মিল থেকে নির্গত বর্জ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা না করে গ্রামের প্রধান খালে বা নদিতে ফেলছে । মিল থেকে সুতা রঙ করার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ পানির সঙ্গে মিশে প্রতিনিয়ত বিষাক্ত বর্জ্য আকারে নির্গত হচ্ছে। নিষ্কাশন ও পরিশোধনের কোনো ব্যবস্থা না করে এগুলো এলাকার প্রধান খালে বা নদিতে ফেলা হচ্ছে। এগুলো ছেচানিয়া সোনাতলা ফেচুয়ান তলট করমজা বোয়াইলমারি সহ গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় মারাত্মক দূষণের শিকার হয়ে দুর্বিষহ জীবন কাটাতে হচ্ছে শতাধিক পরিবারকে। এদিকে অতিষ্ঠ গ্রামবাসী কয়েকজন নাম না প্রকাশের সর্তে বলেন আমরা কাছে থাকলেও ওই দিকে জাইনা,দুরঘন্ধে দম বন্ধ হয়ে যায়।
রেজাউলের সুতা রঙ করা প্রসেস মিলটা তুলনামূলক বেশী পরিমাণের দুরগন্ধ। রেজাউল কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই এলাকাবাসীর কথা না শুনেই জোরপূর্বক সুতা রঙ করা প্রসেস মিলটা চালাচ্ছে।পাসের জমিজমার ফসল আর ফলে না,দুরগন্ধে আর বিষাক্ত রাসায়নিক রঙের বর্জ্যে পদাথের কারনে । সরেজমিনে সোনাতলায় রেজাউলের কারখানায় দেখা যায় ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্যান্ট বা বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) স্থাপন করেনি। তারা পরিবেশ অধিদফতর ও স্থানীয় প্রশাসনের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে বছরের পর বছর সুতা প্রসেস ও রঙের কাজ অব্যাহত রেখেছে। সুতা রঙের কাজে এসিড, কস্টিক সোডা, ব্লিচিং পাউডারসহ নানা রকম রাসায়নিক দ্রব্য ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। সুতা
রঙের কারখানার বিষাক্ত তরল বর্জ্যরে তীব্র পচা গন্ধ বাতাসে মিশে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে।
সোনাতলা গ্রাম সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সুতা প্রসেস অ্যান্ড ডাইং কারখানার কেমিক্যাল বর্জ্যরে ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট বা বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) নেই। নেই বর্জ্য নিষ্কাশনের জন্য কোনো সংরক্ষিত হাউজ। প্রসেস মিলের বয়লার ও ডাইং কারখানা থেকে পাইপের সাহায্যে দূষিত তরল বর্জ্য নির্গত হয়ে খালে জমা হচ্ছে। খালের বর্জ্য অপর পাইপের সাহায্যে ভূগর্ভে চলে যাচ্ছে। এতে ভূগর্ভ স্তরের পানি দূষিত হয়ে পড়ছে। অনেকেই নিরুপায় হয়ে এই বিষাক্ত পানি পান করে চর্মরোগ, পেটেরপীড়াসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আবার বৃষ্টির সময় খাল উপচে বিষাক্ত পানি আশপাশের ফসলের জমিতে
ছড়িয়ে পড়ছে। সোনাতলা রেজাউলের কারখানার পাশের খালে রাসায়নিক মিশ্রিত তরল বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। ওই এলাকার বেশ কিছু অগভীর নলকূপে দুর্গন্ধযুক্ত পানি উঠছে। রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহারজনিত ধোঁয়ায় গাছপালার ক্ষতি হচ্ছে।
সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’র আবাসিক মেডিকেল অফিসার(আরএমও) ডা: আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,এসব কারখানাতো পরিবেশ দূষণ করছেই। পানি দুষিত করছে, দুষিত পানি ব্যবহার যেমন খেলে বা নাকের ভেতরে দিয়ে যদি মানবদেহে প্রবেশ করে তাহলে ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে। আর সাধারন গোসল করলে স্কিনের ব্যপক ক্ষতি সাধানর
খোসপচড়া হতে পারে। এমনকি স্কিনের ক্যান্সার হইতে পারে।
এ ব্যাপারে সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম জামাল আহমেদ বলেন, পরিবেশ দূষণ কোনভাবেই করতে দেওয়া যাবে না।তাঁত শ্রমিকদের কথা মাথায় রেখে বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বার্তা প্রেরক :
হারুনার রশিদ.হারুন
বেড়া-সাঁথিয়া (পাবনা) প্রতিনিধি












