করোনা দুর্যোগে চলছে বিশেষ পরিস্থিতি। এসময় রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের দুই কর্মকর্তা কর্মস্থলে অবস্থান করছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।
এরা দুজনেই নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন। বাড়িতে অবস্থান করার বিষয়টি তারা স্বীকারও করেছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের এ দুই কর্মকর্তা হলেন- উপপরিচালক ডা. হাবিবুল আহসান তালুকদার ও সহকারী পরিচালক ডা. মঞ্জুরা রহমান।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে হাবিবুল আহসান তালুকদার স্বীকার করেন তিনি গ্রামের বাড়ি জয়পুরহাটে অবস্থান করছেন। একই ধরনের কথা বলেন মঞ্জুরা রহমানও। তিনি বর্তমানে পাবনায় নিজ বাড়িতে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরেই হাবিবুল আহসান তালুকদার অফিস থেকে বেরিয়ে গেছেন। সরকারি গাড়ি (ঢাকা মেট্রো-থ ১৩-০১৬৭) নিয়ে চলে গেছেন জয়পুরহাট। আগামী রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে তার অফিসে ফেরার কথা।
অন্যদিকে ডা. মঞ্জুরা রহমান গত ১৩ এপ্রিলের পর অফিসেই আসেননি। রাজশাহীতে অফিস হলেও এ শহরে তিনি বাসাও ভাড়া নেননি। পাবনা থেকেই নিজের গাড়িতে অফিসে যাতায়াত করেন।
সূত্র জানায়, সপ্তাহে দুই দিনের বেশি অফিসে উপস্থিত থাকেন না এই কর্মকর্তা। তার অনুপস্থিতির কারণে ওষুধসহ স্বাস্থ্যসেবায় ব্যবহৃত সামগ্রী যথাসময়ে বিতরণে সমস্যা হয়। বার বার সতর্ক করার পরও কাউকে তোয়াক্কা করেন না ডা. মঞ্জুরা।
অফিসে না আসার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কয়েকদিন ধরে আমার জ্বর। তাই অফিসে যাচ্ছি না। অফিসে আসব না, এটা মৌখিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে এসেছি। তবে আগামী রোববার (১৯ এপ্রিল) অফিস করব।
সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে বাসায় যাওয়ার বিষয়ে ডা. মঞ্জুরা বলেন, রাজশাহীতে তো আমার বাড়ি নেই। অফিসের গেস্টহাউজে থাকি। এখন রান্না-বান্নার সমস্যা। তাই বাসায় চলে এসেছি।
ডা. হাবিবুল আহসান তালুকদার জানান, জয়পুরহাটে তিনি বাসায় আছেন। তবে অফিসের কাজেই তিনি জয়পুরহাট গেছেন বলে দাবি করেন।
তিনি বলেন, এখানে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। আমাদের কাজ করতে হচ্ছে। হাসপাতাল-ক্লিনিক পরিদর্শন করতে হচ্ছে। সে জন্য অফিসকে জানিয়েই এসেছি।
এ দুই কর্মকর্তার বিষয়ে জানতে চাইলে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. গোপেন্দ্রনাথ আচার্য্য বলেন, তারা নিজ নিজ এলাকায় আছেন। তবে সমস্যা নেই।
এরপরই তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।












