মানিকগঞ্জে পাটের ন্যায্য দাম নিয়ে শষ্কায় চাষীরা

পাট চাষ ও পাট শিল্পের সঙ্গে বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি জড়িত। স্বাধীনতার পরও দেড় যুগ ধরে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে পাটের অবদানই ছিল মুখ্য। পাট উৎপাদনকারী পৃথিবীর অন্য দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের পাটের মান সবচেয়ে ভালো। একদিকে সোনালি আঁশ, অন্যদিকে রুপালি কাঠি-দুয়ে মিলে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে পাট। মানিকগঞ্জের ৭ টি উপজেলার ৬৫ ইউনিয়নে এবার পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে ফলন ভালো হলেও পাটের নায্য দাম নিয়ে শঙ্কায় তারা।

পাটের বাম্পার ফলন হওয়া উপজেলার দুটি ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাট কাটা, জাগ দেওয়া, আশ ছাড়ানো, রোদে শুকানোতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। পাটের নায্য দাম না পাওয়ায় কৃষকরা পাট উৎপাদনের আগ্রহ হারাচ্ছেন বলেও জানা যায়। দৌলতপুর উপজেলার বড় নিলুয়া গ্রামের কৃষক তাইজুদ্দিন এবার  দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন।এ বছর পাটের ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। তবে পাটের নায্য দাম পাবো কি-না তা নিয়ে শঙ্কায় আছি। এখন বাজারে মণপ্রতি পাটের দাম দাম ২ হাজার টাকা ২২ শত টাকা ।

ঘিওর উপজেলার পয়লা ইউনিয়নের বরুরিয়া গ্রামের কৃষক আল আমিন  বলেন – নিড়ানি খরচ আছে, শ্রমিক খরচ আছে। এরপর পাট কাটার খরচ, জাগ দেওয়ার খরচ, আশ ছাড়ানোর খরচ এসব বাদ দিলে লাভ তেমন হয়না বললেই চলে। ছোট বরুরিয়া গ্রামের আরেক কৃষক আঃ জলিল মিয়া। তিনি এবার ২ বিঘা  জমিতে পাট চাষ করেছেন। পাটের নায্য দাম নিয়ে শঙ্কায় আছেন জানিয়ে বলেন, ঠিকমতো তো দাম পাই না। অনেক পরিশ্রম করতে হয়। বেপারিরা কয় পাটের দম কম। চাহিদা কম। আমরা কৃষকরা পড়ছি বিপদে।এই যে দেখেন কত পরিশ্রম করছি। লাভ সীমিত। পাটের সঠিক দাম পাই না। বীজ কেনার খরচ, হালচাষের খরচ, জাগ দেওয়ার খরচ, কামলা খরচ, সার খরচ, রোদে শুকানো আরো কতকিছু। এত পরিশ্রমের পরও লাভ আর কত। লাভ নাই।

বার্তা প্রেরক
আল-মামুন 
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন