মশা নিধনে আগামী মাস থেকে ফের চিরুনি অভিযান শুরু করবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। প্রথম পর্যায়ে গত ৬ জুন থেকে শুরু হওয়া ১০দিনের চিরুনি অভিযানে ডিএনসিসির ৫৪টি ওয়ার্ডে মোট ১ লাখ ৩৪ হাজার ১৩৫টি বাড়ি, স্থাপনা, নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শন করে মোট ১ হাজার ৬০১টিতে এডিস মশার লার্ভা এবং ৮৯ হাজার ৬২৬টি বাড়ি-স্থাপনায় এডিস মশা বংশবিস্তার উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়। অর্থাৎ অভিযানে দেখা গেছে ডিএনসিসির শতকরা প্রায় ৬৭ ভাগ স্থাপনায় এডিসের বংশবিস্তারের উপযোগী পরিবেশ বিরাজমান এবং শতকরা প্রায় ১.২ ভাগ স্থাপনায় এডিসের লার্ভা পাওয়া যায়।
সেসময় ডিএনসিসির ১০ দিনের চিরুনি অভিযানে ১৬০১টি স্থাপনায় এডিসের লার্ভা পাওয়ায় ২৪ লাখ টাকার বেশি জরিমানা করা হয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের তথ্য কর্মকর্তা আতিক রহমান।
এবারের চিরুনি অভিযানের অন্যতম সংযোজন ছিল অ্যাপের মাধ্যমে ডাটা সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা শুরু করা। চিরুনি অভিযান চলাকালে যেসব বাড়ি-স্থাপনায় এডিস মশার লার্ভা কিংবা এডিস মশা বংশবিস্তার উপযোগী পরিবেশ পাওয়া গেছে, তার ছবি, ঠিকানা, মোবাইল নম্বরসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে একটি বিশেষ অ্যাপে সংরক্ষণ করা হয়েছে ফলে চিরুনি অভিযান শেষে ডিএনসিসির কোন কোন এলাকায় এডিস মশা বংশবিস্তার করে তার একটি ডাটাবেস তৈরি হবে।
ডাটাবেস অনুযায়ী পরবর্তীতে ধাপে তাদের মনিটর করা সহজ হবে।
লার্ভা বেশি পাওয়া স্থানগুলোর মধ্যে ছিল, নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত টায়ার, বালতি, ফুলের টব, বোতল, পানির মিটার, গ্যারেজ, পানির হাউজ, মাটির পাত্র, ভাঙ্গা মগ, বাড়ির মেঝে, পানির ট্যাংক, প্লাস্টিকের পাত্র, ছাদের ড্রেন, দইয়ের পাত্র, পরিত্যক্ত কমোড, ডাবের খোসা, ভাঙ্গা পাতিল, বেইজমেন্ট, দুই বাড়ির মধ্যবর্তী স্থানগুলোতে।
এ বিষয়ে ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, আগামী মাসে থেকে আমরা ২য় পর্যায়ে চিরুনি অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা নিয়েছি। আমি আশা করি তখনও সবাইকেই আমাদের পাশে পাবো। নগরবাসীর অনেকের মধ্যে নির্মাণাধীন ভবন, বাড়ি ও স্থাপনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে আরও সচেতনতা প্রয়োজন।












